ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ভাগাড় নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন-এসটিএস (ময়লা ফেলার ভাগাড়) নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই এলাকায় বর্জ্য ফেলা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত রুলও জারি করেন। রুলে জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিতে অননুমোদিতভাবে ভাগাড় নির্মাণ এবং জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন আইনবহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্যান ও বনের ক্ষতিসাধন করায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক; বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন-এসটিএস (ময়লা ফেলার ভাগাড়) নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই এলাকায় বর্জ্য ফেলা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আদালত রুলও জারি করেন। রুলে জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিতে অননুমোদিতভাবে ভাগাড় নির্মাণ এবং জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন আইনবহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া উদ্যান ও বনের ক্ষতিসাধন করায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক; বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (৪ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে এদিন রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, তাকে সহায়তা করেন হাসানুল বান্না, আইনজীবী রুমানা শারমিন ও তৌহিদুল আলম।
বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্না জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকসহ সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত বর্জ্য ডাম্পিং করে আসছিল গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এসব বর্জ্য একদিকে যেমন উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল; অন্যদিকে মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছিল। বন অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়।
সম্প্রতি বন অধিদপ্তরের সব বাধা উপেক্ষা করে সিটি করপোরেশন পুনরায় বর্জ্য ডাম্পিং শুরু করে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিতে অননুমোদিতভাবে এসটিএস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনভূমিতে এসটিএস নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানালেও বিষয়টি আমলে না নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এসটিএস নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় মামলাটি দায়ের করে বেলা।
এফএইচ/বিএ
What's Your Reaction?