বিষম খেলে পিঠে জোরে থাপ্পড় না দিয়ে যা করবেন

খেতে খেতে হঠাৎ কোনো মজার কথা মনে পড়ে হেসে ওঠা, বা দ্রুত খাবার গিলে ফেলার কারণে অনেক সময় হঠাৎই বিষম খেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে, শুরু হয় তীব্র কাশি। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমন অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ না ভেবেই আক্রান্ত ব্যক্তির মাথার তালু বা পিঠে জোরে থাপ্পড় মারেন, দ্রুত পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এসব অভ্যাস সব সময় নিরাপদ নয়। ভুল পদ্ধতিতে সাহায্য করতে গিয়ে শ্বাসনালিতে আটকে থাকা খাবার আরও ভেতরে চলে যেতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল এমনকি প্রাণঘাতীও করে তুলতে পারে। বিষম খেলে শান্ত থাকুন কেন মানুষ বিষম খায়? আমাদের গলায় পাশাপাশি দুটি নালি থাকে-একটি খাদ্যনালি, অন্যটি শ্বাসনালি। খাবার গিলতে গেলে এপিগ্লটিস নামের একটি ছোট পর্দা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্বাসনালির মুখ বন্ধ করে দেয়, যাতে খাবার খাদ্যনালিতে চলে যায়। কিন্তু খাওয়ার সময় কথা বলা, হাসা বা খুব দ্রুত খাবার গিলে ফেললে এই পর্দা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন খাবারের ছোট টুকরো বা পানির কণা ভুলবশত শ্বাসনালিতে ঢুকে পড়ে। শরীর সেই বস্তুটি বের করে দিতে স্বাভাবিকভাবেই জোরে কাশি শুরু করে। এটিই সাধ

বিষম খেলে পিঠে জোরে থাপ্পড় না দিয়ে যা করবেন

খেতে খেতে হঠাৎ কোনো মজার কথা মনে পড়ে হেসে ওঠা, বা দ্রুত খাবার গিলে ফেলার কারণে অনেক সময় হঠাৎই বিষম খেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে, শুরু হয় তীব্র কাশি। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এমন অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ না ভেবেই আক্রান্ত ব্যক্তির মাথার তালু বা পিঠে জোরে থাপ্পড় মারেন, দ্রুত পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এসব অভ্যাস সব সময় নিরাপদ নয়। ভুল পদ্ধতিতে সাহায্য করতে গিয়ে শ্বাসনালিতে আটকে থাকা খাবার আরও ভেতরে চলে যেতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল এমনকি প্রাণঘাতীও করে তুলতে পারে।

jagoবিষম খেলে শান্ত থাকুন

কেন মানুষ বিষম খায়?

আমাদের গলায় পাশাপাশি দুটি নালি থাকে-একটি খাদ্যনালি, অন্যটি শ্বাসনালি। খাবার গিলতে গেলে এপিগ্লটিস নামের একটি ছোট পর্দা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্বাসনালির মুখ বন্ধ করে দেয়, যাতে খাবার খাদ্যনালিতে চলে যায়।

কিন্তু খাওয়ার সময় কথা বলা, হাসা বা খুব দ্রুত খাবার গিলে ফেললে এই পর্দা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন খাবারের ছোট টুকরো বা পানির কণা ভুলবশত শ্বাসনালিতে ঢুকে পড়ে। শরীর সেই বস্তুটি বের করে দিতে স্বাভাবিকভাবেই জোরে কাশি শুরু করে। এটিই সাধারণভাবে 'বিষম খাওয়া' নামে পরিচিত।

বিষম খেলে যা করবেন

কেউ বিষম খেলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে তাকে কাশতে উৎসাহ দিন। কাশি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাশির চাপেই শ্বাসনালিতে আটকে থাকা খাবার বের হয়ে আসে।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে শরীর সামান্য সামনে ঝুঁকিয়ে দিতে বলুন। এতে অভিকর্ষের কারণে আটকে থাকা বস্তুটি আরও ভেতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা কমে এবং কাশির সঙ্গে বের হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

যদি কাশি দিয়েও সমস্যা না কমে এবং ব্যক্তি কথা বলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট পান, তাহলে তাকে সামনে ঝুঁকিয়ে দুই কাঁধের মাঝখানে হাতের তালুর গোড়ালি দিয়ে পরপর পাঁচবার নিয়ন্ত্রিতভাবে আঘাত করুন। এই আঘাতের উদ্দেশ্য হলো শ্বাসনালিতে আটকে থাকা বস্তুটি বাইরে বের হতে সাহায্য করা।

যা করবেন না

বিষম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জোর করে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। এতে আটকে থাকা খাবার আরও নিচে চলে যেতে পারে। একইভাবে মাথার তালুতে আঘাত করা বা মুখে ফুঁ দেবেন না। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি দিতে না পারেন, শ্বাস নিতে না পারেন, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যায়, অথবা অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তাহলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি হেইমলিখ ম্যানুভার প্রয়োগ করতে পারেন।

সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পারে। তাই বিষম খেলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: হেলথ লাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow