মালদ্বীপে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ওয়াটার ট্যাক্সি
মালদ্বীপের দ্বীপভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। সি-প্লেন ও প্রচলিত স্পিডবোটের বিকল্প হিসেবে দেশটিতে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক ওয়াটার ট্যাক্সি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামুদ্রিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেভিয়ার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জেআইএইচ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের যৌথ উদ্যোগে ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে মালদ্বীপে মোট ১০০টি বৈদ্যুতিক ওয়াটার ট্যাক্সি চালু করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালে পাঁচটি ‘নেভিয়ার এন৩০’ নৌযান চালু করা হবে। পরবর্তীতে আরও ৯৫টি নৌযান যুক্ত হবে। এই নৌযানগুলো উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তিতে পরিচালিত হবে, যা পানির ওপর ভেসে চলার সময় ঘর্ষণ কমিয়ে দ্রুত গতি, কম শক্তি ব্যবহার এবং আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করবে। ফলে যাত্রীদের জন্য এটি প্রচলিত স্পিডবোটের তুলনায় আরও শান্ত, মসৃণ এবং পরিবেশবান্ধব অভিজ্ঞতা দেবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মালদ্বীপে একটি সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিভিন্ন রিসোর্ট, ব্যক্তিগত দ্বীপ, ভিলা
মালদ্বীপের দ্বীপভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। সি-প্লেন ও প্রচলিত স্পিডবোটের বিকল্প হিসেবে দেশটিতে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক ওয়াটার ট্যাক্সি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামুদ্রিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেভিয়ার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জেআইএইচ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের যৌথ উদ্যোগে ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে মালদ্বীপে মোট ১০০টি বৈদ্যুতিক ওয়াটার ট্যাক্সি চালু করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালে পাঁচটি ‘নেভিয়ার এন৩০’ নৌযান চালু করা হবে। পরবর্তীতে আরও ৯৫টি নৌযান যুক্ত হবে।
এই নৌযানগুলো উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তিতে পরিচালিত হবে, যা পানির ওপর ভেসে চলার সময় ঘর্ষণ কমিয়ে দ্রুত গতি, কম শক্তি ব্যবহার এবং আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করবে। ফলে যাত্রীদের জন্য এটি প্রচলিত স্পিডবোটের তুলনায় আরও শান্ত, মসৃণ এবং পরিবেশবান্ধব অভিজ্ঞতা দেবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে মালদ্বীপে একটি সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিভিন্ন রিসোর্ট, ব্যক্তিগত দ্বীপ, ভিলা এবং স্থানীয় বসতিপূর্ণ দ্বীপগুলোর মধ্যে সহজ ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।
নেভিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সম্প্রীতি ভট্টাচার্য বলেন, মালদ্বীপে প্রায় প্রতিটি পর্যটক, কর্মী, রিসোর্ট এবং দ্বীপ কোনো না কোনোভাবে নৌযান বা সি-প্লেনের ওপর নির্ভরশীল। তাই দেশটি আধুনিক ও টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য একটি আদর্শ স্থান।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু নৌযান মোতায়েন করছি না; বরং পানির ওপর বিশ্বের প্রথম টেকসই বিলাসবহুল পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি।’
জেআইএইচ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানাহ বলেন, ‘মালদ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই বিলাসবহুল পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব জলপথ পরিবহন ব্যবস্থার পথপ্রদর্শক হওয়ারও সুযোগ রয়েছে দেশটির।’
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ মালদ্বীপের ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের অন্যান্য দ্বীপরাষ্ট্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জলপথ পরিবহনের একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এমআরএম
What's Your Reaction?