মাদক-অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: এসএমপি কমিশনার
সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চুরি ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশেষ অভিযান এবং থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। নিরাপদ ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা, গণমাধ্যম এবং পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে এসএমপি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা, মতিঝিলে মেট্
সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চুরি ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশেষ অভিযান এবং থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। নিরাপদ ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা, গণমাধ্যম এবং পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে এসএমপি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা, মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের জেনারেটর কক্ষে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) স্থাপন এবং আশুলিয়ায় শক্তিশালী আইইডি উদ্ধারের ঘটনার পর দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা মোকাবিলায় এসএমপিও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য পেলেই দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। তারা যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, ছিনতাই-চুরি ও সাইবার অপরাধ দমন, বিট পুলিশিং শক্তিশালী করা, অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনলাইন জুয়া ও হানিট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করা, জিডি ও মামলায় হয়রানি বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে গতি আনা এবং রাতের টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানোর দাবি জানান। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান রোধ, মাদকের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা এবং নম্বরপ্লেটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, যেসব এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বেশি, সেখানে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, সাইবার অপরাধ, মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে এসএমপি কঠোর অবস্থানে থাকবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদক ও অনলাইন জুয়াকে সমাজের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য একটি কর্মক্ষম, দক্ষ ও আধুনিক যুবসমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু মাদক ও অনলাইন জুয়া সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা। তাই এ দুটি অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, একজন রিকশাচালকও সারাদিনের কষ্টার্জিত অর্থ মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলছেন। সমাজকে এই দুটি ভয়াবহ সমস্যা থেকে মুক্ত করতে গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে এসএমপি।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। একই সঙ্গে থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করে জিডি ও মামলা-সংক্রান্ত সেবায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া রাতের টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বাড়ানো, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জনসম্পৃক্ত পুলিশিং জোরদার এবং অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, পুলিশ, গণমাধ্যম এবং সব শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য সিলেট মহানগর গড়ে তোলা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ও ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মো. মাসুদ রানা, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ ও অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিবি) মো. আক্তার হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম) মো. রিয়াজুল কবির, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক ও অতিরিক্ত দায়িত্বে সদর ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেনসহ সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, সিলেট প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
What's Your Reaction?