ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই হরিদাস হয়ে যান তৌহিদ ইসলাম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনা আসা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন ২০১০ সালে। ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরেন। আরও পড়ুন গাইবান্ধার হরিদাসের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক ৯.৩৫ কোটি টাকার লেনদেন জসীম উদ্দিন খান জানান, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরি

ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই হরিদাস হয়ে যান তৌহিদ ইসলাম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনা আসা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন ২০১০ সালে। ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।

এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরেন।

জসীম উদ্দিন খান জানান, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া ফোনকল দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে।

অনুসন্ধানকালে সিআইডি জানতে পারে, হরিদাস চন্দ্র তরনীর বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে ৯ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়েছে, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন আরও জানান, হরিদাস চন্দ্র তরনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রাপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

টিটি/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow