বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের বিক্ষোভ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও গ্রাফিতি ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে টানা কয়েকদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির এবং চাকসু সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের জেরে রাতে চবি ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) একই ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’ লিখে গ্রাফিতি অঙ্কন করে শাখা ছাত্রদল।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগ থানায় ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু)। একই দিনে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদ্যোগে সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে গোলাম আযমের ব্যঙ্গাত্মক ছবি টাঙানোকে ঘিরেও ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে মিছিল, পোস্টার, ব্যানার ও জাতীয় দিবসে ফুল অর্পণের মতো কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চবি সাংবাদিকরা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।
পরিস্থিতি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘ছাত্রশিবির আমাদের ওপর হামলা করে, আমরা প্রতিরোধ করি। শিক্ষাঙ্গণে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। আমরা বিক্ষোভের মাধ্যমে বাস্তবতা তুলে ধরছি, তবে সংঘাত চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল না করতে এবং ষড়যন্ত্র থেকে দূরে থাকতে আলোচনা হয়েছে।’
অন্যদিকে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘ছাত্রদল বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড করছে। তারা গ্রাফিতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়। তবে ছাত্রশিবির এতে জড়াবে না।’
তিনি দাবি করেন, ‘পরবর্তীতে তারা আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। আমরা প্রতিরোধ করেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো অস্থিতিশীলতা চায় না।’
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস স্থিতিশীল রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়মিত আলোচনা চলছে।’
এদিকে গতকাল চবিতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা একটা স্থিতিশীল, সংবেদনশীল ও সহনশীল রাজনীতির পথে এগোচ্ছি। এই পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি এসব কাজ করে, যাদের কোনো দল নেই। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই।’