বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের জন্য ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়

বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে বাসায় ডেকে নেওয়া হয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ইউসুফকে। দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুতের আলো। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। রাতভর আটকে রেখে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। এমন অভিযোগে বরিশাল নগরীর রূপাতলী সোহরাব হাউজিংয়ে আহমেদ মোল্লা সড়কে ব্যাংকার্স গলির ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বাসা থেকে আটক করা হয়েছে হানি ট্র্যাপ চক্রের নারী সদস্য সুমাইয়া আক্তারকে। এসময় ওই বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় কিছু পরিমাণ গাঁজা এবং ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। আটক সুমাইয়া নিজেই মাদক সেবন করতেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। পরে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে আটক করা হয় তার স্বামী, চক্রের মূল হোতা কাওরান ইসলাম আকাশকে। তারা গত ছয়দিন আগে রূপাতলী আহমেদ মোল্লা সড়কে ব্যাংক কর্মকর্তার মালিকানাধীন ‘বুশরা মঞ্জিল’ নামক বাড়ির ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নানাভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছিল। ভুক্তভোগী বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা বাসিন্দা ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. ইউসুফ বলেন, নগরীর কাশিপুর এলাকায় সুমাইয়া আক্তার নামের ওই নারীর সঙ্গে দে

বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের জন্য ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়
বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে বাসায় ডেকে নেওয়া হয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ইউসুফকে। দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুতের আলো। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। রাতভর আটকে রেখে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। এমন অভিযোগে বরিশাল নগরীর রূপাতলী সোহরাব হাউজিংয়ে আহমেদ মোল্লা সড়কে ব্যাংকার্স গলির ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বাসা থেকে আটক করা হয়েছে হানি ট্র্যাপ চক্রের নারী সদস্য সুমাইয়া আক্তারকে। এসময় ওই বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় কিছু পরিমাণ গাঁজা এবং ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। আটক সুমাইয়া নিজেই মাদক সেবন করতেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। পরে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে আটক করা হয় তার স্বামী, চক্রের মূল হোতা কাওরান ইসলাম আকাশকে। তারা গত ছয়দিন আগে রূপাতলী আহমেদ মোল্লা সড়কে ব্যাংক কর্মকর্তার মালিকানাধীন ‘বুশরা মঞ্জিল’ নামক বাড়ির ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নানাভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছিল। ভুক্তভোগী বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা বাসিন্দা ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. ইউসুফ বলেন, নগরীর কাশিপুর এলাকায় সুমাইয়া আক্তার নামের ওই নারীর সঙ্গে দেখা হয় তার। তখন রূপাতলীর বাসায় বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে আরেকটি মেয়ে ছিল। তিনি বলেন, গত ৫ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সহকারী মোতাহারকে নিয়ে রূপাতলী আহমেদ মোল্লা সড়কের ওই বাসায় বিদ্যুতের লাইন মেরামত করার জন্য যান তারা। সেখানে মোতাহারকে নিচে মোটরসাইকেলের কাছে দাঁড় করিয়ে রেখে সেই নারীর সাথে তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে যান তিনি। এসময় ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই যুবক আমাকে দেখে আগেভাগে ওপরে উঠে যায়। তখনই বিষয়টি সন্দেহ হয়। ইউসুফ বলেন, ঘরের মধ্যে ঢোকার পর পরই দরজা বন্ধ করে দিয়ে লাইটগুলো অফ করে দেয় চক্রের সদস্যরা। একপর্যায় তারা আমাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে এবং মুক্তিপণ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করে। পরে তাদের সাথে যুক্ত হয় চক্রের হোতা সুমাইয়ার স্বামী কাওরান ইসলাম আকাশ। তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর চক্রের একজন সদস্য আমার মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়। তখন নিচে অপেক্ষমাণ আমার সহকারী এগিয়ে আসে। তখন তাকেও রুমের মধ্যে নিয়ে আটকে নির্যাতন শুরু করে। টানা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা নির্যাতনের পর আমরা বিকাশ এবং নগদের মাধ্যমে তাদের ২৩ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পাই। আটক অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইসতিয়াক মামুন বলেন, ইউসুফ নামের ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। এসময় তাদের ঘরে তল্লাশি করে কিছু গাঁজা এবং ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অপরটি হানিট্রাপিংয়ের ঘটনা। মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য সুমাইয়া আক্তারকে বুধবার রাতে তাদের বাসা থেকে এবং চক্রের মূল হোতা কাওরান ইসলাম আকাশকে বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ভিকটিমদের কাছ থেকে রেখে দেওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তিপণ বাবদ যে টাকা নেয়া হয়েছে সেটাও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আটক অন্য মেয়ের চক্রের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow