মানিলন্ডারিং মামলায় কারাগারে ব্যাংক কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ

মানিলন্ডারিং মামলায় ১০ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন বরিশাল সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এফএফএম সাইদুর রহমান। অথচ বিষয়টি জানেই না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বরং অফিসের খাতায় তিনি আছেন ছুটিতে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুই দফায় ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন এজিএম সাইদুর রহমান। এর মধ্যে একবার তিনি নিজে এবং দ্বিতীয়বার পরিবারের সদস্যরা এসে ছুটির আবেদন করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিসের জিএম এবং ডিজিএম মিলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে এজিএম কারাগারে থাকার বিষয়টি জেনেও তার দুই দফা ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন তারা। তবে তাদের দাবি- মানিলন্ডারিং মামলায় এজিএম সাইদুর রহমান কারাগারে গেলেও বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবগতি করেনি আদালত বা দুদক। যে কারণে বিষয়টির খোঁজ নেওয়ারও চেষ্টা করেননি তারা। জানা গেছে, ২০১১ সালে সোনালী ব্যাংকের বানারীপাড়া শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এএফএম সাইদুর রহমান। ওই সময় মানিলন্ডারিং করে গ্রাহকের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তদন্ত করে তা

মানিলন্ডারিং মামলায় কারাগারে ব্যাংক কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ

মানিলন্ডারিং মামলায় ১০ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন বরিশাল সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এফএফএম সাইদুর রহমান। অথচ বিষয়টি জানেই না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বরং অফিসের খাতায় তিনি আছেন ছুটিতে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুই দফায় ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন এজিএম সাইদুর রহমান। এর মধ্যে একবার তিনি নিজে এবং দ্বিতীয়বার পরিবারের সদস্যরা এসে ছুটির আবেদন করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিসের জিএম এবং ডিজিএম মিলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে এজিএম কারাগারে থাকার বিষয়টি জেনেও তার দুই দফা ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন তারা।

তবে তাদের দাবি- মানিলন্ডারিং মামলায় এজিএম সাইদুর রহমান কারাগারে গেলেও বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবগতি করেনি আদালত বা দুদক। যে কারণে বিষয়টির খোঁজ নেওয়ারও চেষ্টা করেননি তারা।

জানা গেছে, ২০১১ সালে সোনালী ব্যাংকের বানারীপাড়া শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এএফএম সাইদুর রহমান। ওই সময় মানিলন্ডারিং করে গ্রাহকের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়ে মামলা করে দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়। মামলা তদন্তাধীন থাকাবস্থায় পদোন্নতি পেয়ে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বরিশাল প্রিন্সিপাল অফিসের পশ্চিম শাখায় এজিএম পদে যোগদান করেন এএফএম সাইদুর রহমান।

দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দুদকের মানিলন্ডারিং মামলায় জামিন নিতে গত ৩০ জুন বরিশাল মহানগর আদালতে হাজির হন সাইদুর রহমান। এ সময় বিচারক তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে কারাগারেই রয়েছেন তিনি।

তবে তার কারাগারে থাকার বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবগত নন বলে দাবি করেছেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে বিস্তারিত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বিভাষ চন্দ্র হালদার জানেন।

তবে এজিএম সাইদুর রহমানের কারাগারে থাকার বিষয়টি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বিভাষ চন্দ্র হালদারও অবগত নন বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে গত ২৮ জুন ১০ দিনের ছুটির আবেদন করেন এজিএম সাইদুর রহমান। ২৯ জুন থেকে তার ছুটি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে ৮ জুন পুনরায় তার পরিবারের সদস্যরা এসে একই কারণ দেখিয়ে আরও পাঁচ দিনের ছুটির আবেদন জমা দেন। তার ১৫ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। যেহেতু তিনি ছুটিতে আছেন সে কারণে তার বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করিনি।

বিভাষ চন্দ্র হালদার বলেন, তিনি মানিলন্ডারিং মামলায় যে কারাগারে রয়েছেন সেটা লোকমুখে শুনেছি। যতটুকু জানা গেছে, মানিলন্ডারিংয়ের সহযোগী হিসেবে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন। তিনি বানারীপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক থাকাবস্থায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে সহযোগিতা করেছেন। তাছাড়া আদালত বা দুদকের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। ছুটি শেষে অফিসে যোগদান না করলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow