ব্রাহ্মণপাড়ায় বেহাল সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে দুটি ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ এবং উপজেলা বাকি ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দাদের থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘভূমি অংশটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কের পিচঢালাই ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আর এর ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো পথচারী ও যানবাহন চালকদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশের কয়েকটি বাড়ির পানি সরাসরি রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ায় এখানে সব সময়ই পানি জমে থাকে। দিনের পর দিন পানি জমা থাকায় এবং গত কিছুদিনের বৃষ্টিতে এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে সড়কের ওই স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে অনেককে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দীর্ঘভূমি এলাকার কয়েকশ মিটারজুড়ে খানাখন্দভরা ছোট-বড় গর্তে পানি জমে রয়েছে। ছোট যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে। অনেক পথচারী জুতা হাতে ন

ব্রাহ্মণপাড়ায় বেহাল সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে দুটি ইউনিয়নের সরাসরি যোগাযোগ এবং উপজেলা বাকি ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দাদের থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘভূমি অংশটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কের পিচঢালাই ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আর এর ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো পথচারী ও যানবাহন চালকদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশের কয়েকটি বাড়ির পানি সরাসরি রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ায় এখানে সব সময়ই পানি জমে থাকে। দিনের পর দিন পানি জমা থাকায় এবং গত কিছুদিনের বৃষ্টিতে এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে সড়কের ওই স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে অনেককে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দীর্ঘভূমি এলাকার কয়েকশ মিটারজুড়ে খানাখন্দভরা ছোট-বড় গর্তে পানি জমে রয়েছে। ছোট যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে। অনেক পথচারী জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে রোগী ও রোগীর স্বজনদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বেশি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুলালপুর, শিদলাই ইউনিয়নের মানুষ নানা প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যেতে এ সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া বাকি ছয় ইউনিয়নের মানুষ রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে এবং থানায় নানা প্রয়োজনে যেতে এ সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়াও এ সড়কটির পাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে সড়কের জলাবদ্ধ ওই অংশ পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত অস্থায়ী সংস্কার, কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং অবৈধভাবে সড়কে বাড়ির পানি ফেলা বন্ধে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সড়কের এই স্থানের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, যে কারণেই দুর্ভোগ। প্রতিদিনই পানি জমা এই স্থানে সৃষ্টি হওয়া গর্তে পড়ে অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এতে আহতও হচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক দিয়ে যানবাহনে করে চলাচলের সময় সড়কের ওই অংশে গেলেই ভয় লাগে, কখন না আবার অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনার মুখোমুখি হই। 

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী গোলাপ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সড়কটির উন্নয়নকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আগে সড়কটির প্রস্থ ছিল ১২ ফুট, এখন সেটি ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। দীর্ঘভূমি অংশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান আগেও মেরামত করা হয়েছিল। চলমান প্রকল্পের আওতায় পুরো সড়ক আধুনিকভাবে নির্মাণ করা হবে। আশা করছি আগামী বছরের জুনের আগেই সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow