বিশ্বকাপে স্মরণীয় অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এবার ৪৮ দলের এই বৈশ্বিক আসরের আয়োজন করছে তারা। এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১২তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। আর্জেন্টাইন কোচ মউরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে নতুন স্বপ্নে এগোচ্ছে ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ খ্যাত দলটি। কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো পর্যন্ত যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র এবার ঘরের মাঠে আরও বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। পোচেত্তিনোর হাতে নতুন যুগ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র দলের দায়িত্ব নেন আর্জেন্টাইন কোচ মউরিসিও পোচেত্তিনো। গ্রেগ বারহাল্টারের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চেলসি, পিএসজির সাবেক এই কোচকে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেলসি, পিএসজি, টটেনহ্যাম, সাউদাম্পটন ও এস্পানিওলের মতো ক্লাবে কোচিং করানো পোচেত্তিনো বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এক নাম। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন আশা করছে, তার অধীনেই বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে দলটি। এক সাক্ষাৎকারে পোচেত্তিনো বলেছিলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ডি’-তে খেলবে যুক্
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এবার ৪৮ দলের এই বৈশ্বিক আসরের আয়োজন করছে তারা। এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১২তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ।
আর্জেন্টাইন কোচ মউরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে নতুন স্বপ্নে এগোচ্ছে ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ খ্যাত দলটি। কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো পর্যন্ত যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র এবার ঘরের মাঠে আরও বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।
পোচেত্তিনোর হাতে নতুন যুগ
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র দলের দায়িত্ব নেন আর্জেন্টাইন কোচ মউরিসিও পোচেত্তিনো। গ্রেগ বারহাল্টারের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চেলসি, পিএসজির সাবেক এই কোচকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চেলসি, পিএসজি, টটেনহ্যাম, সাউদাম্পটন ও এস্পানিওলের মতো ক্লাবে কোচিং করানো পোচেত্তিনো বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এক নাম। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন আশা করছে, তার অধীনেই বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে দলটি।
এক সাক্ষাৎকারে পোচেত্তিনো বলেছিলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্র
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ডি’-তে খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপ পর্বের সূচি:
* ১২ জুন: যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে- লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম
* ১৯ জুন: যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়া- সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়াম
* ২৫ জুন: তুরস্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র- লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম
দলটির বড় ভরসা কারা?
বর্তমান স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। এসি মিলানের এই আক্রমণভাগের ফুটবলারকে ঘিরেই সাজানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ।
মিডফিল্ডে আছেন জুভেন্টাসের ওয়েস্টন ম্যাককেনি। এছাড়া বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখে পর্যাপ্ত সুযোগ না পেলেও জিও রেইনাকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী পোচেত্তিনো। তার সৃজনশীলতা দলকে বাড়তি শক্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গোলবারের নিচে ম্যাট টার্নার ও ম্যাট ফ্রিজের মধ্যে লড়াই চলছে এক নম্বর গোলকিপারের জায়গা নিয়ে।
আয়োজক হিসেবেই নিশ্চিত অংশগ্রহণ
সহ-আয়োজক হওয়ায় বাছাইপর্ব খেলতে হয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে। কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত হয়েছে তাদের। এর আগে ১৯৯৪ সালেও এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই আসরে তারা শেষ ষোলোতে উঠেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ ইতিহাস
* কনফেডারেশন: কনকাকাফ
* প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৩০
* সেরা সাফল্য: সেমিফাইনাল (১৯৩০)
* সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (শেষ ষোলো)
* মোট অংশগ্রহণ: ১২ বার
* আয়োজক: ১৯৯৪ ও ২০২৬
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক রেকর্ড:
* ম্যাচ: ৩৭
* জয়: ৯
* ড্র: ৮
* হার: ২০
* গোল করেছে: ৪০
* গোল হজম: ৬৬
প্রথম বিশ্বকাপেই সেমিফাইনাল
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপেই নিজেদের সেরা সাফল্য পায় যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। তবে শেষ চারে আর্জেন্টিনার কাছে ৬-১ গোলে হেরে থেমে যায় তাদের স্বপ্নযাত্রা।
কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো
২০২২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, ইরান ও ওয়েলসের কঠিন গ্রুপে পড়েও অপরাজিত থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করার পর ইরানকে হারিয়ে নকআউটে ওঠে তারা। তবে শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
ল্যান্ডন ডনোভান- বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নাম
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোলদাতা ল্যান্ডন ডোনোভান। তিনটি বিশ্বকাপে তিনি করেছেন ৫ গোল। ২০০২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোতে তার গোলটি আজও যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এছাড়া ২০১০ বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন তিনি।
শুধু গোল নয়, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচও খেলেছেন ডোনোভান। ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০- এই তিন বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন মোট ১২ ম্যাচ।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি
১৯৫০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যা এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি ধরা হয়। তখন ইংল্যান্ড ছিল শিরোপার অন্যতম দাবিদার, আর যুক্তরাষ্ট্রের দলে ছিলেন খণ্ডকালীন ফুটবলাররা। কিন্তু জো গেইটজেন্সের গোলে অবিশ্বাস্য জয় পায় যুক্তরাষ্ট্র।
টিম হাওয়ার্ডের অবিশ্বাস্য রেকর্ড
২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলকিপার টিম হাওয়ার্ড করেছিলেন ১৬টি সেভ- যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ডগুলোর একটি। যদিও ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র, তবু হাওয়ার্ডের পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল।
সবচেয়ে বড় জয়ও ১৯৩০ সালে
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় জয় এসেছে প্রথম আসরেই। ১৯৩০ বিশ্বকাপে তারা বেলজিয়াম ও প্যারাগুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বার্ট প্যাটেনাউড করেছিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিক।
এবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। নতুন কোচ, নতুন প্রজন্ম আর নতুন স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষা করছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?