ভারতে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ইমামকে হত্যার অভিযোগ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে চলন্ত ট্রেন থেকে এক ইমামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ইমামের নাম মাওলানা তৌসিফ রাজা (৩০)। গত ২৭ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে পুলিশ ধারণা করেছিল, ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে, সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপ থেকে জানা গেছে, তাকে ট্রেনে নির্যাতন করে এরপর ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। মাওলানা তৌসিফ রাজা বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি একই প্রদেশের সিওয়ানের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি বরেলি থেকে সিওয়ানের উদ্দেশে ‘মুজাফফরপুর স্পেশাল ফেয়ার সামার স্পেশাল’ ট্রেনে ওঠেন। পরদিন ২৭ এপ্রিল সকালে বরেলির ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার পালপুর ফটকের কাছে রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, তৌসিফ রাজার ফোনে একটি ৩৬ সেকেন্ডের অডিও এবং ২.৬৩ মিনিটের ভিডিও কলের রেকর্ড পাওয়া গেছে। অডিওতে শোনা যায়, ট্রেনে কিছু লোক তাকে হেনস্তা করছে। তৌসিফের স্ত্রী তাবাসসুম জানান, মৃত্যুর আগে তৌসিফ তাকে ফোন করে বলেছিলেন যে ট্রেনে কিছু লোক তা

ভারতে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ইমামকে হত্যার অভিযোগ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে চলন্ত ট্রেন থেকে এক ইমামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ইমামের নাম মাওলানা তৌসিফ রাজা (৩০)।

গত ২৭ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে পুলিশ ধারণা করেছিল, ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে, সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপ থেকে জানা গেছে, তাকে ট্রেনে নির্যাতন করে এরপর ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়।

মাওলানা তৌসিফ রাজা বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি একই প্রদেশের সিওয়ানের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি বরেলি থেকে সিওয়ানের উদ্দেশে ‘মুজাফফরপুর স্পেশাল ফেয়ার সামার স্পেশাল’ ট্রেনে ওঠেন। পরদিন ২৭ এপ্রিল সকালে বরেলির ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার পালপুর ফটকের কাছে রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবারের দাবি, তৌসিফ রাজার ফোনে একটি ৩৬ সেকেন্ডের অডিও এবং ২.৬৩ মিনিটের ভিডিও কলের রেকর্ড পাওয়া গেছে। অডিওতে শোনা যায়, ট্রেনে কিছু লোক তাকে হেনস্তা করছে।

তৌসিফের স্ত্রী তাবাসসুম জানান, মৃত্যুর আগে তৌসিফ তাকে ফোন করে বলেছিলেন যে ট্রেনে কিছু লোক তাকে ঘিরে ধরে মারধর করছে এবং তাকে ‘চোর’ বলে অপবাদ দিচ্ছে। তাবাসসুম তাকে সহযাত্রীদের সাহায্য নিতে বললেও তৌসিফ জানান যে, ট্রেনের যাত্রীরাই তাকে হেনস্তা করছে।

নিহতের চাচা রিজওয়ান আলম অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি তাকে ট্রেনের ভেতরে মারধর করা হয়েছে এবং তারপর ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তাবাসসুম ভিডিও কল করার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তদের চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শুরুতে পরিবারটি শোকাতুর থাকায় পুলিশের কাছে বিস্তারিত জানাতে পারেনি, তবে বিহারে ফিরে তৌসিফের ফোন চেক করার পর তারা এই অডিও প্রমাণের কথা জানতে পারেন।

বরেলির পুলিশ সুপার (এসপি) মানুষ পারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও পরিবারের নতুন অভিযোগ এবং অডিও ক্লিপের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ পরিবারটির সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং রবিবার তাদের অভিযোগ দায়ের করার কথা রয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow