বিদেশি ফলের দাম বাড়ায় দেশি ফলে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
আমদানি করা ফলের চড়া দামে খুলনায় বাড়ছে দেশি ফলের চাহিদা। আপেল, মালটা, আঙুর, আনার ও কমলার মতো বিদেশি ফলের তুলনায় কম দামে পেঁপে, কলা, তরমুজ, দেশি মালটা, ড্রাগন, আনারস ও আখসহ বিভিন্ন দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পরিবারের চাহিদা মেটাতে অনেক ক্রেতাই এখন বিদেশি ফলের বদলে দেশি ফলে ঝুঁকছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) খুলনা নগরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ফলের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব ফলের বিক্রি আগের তুলনায় কমেছে। বিপরীতে তুলনামূলক কম দামের দেশি ফলের বিক্রি বেড়েছে। নগরের বাজারগুলোতে বর্তমানে আপেল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, মালটা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, লাল আঙুর ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি আঙুর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, আনার ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কমলা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। অন্যদিকে দেশি কলা বিক্রি হচ্ছে ডজন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা পেঁপে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ছোট তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি মালটা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ড্রাগন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে ডাবের দাম ১৩০ থেকে ২৫০ টাকা পিস, বড় আখ ৬০ থেকে ৭০ টাকা লাঠি, আর আনারস ৭০ টাকা পিস ও জোড়া ১২০ থেকে ১
আমদানি করা ফলের চড়া দামে খুলনায় বাড়ছে দেশি ফলের চাহিদা। আপেল, মালটা, আঙুর, আনার ও কমলার মতো বিদেশি ফলের তুলনায় কম দামে পেঁপে, কলা, তরমুজ, দেশি মালটা, ড্রাগন, আনারস ও আখসহ বিভিন্ন দেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পরিবারের চাহিদা মেটাতে অনেক ক্রেতাই এখন বিদেশি ফলের বদলে দেশি ফলে ঝুঁকছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) খুলনা নগরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ফলের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব ফলের বিক্রি আগের তুলনায় কমেছে। বিপরীতে তুলনামূলক কম দামের দেশি ফলের বিক্রি বেড়েছে।
নগরের বাজারগুলোতে বর্তমানে আপেল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, মালটা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, লাল আঙুর ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি আঙুর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, আনার ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কমলা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে।
অন্যদিকে দেশি কলা বিক্রি হচ্ছে ডজন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা পেঁপে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ছোট তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি মালটা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ড্রাগন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে ডাবের দাম ১৩০ থেকে ২৫০ টাকা পিস, বড় আখ ৬০ থেকে ৭০ টাকা লাঠি, আর আনারস ৭০ টাকা পিস ও জোড়া ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুলনা ময়লাপোতা মোড়ের ফল বিক্রেতা আফজাল শেখ বলেন, আমদানি করা ফলের দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় ক্রেতাও কম। বিভিন্ন দেশ থেকে ফল বাংলাদেশে আসতে সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগে। এ সময় কিছু ফল শুকিয়ে ওজন কমে যায়, আবার পরিবহনের সময় কিছু ফল নষ্টও হয়। এসব কারণে আমদানি ফলের দাম বাড়ে এবং চাহিদাও কমে যায়। দাম কমলে বিক্রি বাড়বে বলে জানান তিনি।
নগরের দোলখোলা মোড়ের দেশি ফল বিক্রেতা ইউনুস গাজী বলেন, তরমুজের মৌসুম না থাকলেও ছোট আকারের কিছু তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর দামও তুলনামূলক কম। পাকা পেঁপে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে পেঁপের দাম ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। পাকা কলার সরবরাহও বেড়েছে। ৪০ থেকে ৫০ টাকায় ডজন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দিনের বেলায় দেশি ফলের বিক্রি ভালো হচ্ছে।
তবে দেশি ফলের মধ্যে ডাবের দাম তুলনামূলক বেশি। নগরের সাত রাস্তা মোড়ের ডাব বিক্রেতা হালিম গাজী বলেন, তার দোকানে ডাবের সর্বনিম্ন দাম ১৩০ টাকা। আকারভেদে বড় ডাব ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। খুলনায় বেশিরভাগ ডাব বাগেরহাট থেকে আসে বলেও জানান তিনি।
ক্রেতাদেরও অনেকে দাম বিবেচনায় দেশি ফল কিনছেন। ফল ক্রেতা পরশ মল্লিক বলেন, বিদেশি ফল কিনতে গেলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। একই টাকায় দেশি ফল তিন-চার ধরনের কেনা যায়। তিনি ১০০ টাকা দিয়ে এক কেজি পেঁপে কিনেছেন। পরিবারের সবার জন্য পেঁপে উপকারী হওয়ায় কম দামের এ ফলই কিনেছেন বলে জানান তিনি।
আরেক ক্রেতা জাহানারা খাতুন বলেন, অসুস্থ এক সহকর্মীর জন্য বেদানা ও আপেল কিনছেন। রোগীর জন্য এসব ফল উপকারী হলেও দাম অনেক বেশি। দাম তুলনামূলক কমলে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা হতো।
ডাব কিনতে আসা জীবন বলেন, প্রায় সব জায়গাতেই ডাবের দাম বেশি। ১৫০ টাকার নিচে ডাব পাওয়া কঠিন। তবে রোগী ও শারীরিক দুর্বলতায় ভোগা মানুষের জন্য ডাবের প্রয়োজন হওয়ায় বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে। তার মতে, দেশি ফলের দাম আরও কমানো দরকার।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভাষ্য, আমদানি করা ফলের বাড়তি দামের কারণে দেশি ফলের বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে ডাবসহ কিছু দেশি ফলের সরবরাহ কম থাকায় সেগুলোর দামও তুলনামূলক বেশি।
আরিফুর রহমান/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?