মার্কিন অবরোধে অন্ধকারে কিউবা, দৈনিক ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন

মার্কিন অবরোধ ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ কিউবা। দেশটিতে ডিজেল ও জ্বালানি তেলের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও। এর জেরে রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কিউবার জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে একেবারেই কোনো জ্বালানি তেল নেই, ডিজেলও নেই। জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। কোনো রিজার্ভও অবশিষ্ট নেই। তিনি জানান, বর্তমানে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেবল স্থানীয় অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভর করে চলছে। তবে জ্বালানির ঘাটতির কারণে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গত দুই বছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হলেও গ্রিড অস্থিতিশীল থাকায় উৎপাদন ও কার্যকারিতা কমে গেছে।  কিউবার রাজধানী হাভানায় চলমান দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সংকটে আগে থেকেই বিপর্যস্ত নগরীতে নতুন করে

মার্কিন অবরোধে অন্ধকারে কিউবা, দৈনিক ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
মার্কিন অবরোধ ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ কিউবা। দেশটিতে ডিজেল ও জ্বালানি তেলের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও। এর জেরে রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কিউবার জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে একেবারেই কোনো জ্বালানি তেল নেই, ডিজেলও নেই। জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। কোনো রিজার্ভও অবশিষ্ট নেই। তিনি জানান, বর্তমানে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেবল স্থানীয় অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভর করে চলছে। তবে জ্বালানির ঘাটতির কারণে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গত দুই বছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হলেও গ্রিড অস্থিতিশীল থাকায় উৎপাদন ও কার্যকারিতা কমে গেছে।  কিউবার রাজধানী হাভানায় চলমান দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সংকটে আগে থেকেই বিপর্যস্ত নগরীতে নতুন করে বেড়েছে জনঅসন্তোষ। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।  জ্বালানি আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যে কেউ আমাদের কাছে জ্বালানি বিক্রি করতে চাইলে কিউবা প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।  ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশের পর থেকে কিউবায় জ্বালানি পাঠানো দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই কিউবার বড় দুই তেল সরবরাহকারী দেশ মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলা তেল পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ডিসেম্বরের পর থেকে কেবল একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ কিউবায় অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করেছে, যা সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল। চার মাস ধরে চলা মার্কিন জ্বালানি অবরোধে প্রায় এক কোটি মানুষের দেশ কিউবার গণপরিবহন, বিদ্যুৎ ও জনসেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ সম্প্রতি এই অবরোধকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি কিউবার মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও উন্নয়নের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। সূত্র : রয়টার্স

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow