বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তিচুক্তির আশা জাগায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। সেখানে সূচকের বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (২৫ মে) সকালে এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯১ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটি থাকায় সোমবার সেখানকার জ্বালানি ও আর্থিক বাজার বন্ধ রয়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলার আভাস শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে ‘মোটামুটি আলোচনা’ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত শিগগির ঘোষণা করা হবে। তবে এর পরদিনই আবার নিজের আলোচনা দলকে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেন তিনি। আরও পড়ুন>>ভারত ১০ দিনে ৩ বার বাড়ালো তেলের দাম, পাকিস্তান কমালো ২ বারট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্ক বাতিল হচ্ছে কাদের জন্য?ধনীদের সম্পত্তি বাড়ছে হু হু করে, কারণ কী? ট্রাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তিচুক্তির আশা জাগায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। সেখানে সূচকের বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯১ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটি থাকায় সোমবার সেখানকার জ্বালানি ও আর্থিক বাজার বন্ধ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খোলার আভাস
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে ‘মোটামুটি আলোচনা’ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত শিগগির ঘোষণা করা হবে। তবে এর পরদিনই আবার নিজের আলোচনা দলকে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেন তিনি।
আরও পড়ুন>>
ভারত ১০ দিনে ৩ বার বাড়ালো তেলের দাম, পাকিস্তান কমালো ২ বার
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্ক বাতিল হচ্ছে কাদের জন্য?
ধনীদের সম্পত্তি বাড়ছে হু হু করে, কারণ কী?
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী এই সরু জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের নেতাদের সঙ্গে ‘শান্তি সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে ‘খুব ভালো আলোচনা’ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা একটি চুক্তি নিয়ে বড় আকারে সমঝোতা হয়েছে। চুক্তির শেষ দিককার বিষয় ও খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা শিগগির ঘোষণা করা হবে।
একই দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার ‘খুব ভালো’ ফোনালাপ হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো চুক্তিই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ‘অবশ্যই’ বিরত রাখবে। তবে রোববার ট্রুথ সোশ্যালে কিছুটা সুর বদলে তিনি লেখেন, ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোনো ভুল করা যাবে না!’
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতমুখী বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান কিছুটা কাছাকাছি এলেও এর মানে এই নয় যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তি হয়ে গেছে।
গত মার্চের শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। পরে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোতেও হামলা চালায়। এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্যে আলোচনায় বসে।
চাঙ্গা এশিয়ার শেয়ারবাজার, শঙ্কা কাটেনি দীর্ঘমেয়াদে
হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার আশায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ শেয়ার সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬৫ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। জ্বালানির জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকেরা এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি শঙ্কা এখনই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এমএসটি ফাইন্যান্সের জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, ‘সুড়ঙ্গের শেষে কিছুটা আলোর দেখা মিলেছে, যা সাময়িকভাবে তেলের বাজারে স্বস্তি দেবে।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতির কথা চিন্তা করলেও, হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক করা, ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো মেরামত এবং যুদ্ধ শুরুর পর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়া বৈশ্বিক তেলের মজুদ আবার গড়ে তুলতে সময় লাগবে। ফলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের বাজারে এই টানাপোড়েন বজায় থাকবে।’
সূত্র: বিবিসি
কেএএ/
What's Your Reaction?