ব্যস্ততার অজুহাতে বয়স্ক বাবাকে অবহেলা করছেন না তো?
আমার এক শিক্ষক আমাকে একবার একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। এক বাবা তাঁর দুই বছরের ছোট ছেলেকে নিয়ে পার্কে হাঁটছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটি গাছের ডালে বসে থাকা একটি কাকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, বাবা, ওটা কী? বাবা হাসিমুখে উত্তর দিলেন, ওটা একটা কাক। একটু পর ছেলেটি আবার জিজ্ঞেস করল, বাবা, ওটা কী? বাবা আবারও বললেন, ওটা একটা কাক। এভাবে প্রায় দশ মিনিট ধরে ছেলেটি একই প্রশ্ন ৩০ বার করল। বাবা বিরক্ত না হয়ে প্রতিবারই হাসিমুখে উত্তর দিলেন এবং পরম আদরে নিজের ডায়েরিতে লিখে রাখলেন, আজ আমার ছেলে পার্কে হাঁটার সময় আমাকে ৩০ বার কাক নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে, এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও মিষ্টি দৃশ্য। ঠিক ৩০ বছর কেটে গেল। সেই দুই বছরের শিশুটি এখন ৩২ বছরের এক ব্যস্ত যুবক। একদিন বাবা তাকে ফোন করে বললেন, বাবা, আমি কি একটু তোমার কাছে আসতে পারি? ছেলে উত্তর দিল, বাবা, এখন তো মোটেও ভালো সময় নয়, আমি একটু ব্যস্ত। বাবা বললেন, বাবা, আমার মাত্র ১০-১৫টা মিনিট দরকার। চলো একটু গাড়িতে যাই, তোমার সাথে একটা জরুরি কথা আছে। ছেলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হলো। গাড়িতে করে তারা সেই পুরোনো পার্কে গেল। ছেলে বিরক্ত হয়ে বলল, কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো
আমার এক শিক্ষক আমাকে একবার একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। এক বাবা তাঁর দুই বছরের ছোট ছেলেকে নিয়ে পার্কে হাঁটছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটি গাছের ডালে বসে থাকা একটি কাকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, বাবা, ওটা কী? বাবা হাসিমুখে উত্তর দিলেন, ওটা একটা কাক। একটু পর ছেলেটি আবার জিজ্ঞেস করল, বাবা, ওটা কী? বাবা আবারও বললেন, ওটা একটা কাক। এভাবে প্রায় দশ মিনিট ধরে ছেলেটি একই প্রশ্ন ৩০ বার করল। বাবা বিরক্ত না হয়ে প্রতিবারই হাসিমুখে উত্তর দিলেন এবং পরম আদরে নিজের ডায়েরিতে লিখে রাখলেন, আজ আমার ছেলে পার্কে হাঁটার সময় আমাকে ৩০ বার কাক নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে, এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও মিষ্টি দৃশ্য।
ঠিক ৩০ বছর কেটে গেল। সেই দুই বছরের শিশুটি এখন ৩২ বছরের এক ব্যস্ত যুবক। একদিন বাবা তাকে ফোন করে বললেন, বাবা, আমি কি একটু তোমার কাছে আসতে পারি? ছেলে উত্তর দিল, বাবা, এখন তো মোটেও ভালো সময় নয়, আমি একটু ব্যস্ত। বাবা বললেন, বাবা, আমার মাত্র ১০-১৫টা মিনিট দরকার। চলো একটু গাড়িতে যাই, তোমার সাথে একটা জরুরি কথা আছে। ছেলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হলো। গাড়িতে করে তারা সেই পুরোনো পার্কে গেল। ছেলে বিরক্ত হয়ে বলল, কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো বাবা, আমার অনেক কাজ আছে। বাবা বললেন, চলো বাবা, একটু হেঁটে আসি।
হাঁটতে হাঁটতে বাবা গাছের একটি কাক দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, বাবা, ওটা কী? ছেলে রেগে গিয়ে বলল, সিরিয়াসলি বাবা! ওটা একটা কাক। বাবা আবারও জিজ্ঞেস করলেন, বাবা, ওটা কী? এবার ছেলে চরম বিরক্ত হয়ে বলল, তুমি কি আমার সাথে কোনো খেলা খেলছ? আমার অনেক কাজ আছে। ওটা একটা কাক! তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না? গত মাসেই তো তোমাকে নতুন চশমা কিনে দিলাম। বাবা, তুমি এত জটিল কেন? তোমার আসল সমস্যাটা কী, পরিষ্কার করে বলবে?
তখন বাবা তার পকেট থেকে সেই ৩০ বছর পুরোনো ডায়েরিটা বের করলেন। তিনি বললেন, বাবা, আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমরা এই পার্কে হাঁটছিলাম। তুমি আমাকে ৩০ বার জিজ্ঞেস করেছিলে ওটা কী, আর আমি প্রতিবারই তোমাকে ভালোবেসে হেসে উত্তর দিয়েছিলাম। আর তুমি আজ মাত্র দুবার একই প্রশ্ন সহ্য করতে পারলে না?

নির্ভরতার ছায়াময় বটবৃক্ষ ‘বাবা’
এখানে আমরা যদি কোনো ধর্মীয় বিধানের কথা নাও বলি, বাবা-মায়ের প্রতি সদয় ব্যবহার মানবিক শিষ্টাচারেরও দাবি। ইসলামে বাবা-মায়ের প্রতি সদয় ব্যবহার আল্লাাহ তাআলার নির্দেশিত ফরজ কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের ঠিক পরেই বাবা-মায়ের প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের একবার ভাবা উচিত, তারা আমাদের জন্য কী করেছেন আর আমরা তাদের কী দিচ্ছি!
কত বাবা-মা তাদের সন্তান যখন আইসিইউতে (ICU) কাঁচের বাক্সে জীবনের সাথে লড়াই করে, তখন টানা ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন হাসপাতালের মেঝেতে দাঁড়িয়ে কাটান। তারা বসার সময়টুকু পান না, ভেন্ডিং মেশিনের সস্তা খাবার খেয়ে নির্ঘুম রাত কাটান। আর সেই সন্তানটিই যখন বড় হয়, তখন মায়ের একটা ফোন ধরার বা দিনে দুটো মিনিট সময় নিয়ে কথা বলার ফুরসত পায় না। যে মায়ের গর্ভধারণ ও প্রসবের সময় প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল, আজ তাকে একটুখানি স্পেশাল ফিল করানোর সময় সন্তানের নেই। এটা কতটা অন্যায় যে, একসময় আপনি ছিলেন তাদের পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আর আজ তারা আপনার জীবনে এতটাই তুচ্ছ ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছেন! তারা প্রতিদিন এই নীরব কষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচে থাকেন যে—তাদের সন্তানদের কাছে তাদের কোনো মূল্য নেই, তারা মূল্যহীন। মনে রাখবেন, কোনো জিনিস আপনার কাছে মূল্যবান হলে আপনি অবশ্যই তার জন্য সময় বের করবেন।
তরুণ বয়সে অনেকেই বাবা-মার থেকে দূরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে, নিজেদের মতো থাকতে চায়। এই যে একটা বাঁকা স্বভাব এখন থেকে তৈরি হচ্ছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সন্তান যতই বড় হোক, ৬০ বছর বয়স হয়ে গেলেও বাবা-মার কাছে সে তাদের সেই ছোট্ট শিশুই থাকে। তারা আজও মনে রেখেছেন কীভাবে তারা আপনার ডায়াপার পরিবর্তন করেছেন, আপনাকে দুধ খাইয়েছেন, আপনার ময়লা পরিষ্কার করেছেন। আপনি হয়তো সেসব ভুলে গেছেন, কিন্তু তারা কখনো ভোলেননি।
আজ যখন নিজের সন্তানকে বাথরুমে নিয়ে পরিষ্কার করাতে হয়, স্পাইডারম্যানের পায়জামা পরিয়ে দিতে হয়, তখন মনে হয়—একদিন আমার সন্তানও বড় হয়ে এগুলো ভুলে যাবে। কিন্তু একজন বাবা হিসেবে আমি কখনোই তা ভুলব না। আর সেই সন্তানটিই যখন একদিন আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করবে, বলবে—বাবা, আমি তোমার কোনো কথাই বুঝি না, আমার এখন সময় নেই—তখন বুকটা সত্যিই ভেঙে যাবে, প্রচণ্ড কষ্ট হবে।
আমরা আমাদের বাবা-মার সাথে ঠিক এই আচরণটাই করছি। তারা আমাদের জন্য নিজেদের ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছেন, নিজেদের ছুটি-বিনোদন ত্যাগ করেছেন, বন্ধুদের ত্যাগ করেছেন। সন্তান আসার আগে তাদের নিজেদের জীবন নিয়ে কত পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সন্তান আসার পর সন্তানই হয়ে উঠেছে তাদের একমাত্র পরিকল্পনা, তাদের পুরো পৃথিবী। আর আজ আমাদের এত বড় সাহস যে, নিজের ইচ্ছের সামান্য নড়চড় হলে বা নিজের অপ্রিয় কোনো কথা শুনলেই আমরা তাদের ওপর চড়াও হই, চিৎকার করে উঠি!
অনেকেই বলেন, আমার বাবা অনেক বিরক্তিকর, আমার মা সবসময় রেগে থাকেন, তারা কখনোই খুশি হন না। কিন্তু আপনি নিজে তাদের জন্য কী করছেন? একটি কথা জীবনের ডায়েরিতে গেঁথে রাখুন, আপনি যদি আপনার পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ও মন থেকে আসা দোয়া অর্জন করতে না পারেন, তবে আপনার জীবনে কখনোই কোনো কল্যাণ আসবে না। তারা আপনার ওপর অসন্তুষ্ট থাকলে, আপনার জীবনের কোনো কিছুতেই কখনো বরকত মিলবে না।
সূত্র: ইউটিউব, এনএকে স্পিচেস
ওএফএফ
What's Your Reaction?
