ভূমিকম্পে উদ্ধারকাজে এগিয়ে কে? ভেনেজুয়েলা নাকি কলম্বিয়া
ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ায় কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই দেশের উদ্ধার তৎপরতায় বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সাধারণ মানুষকেই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। বিপরীতে কলম্বিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা শুরুতে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও দ্রুত সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয় করে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ভেনেজুয়েলায় জুনের শেষ দিকে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। দেশটিতে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বর্তমানে ৬ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লা গুয়াইরার লস কোকোস এলাকায় হুগো চাভেজের নামে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ১০০ পরিবারের একটি আবাসন প্রকল্পের বেশির ভাগ ভবন ধসে পড়ে। সেখানে পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা দিনের পর দিন খালি হাতে, বালতি ও লাঠি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেন। পরে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও সীমিতসংখ্যক সরকারি কর্মী তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত
ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ায় কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই দেশের উদ্ধার তৎপরতায় বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সাধারণ মানুষকেই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। বিপরীতে কলম্বিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা শুরুতে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও দ্রুত সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয় করে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ভেনেজুয়েলায় জুনের শেষ দিকে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। দেশটিতে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বর্তমানে ৬ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লা গুয়াইরার লস কোকোস এলাকায় হুগো চাভেজের নামে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ১০০ পরিবারের একটি আবাসন প্রকল্পের বেশির ভাগ ভবন ধসে পড়ে। সেখানে পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা দিনের পর দিন খালি হাতে, বালতি ও লাঠি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেন। পরে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও সীমিতসংখ্যক সরকারি কর্মী তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতিও ছিল প্রকট। স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে ক্রেন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির দাবি জানালেও তা পেতে সময় লেগেছে। এমনকি ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বের করে আনার সময় স্থানীয়দের পুরোনো গদি ব্যবহার করতে দেখা যায়। কয়েক দিন পর এক বা দুজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ সেখানে পৌঁছান।
এর প্রায় এক মাস পর ঘটনাস্থলে দুটি ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতি আনা হয়। তবে ততদিনে উদ্ধারকাজ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর ছয়তলা পর্যন্ত গর্ত করে কাজ করেন এবং সেনাসদস্যদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের কেউ কেউ জানান, তাদের ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতিও ঠিকমতো কাজ করছিল না।
অন্যদিকে, কলম্বিয়ার ক্যালিতে ভূমিকম্পে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পর শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাই উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। প্রথম কয়েক ঘণ্টায় তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ২০ জনকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত স্থানীয় দমকল বাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
দুই দিনের মধ্যেই ক্যালির উদ্ধারকাজ বেশ সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যাতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ভিড় না হয় এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের শব্দ শুনতে পারেন। একই সঙ্গে নিয়মিত ট্রাক ও ক্রেন ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়। মরদেহ উদ্ধারের দায়িত্বে ছিল ফরেনসিক পুলিশ সদস্যরা।
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩৮০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পটির মাত্রা ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পগুলোর কাছাকাছি হলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় বড় পার্থক্য দেখা গেছে।
তবে শুধু ভূমিকম্পের মাত্রা দিয়ে এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করা যায় না। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল তুলনামূলক অগভীর এবং কিছু এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতাও কম ছিল। অন্যদিকে কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি তুলনামূলক গভীরে হয়।
রয়টার্স বলছে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতাও দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রেখেছে। ভেনেজুয়েলা বছরের পর বছর অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য উদ্ধার তৎপরতায় কোনো ধরনের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে কলম্বিয়ায় সরকারি সংস্থাগুলোর দ্রুত সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনার সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর ছিল। তবে দেশটির দরিদ্রতম প্রদেশ চোকো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভূমিকম্পে সেখানে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, সরকারি সেবার ঘাটতি ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ত্রাণকর্মীরা।
উল্লেখ্য, দুই দেশেই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স