মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৭ দিন বন্ধ ঘোষণা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের (১৫) মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ও ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাতদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। পরিবারের অভিযোগ, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় একাডেমির আবাসিক ছাত্রাবাসে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা মেহেদীকে বেদম পেটায়। পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাকে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানো হয়। নিহত মেহেদী পৌরসভার সোনাপুর এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। বুধবার বিকেলে জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক লোক অংশ নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাডেমির ছাত্রাবাসের দুজন আবাসিক শিক্ষক জানায়, ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের (১৫) মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ও ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাতদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
পরিবারের অভিযোগ, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় একাডেমির আবাসিক ছাত্রাবাসে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা মেহেদীকে বেদম পেটায়। পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাকে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানো হয়।
নিহত মেহেদী পৌরসভার সোনাপুর এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। বুধবার বিকেলে জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক লোক অংশ নেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাডেমির ছাত্রাবাসের দুজন আবাসিক শিক্ষক জানায়, ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যায়। ৪১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র মেহেদী ফোনটি চুরি করেছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোন হারানো ওই ছাত্রসহ ৯ জন সিনিয়র শিক্ষার্থী মেহেদীকে ৪১৫ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে মারধর করা হয়। এতে একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়। পরে শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একাডেমির একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায়।
নোয়াখালীর চাটখিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকান্দার মোল্লা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহালে পিঠে ও গলায় কালো দাগ দেখা গেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মোবাইল চুরির অভিযোগে মেহেদীকে মারধর করা হয়। তবে কী কারণে ও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এর তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। অভিযুক্ত ছাত্রদের আটকের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ও ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি সাতদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তেজিত লোকজন প্রতিষ্ঠানে রাতেই ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কেকে/একিউএফ
What's Your Reaction?