বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরে এ নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে দিনব্যাপী ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে সেখানে ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছাড়াও সাকা চৌধুরীর ছবিসহ একটি ব্যানার ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে ব্যানারটি সরাতে বলেন। তবে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। ছাত্রদলের সহ-সভাপ

বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরে এ নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে দিনব্যাপী ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করে।

বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

প্রদর্শনীতে সেখানে ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছাড়াও সাকা চৌধুরীর ছবিসহ একটি ব্যানার ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে ব্যানারটি সরাতে বলেন। তবে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নীরব রাজাকারের ছবি ক্যাম্পাসে থাকবে না বললে শিবির কর্মী বায়জিদ বলেন ছাত্রলীগের কর্মী এখানে কেন? একপর্যায়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নীরবসহ কয়েকজন শিবিরের এক কর্মীকে লাথি মারেন।

পরে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে একপর্যায়ে চেয়ার ছুড়াছুড়ি হয় এবং তার আঘাতে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিক আহত হন। পরে গাছের ডাল ভেঙে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেন। এসময় শিবির নেতা মেহেদী হাসানকে স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান এসে পরিস্থিতি থামানোর চেষ্টা করেন। প্রক্টর শিবিরের নেতাদের ব্যানারটি নামাতে বললে তারা তাদের ওপর হামলার বিচার দাবি করেন।

বেরোবিতে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূড়া সড়কে শিবিরের টাঙানো জুলাই শহীদের ব্যানার ভাঙলে দ্বিতীয় দফায় উভয় পক্ষে মধ্যে আবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক মাঠে অবস্থান নেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। আর মূল ফটকের দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। শিবির ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাল্টা-পাল্টি স্লোগানও দিতে থাকে।

প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শান্ত হতে বলেন। এসময় বস্তায় করে ভাঙা ইট নিয়ে আসেন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা। এক পর্যায়ে তিনি শিবির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে ক্যাম্পাস থেকে চলে যান এবং কিছু ছাত্রদল কর্মী ক্যাম্পাসের পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন। এসময় স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মীদের হাতে চাপাতি, রামদা ও বড় বড় ছুরি হাতে ক্যাম্পাসের দিকে আসতে দেখা যায়৷ অন্যদিকে শিবিরের কর্মীদের হাতে পাইপ, গাছের ডাল ও ইটের টুকরা দেখা যায়। সংঘর্ষে শিবির ও ছাত্রদলের প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

আজিজুর রহমান/এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow