ভারতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র পর ‘জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট’- এর আবির্ভাব
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়েছে। নতুন এই অনলাইন আন্দোলনের নাম ‘ন্যাশনাল প্যারাসিটিক ফ্রন্ট’ বা ‘জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট’ (এনপিএফ)। দুই পক্ষই নিজেদেরকে মূলত ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এর পেছনে যে বাস্তব ক্ষোভ কাজ করছে, সেটিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায়। ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত সম্প্রতি বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে তুলনা করেন, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এরপরই শুরু হয় ‘সিজেপি’ ও ‘এনপিএফ’-এর ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক লড়াই। যদিও সিজেপির এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্ট ব্লক করে রেখেছে ভারত সরকার। কী এই ‘জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট’? এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। এটি মূলত ভাইরাল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতিদ্বন্দ্বী বা পাল্টা আন্দোলন হিসেবে সামনে এসেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলের মতো মাঠে সক্রিয় না হয়ে, এনপিএফ ম
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়েছে। নতুন এই অনলাইন আন্দোলনের নাম ‘ন্যাশনাল প্যারাসিটিক ফ্রন্ট’ বা ‘জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট’ (এনপিএফ)।
দুই পক্ষই নিজেদেরকে মূলত ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এর পেছনে যে বাস্তব ক্ষোভ কাজ করছে, সেটিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায়।
ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত সম্প্রতি বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে তুলনা করেন, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এরপরই শুরু হয় ‘সিজেপি’ ও ‘এনপিএফ’-এর ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক লড়াই। যদিও সিজেপির এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্ট ব্লক করে রেখেছে ভারত সরকার।
কী এই ‘জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট’?
এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। এটি মূলত ভাইরাল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতিদ্বন্দ্বী বা পাল্টা আন্দোলন হিসেবে সামনে এসেছে।
প্রচলিত রাজনৈতিক দলের মতো মাঠে সক্রিয় না হয়ে, এনপিএফ মূলত অনলাইন ক্যাম্পেইন, ব্যঙ্গ ও সামাজিক হতাশাকে কেন্দ্র করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।
এনপিএফের অদ্ভুত নির্বাচনী ইশতেহার
এনপিএফ তাদের সমর্থকদের জন্য বেশ কিছু অদ্ভুত ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটি বলছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সরকার-সহায়তায় ‘ম্যাচমেকিং স্কিম’ চালু করা হবে। তাদের ভাষায়, ছেলেরা গার্লফ্রেন্ড পাবে, মেয়েরা বয়ফ্রেন্ড পাবে।
শুধু তাই নয়, ‘সিচুয়েশনশিপ’ বা অনিশ্চিত সম্পর্কের সমস্যাও ৯০ দিনের মধ্যে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনপিএফ। যদি কেউ বারবার ‘ঘোস্টেড’ বা প্রতারণার শিকার হন, তাহলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার ইউপিআই অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪ হাজার ৯৯৯ রুপি পাঠানো হবে বলেও দাবি করেছে দলটি।
এছাড়া ‘মিনিস্ট্রি অব রিজ’ নামে আলাদা একটি মন্ত্রণালয় গঠনের কথাও বলা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রী হওয়ার জন্য ডেটিং অ্যাপ ‘বাম্বলে’ অন্তত ৪ দশমিক ২ রেটিং থাকতে হবে।
দলটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ড্রাইভ যেন আবার সাশ্রয়ী হয়, সেজন্য জিনিসপত্রের দাম কমানো হবে।
সংসদের ক্যান্টিনে সমুচা-চাটনি নিয়ে আর মারামারি হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনপিএফ। এ জন্য একটি ‘নিরপেক্ষ বিরিয়ানি কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা খাবারসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করবে।
আর কোনো সংসদ সদস্য অধিবেশনের সময় ঘুমিয়ে পড়লে তার মাইক্রোফোন পুরো ভলিউমে চালু করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে দলটি।
অপরাধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
ব্যঙ্গাত্মক হলেও কিছু ইস্যুতে এনপিএফের অবস্থান বেশ কঠোর। দলটি বলেছে, ধর্ষণ, হত্যা বা সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
বর্তমান সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলো এক বছরের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের আজীবনের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে।
দলটির ভাষ্য, ন্যূনতম এইচএসসি পাস না হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। আপনি যদি বাজেট পড়তেই না পারেন, তাহলে বাজেট পাশ করবেন কীভাবে?
রাস্তার গর্তের নাম হবে কাউন্সিলরের নামে!
এনপিএফের ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো রাস্তার গর্ত নিয়ে তাদের প্রস্তাব। তারা বলেছে, তিন মাসের বেশি পুরোনো গর্তগুলোর নাম গুগল ম্যাপে সংশ্লিষ্ট পৌর কাউন্সিলরের নামে দেওয়া হবে।
এছাড়া যে কোনো নির্মাণকাজের সাইনবোর্ডে শেষ সময়সীমা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। সময়মতো কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারকে বৃষ্টির মধ্যে নিজ হাতে গর্ত ভরাট করতে হবে বলেও ব্যঙ্গাত্মক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দুই ঘণ্টার বেশি ট্রেন দেরি করলে যাত্রীদের চা-বিস্কুট দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কথা
এনপিএফ বলছে, কলেজগুলোতে ‘শুধু ক্লাস টিচারের সঙ্গে কথা বলো’ ধরনের পরামর্শ নয়, বরং পেশাদার থেরাপিস্টের মাধ্যমে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং চালু করতে হবে।
‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
‘জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট’ নিজেদেরকে মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক পাল্টা আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ শুরু হয়েছিল সিজেআই সূর্য কান্তের কথিত ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের প্রতিবাদ হিসেবে।
জনসমর্থনের দিক থেকেও দুই দলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দাবি করেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছে। এমনকি, ভারতের রাজনীতিবিদ মাহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতো পরিচিত ব্যক্তিরাও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কী বলছে এনপিএফ?
দলটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ ও তারা যে স্থবির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে, তার আনুষ্ঠানিক বিরোধী শক্তি হিসেবেই ‘জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট’র জন্ম।
এনপিএফ আরও বলেছে, তারা এমন সংসদ চায় যেখানে শিক্ষিত প্রতিনিধি থাকবে ও এমন রাস্তা থাকবে ‘যেগুলো নদীতে পরিণত হয় না।’ এছাড়া তারা ব্যঙ্গ করে বলেছে, বিদ্যুতের বিল দিতে গিয়ে যেন ‘১১টি ফায়ার হাইড্র্যান্ট ক্যাপচা’ পূরণ করতে না হয়, এমন ইন্টারনেট ব্যবস্থাও তারা চায়।
দলটির ভাষায়, আমাদের নামটি ইচ্ছাকৃতভাবেই রাখা হয়েছে। আমরা ভাঙা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি সেটিকে শোষণ করার জন্য নয়, বরং ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
এসএএইচ
What's Your Reaction?