বাড্ডায় ক্রেতার চাপ থাকলেও নেই ইফতারি সামগ্রীর পসরা

রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি সরণির দুই পাশেই বিভিন্ন করপোরেট অফিস। রয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। এসব অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কর্মস্থলে ইফতার করেন। তাদের ভরসা ফুটপাতের ইফতারির দোকান। তবে এ এলাকায় তেমন ইফতারির পসরা চোখে পড়েনি। অল্পসংখ্যক যেসব দোকান রয়েছে, সেখানে নেই ক্রেতাদের চাহিদামতো ইফতারির সামগ্রী। সরেজমিন দেখা যায়, মধ্যবাড্ডায় ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের পাশের গলির রাস্তায় কিছু ইফতার সামগ্রীর দোকান। সেখানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। তবে সব দোকানেই ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজুর মতো সাধারণ আইটেম। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার মতো বিশেষ কোনো আয়োজন নেই দোকানগুলোতে। ছবি: জাগো নিউজ মধ্যবাড্ডায় একটি বায়িং হাউজে কর্মরত দুই সহকর্মী এসেছেন ইবনে সিনা গলিতে ইফতারসামগ্রী কিনতে। তারা যে ধরনের ইফতারসামগ্রী খুঁজছেন, তা কোথাও পাচ্ছেন না। ওলিউর রহমান নামের একজন জাগো নিউজকে বলেন, ‌সব দোকানেই শুধু মুড়ি-ছোলা আর পেঁয়াজু। এর বাইরে কিছু দেখছি না। প্রথম রোজা, অফিসের সহকর্মীরা মিলে স্পেশাল কিছু খাবো বলে প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু এ এলাকায় তেমন কিছু তো পাচ্ছি না। সেখানে ইফতার বাজার নামে রমজা

বাড্ডায় ক্রেতার চাপ থাকলেও নেই ইফতারি সামগ্রীর পসরা

রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি সরণির দুই পাশেই বিভিন্ন করপোরেট অফিস। রয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। এসব অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কর্মস্থলে ইফতার করেন। তাদের ভরসা ফুটপাতের ইফতারির দোকান। তবে এ এলাকায় তেমন ইফতারির পসরা চোখে পড়েনি। অল্পসংখ্যক যেসব দোকান রয়েছে, সেখানে নেই ক্রেতাদের চাহিদামতো ইফতারির সামগ্রী।

সরেজমিন দেখা যায়, মধ্যবাড্ডায় ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের পাশের গলির রাস্তায় কিছু ইফতার সামগ্রীর দোকান। সেখানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। তবে সব দোকানেই ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজুর মতো সাধারণ আইটেম। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার মতো বিশেষ কোনো আয়োজন নেই দোকানগুলোতে।

jagonews24.comছবি: জাগো নিউজ

মধ্যবাড্ডায় একটি বায়িং হাউজে কর্মরত দুই সহকর্মী এসেছেন ইবনে সিনা গলিতে ইফতারসামগ্রী কিনতে। তারা যে ধরনের ইফতারসামগ্রী খুঁজছেন, তা কোথাও পাচ্ছেন না। ওলিউর রহমান নামের একজন জাগো নিউজকে বলেন, ‌সব দোকানেই শুধু মুড়ি-ছোলা আর পেঁয়াজু। এর বাইরে কিছু দেখছি না। প্রথম রোজা, অফিসের সহকর্মীরা মিলে স্পেশাল কিছু খাবো বলে প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু এ এলাকায় তেমন কিছু তো পাচ্ছি না।

সেখানে ইফতার বাজার নামে রমজান উপলক্ষে একটি অস্থায়ী দোকান দিয়েছেন রাব্বি ও সাব্বির। তারা দুই ভাই। রাব্বি বলেন, আমরা দুজনই স্টুডেন্ট। রমজানে কিছু করা দরকার ভেবে দোকানটি দিয়েছি। মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু ও তিন রকমের চপ করেছি। আগামীকাল থেকে চিকেনের আইটেমগুলোও রাখবো। প্রথমদিনে যা বুঝতে পারছি, তাতে এখানে চিকেন ও হালিমের মতো আইটেম রাখলে ভালো বিক্রি হবে।

গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডেও তেমন বাহারি ইফতার সামগ্রী দেখা যায়নি। উত্তরবাড্ডা বাজার এবং মধ্যবাড্ডা বাজারের গলিতে কিছু দোকান থাকলেও বিশেষ কোনো আইটেম চোখে পড়েনি। মধ্যবাড্ডা বাজার গলিতে ভালো জিলাপির খোঁজে এসেছেন আকরাম হোসেন ও তার ১০ বছরের ছেলে। আকরাম জানান, গুড়ের জিলাপি বা স্পেশাল জিলাপি খাবে ছেলেটা। সেজন্য এলাম। কিন্তু এদিকে ভালো জিলাপি পাচ্ছি না।

jagonews24.comছবি: জাগো নিউজ

গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে ইফতার কিনতে এসেছেন এক দম্পতি। তারা দুজনই গুলশান এলাকায় একটি অফিসে চাকরি করেন। এবারই প্রথম রোজায় থাকছেন বাড্ডা এলাকায়। তাদের ধারণা ছিল গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডজুড়ে ইফতারির পসরা থাকবে। কিন্তু গুলশান থেকে এদিকে এসে আর পছন্দের ইফতারসামগ্রী পাচ্ছেন না।

গোদারাঘাট এলাকায় কয়েকটি ইফতারি সামগ্রীর দোকান চোখে পড়ে। সেখানেও সচরাচর কয়েকটি আইটেম ছাড়া কিছু নেই। বিকেল ৫টা বাজতেই ছোলা, পেঁয়াজু এবং ডিমের চপ শেষ হয়ে গেছে।

দোকানি শাহ আলম বলেন, ‘প্রথম দিন তো; বেচা-বিক্রির ভাব বুঝতে অল্প পরিমাণ আইটেম বানাইছিলাম। ভালো বিক্রি হয়েছে। আগামীকাল থেকে আরও বেশি আইটেম পাওয়া যাবে।’

এদিকে, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, চপের পাশাপাশি ফলের দোকানেও ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে আনারস ও বরই কিনছেন অনেকে। এম এফ টাওয়ারে অফিস করেন এমন একজন বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, অফিসে ইফতার করবেন তারা। চিড়া-দই খাবেন। পাশাপাশি সব ফলের আইটেম কিনতে এসেছেন। পেঁয়ারা, বরই, আনারস এবং স্ট্রবেরি কিনেছেন তিনি। তবে স্ট্রবেরির দাম অনেক বেশি।

এএএইচ/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow