ব্যাপক সমালোচনার পর ব্রিটিশ সেনাদের ‘সাহসী যোদ্ধা’ বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করে তাদের সাহসী যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর এক দিন আগে আফগানিস্তানে ন্যাটো সেনাদের ভূমিকা নিয়ে তার করা মন্তব্যকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অপমানজনক ও নিন্দনীয় বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে ইউরোপীয় সেনারা নাকি সামনের সারিতে (ফ্রন্ট লাইন) ছিল না- ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ব্রিটেনসহ ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। আফগানিস্তানে ব্রিটেনের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন, যা ১৯৫০-এর দশকের পর দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিদেশি যুদ্ধ। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র কয়েক বছরে ব্রিটেন আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় ও সহিংস প্রদেশ হেলমান্দে মিত্র বাহিনীর নেতৃত্ব দেয় এবং একই সঙ্গে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রের মিত্র হিসেবেও লড়াই করে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, যুক্তরাজ্যের মহান ও অত্যন্ত সাহসী সেনারা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে। আফগানিস্তানে ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা ছিলেন সেরা যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম। এই বন্ধন কখনোই ভাঙবে না। রোববার প্রকাশিত দ্য সান অন সানডে পত্রিকা জানায়, ট

ব্যাপক সমালোচনার পর ব্রিটিশ সেনাদের ‘সাহসী যোদ্ধা’ বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করে তাদের সাহসী যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর এক দিন আগে আফগানিস্তানে ন্যাটো সেনাদের ভূমিকা নিয়ে তার করা মন্তব্যকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অপমানজনক ও নিন্দনীয় বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

আফগানিস্তানে ইউরোপীয় সেনারা নাকি সামনের সারিতে (ফ্রন্ট লাইন) ছিল না- ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ব্রিটেনসহ ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।

আফগানিস্তানে ব্রিটেনের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন, যা ১৯৫০-এর দশকের পর দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিদেশি যুদ্ধ। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র কয়েক বছরে ব্রিটেন আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় ও সহিংস প্রদেশ হেলমান্দে মিত্র বাহিনীর নেতৃত্ব দেয় এবং একই সঙ্গে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রের মিত্র হিসেবেও লড়াই করে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, যুক্তরাজ্যের মহান ও অত্যন্ত সাহসী সেনারা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে। আফগানিস্তানে ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা ছিলেন সেরা যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম। এই বন্ধন কখনোই ভাঙবে না।

রোববার প্রকাশিত দ্য সান অন সানডে পত্রিকা জানায়, ট্রাম্পের প্রাথমিক মন্তব্য নিয়ে রাজা চার্লসের উদ্বেগ প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছিল। ট্রাম্প গত বছর ব্রিটেন সফরের সময় রাজা চার্লসের প্রতি তার প্রশংসার কথা জানিয়েছিলেন। তবে বাকিংহাম প্যালেস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের কাছ থেকেও বিরলভাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে, কারণ তিনি সাধারণত প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা এড়িয়ে চলেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানে পাশাপাশি লড়াই করা সাহসী ও বীর ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনাদের কথা তুলে ধরেছেন, যাদের অনেকেই আর ঘরে ফিরে আসেননি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের ‘মর্নিংস উইথ মারিয়া’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই আটলান্টিক জোটের প্রয়োজন হয়নি এবং মিত্ররা আফগানিস্তানে সামনের সারি থেকে একটু দূরে ছিল। এসব মন্তব্যের নিন্দা জানাতে ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক সেনারা এগিয়ে এসেছেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন রাজা চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি, যিনি আফগানিস্তানে দু’বার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের কথা সত্য ও সম্মানের সঙ্গে বলা উচিত।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow