মামলায় প্রথম সাক্ষ্য দিলেন বোন, জেরা করলো আসামিপক্ষ
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহতের বোন ও মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগম। সাক্ষ্য শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন। এদিকে শুনানি শেষে নিহতের বোন ও মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগমকে বিচলিত অবস্থায় দেখা যায়। গণমাধ্যমের কর্মীরা তার বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি হতাশ হয়ে বিলাপ করতে থাকেন। পরবর্তীতে আইনজীবীরা তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আরও পড়ুন মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা / ভাই হত্যার বিচার, দুই শিশুর ভবিষ্যৎ ও বোনের লড়াই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম দিনে বাদী আদালতে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিচারকের সামনে তুলে ধরে সেগুলো যথাযথভাবে রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয়েছে। প
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহতের বোন ও মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগম। সাক্ষ্য শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
এদিকে শুনানি শেষে নিহতের বোন ও মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগমকে বিচলিত অবস্থায় দেখা যায়। গণমাধ্যমের কর্মীরা তার বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি হতাশ হয়ে বিলাপ করতে থাকেন। পরবর্তীতে আইনজীবীরা তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম দিনে বাদী আদালতে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিচারকের সামনে তুলে ধরে সেগুলো যথাযথভাবে রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয়েছে। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন বাদী।
শুনানির একপর্যায়ে বাদীকে তার ভাইকে নিয়ে একটি প্রশ্ন করা হলে তিনি ‘না’ বলে জবাব দেন।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রচণ্ড গরমসহ অন্যান্য কারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের সময়ের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সময় আবেদনের বিরোধিতা করে। পরে আদালত আগামী ১৩ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ বিলাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এর আগে আসামিপক্ষ মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করেছিল। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। ফলে বর্তমান আদালতেই বিচার কার্যক্রম চলবে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে বাদী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং আসামিপক্ষ তাকে জেরা করার সুযোগ পেয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও আসামিপক্ষ আদালত পরিবর্তনের আবেদন করায় সেদিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে আদালত বদলির আবেদন খারিজ করে বর্তমান আদালতেই বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই একই আদালত ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার প্রথম ১০ আসামি বর্তমানে কারাগারে, চারজন উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন এবং বাকি সাতজন পলাতক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল ব্যক্তি ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে পাথর দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরদিন নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে বর্তমানে ২১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলার বিচার চলছে।
এদিকে আসামিদেরও শুনানি শেষে আদালতের হাজত খানায় নেওয়ার সময় তাদের স্বজনদেরও ঘিরে ধরে বিভিন্ন কথা বলতে দেখা যায়।
এমডিএএ/এমআইএইচএস
What's Your Reaction?
