মা, পৃথিবীর প্রথম হাসপাতাল

মানুষ যখন পৃথিবীর আলো দেখে, তখন সে কোনো ভাষা জানে না, কোনো পরিচয় জানে না, এমনকি নিজের অস্তিত্বও বোঝে না। শুধু একটি স্পর্শ চিনতে শেখে, মায়ের স্পর্শ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে নির্ভরতার নাম, সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম ‘মা’। আমি একজন চিকিৎসক। প্রতিদিন হাসপাতালের বেডে অসংখ্য রোগী দেখি। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, দামি ওষুধ সবই আছে। কিন্তু এত কিছুর পরও একটি জিনিসের বিকল্প আজও আবিষ্কৃত হয়নি, সেটা হচ্ছে মায়ের স্নেহ। অনেক সময় দেখি, আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়াই করা একজন রোগী শেষ মুহূর্তে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে ‘মা’। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাহসের নামও মা, আবার সবচেয়ে বড় শান্তির নামও মা। একজন মা কখনো মেডিকেল কলেজে পড়েন না, তবুও সন্তানের মুখ দেখে বুঝে যান তার জ্বর এসেছে কিনা। তিনি কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নন, তবুও সন্তানের চোখের ভাষা পড়ে বুঝে ফেলেন তার কষ্ট। তিনি কোনো নার্স নন, তবুও রাতের পর রাত জেগে সন্তানের সেবা করে যান বিনা ক্লান্তিতে। চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি, পৃথিবীর প্রথম হাসপাতাল কোনো দালান ছিল না; সেটি ছিল মায়ের কোল। পৃথিবীর প্রথম ওষুধ ছিল মায

মা, পৃথিবীর প্রথম হাসপাতাল

মানুষ যখন পৃথিবীর আলো দেখে, তখন সে কোনো ভাষা জানে না, কোনো পরিচয় জানে না, এমনকি নিজের অস্তিত্বও বোঝে না। শুধু একটি স্পর্শ চিনতে শেখে, মায়ের স্পর্শ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে নির্ভরতার নাম, সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম ‘মা’।

আমি একজন চিকিৎসক। প্রতিদিন হাসপাতালের বেডে অসংখ্য রোগী দেখি। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, দামি ওষুধ সবই আছে। কিন্তু এত কিছুর পরও একটি জিনিসের বিকল্প আজও আবিষ্কৃত হয়নি, সেটা হচ্ছে মায়ের স্নেহ।

অনেক সময় দেখি, আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়াই করা একজন রোগী শেষ মুহূর্তে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে ‘মা’। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাহসের নামও মা, আবার সবচেয়ে বড় শান্তির নামও মা। একজন মা কখনো মেডিকেল কলেজে পড়েন না, তবুও সন্তানের মুখ দেখে বুঝে যান তার জ্বর এসেছে কিনা। তিনি কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নন, তবুও সন্তানের চোখের ভাষা পড়ে বুঝে ফেলেন তার কষ্ট। তিনি কোনো নার্স নন, তবুও রাতের পর রাত জেগে সন্তানের সেবা করে যান বিনা ক্লান্তিতে।

চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি, পৃথিবীর প্রথম হাসপাতাল কোনো দালান ছিল না; সেটি ছিল মায়ের কোল। পৃথিবীর প্রথম ওষুধ ছিল মায়ের হাতের স্পর্শ। আর প্রথম প্রার্থনা ছিল মায়ের নিঃশব্দ দোয়া।

আরও পড়ুন: 

আজকের এই ব্যস্ত পৃথিবীতে আমরা অনেকেই মাকে সময় দিতে ভুলে যাই। বৃদ্ধাশ্রমের নিঃসঙ্গ বারান্দায় বসে থাকা মায়েদের চোখে আমি যে অপেক্ষা দেখি, তা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সন্তানের ছোট্ট একটি ফোনকল, একটি খোঁজ নেওয়া, কিংবা পাশে বসে কিছুক্ষণ কথা বলা, এগুলোই তাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপহার।

মা দিবস শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করার দিন নয়। এটি আত্মসমালোচনার দিন। আমরা কি সত্যিই মায়ের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? যিনি আমাদের জীবনের প্রতিটি ব্যথা নিজের মাঝে ধারণ করেছেন, তার একাকীত্ব কি আমরা বুঝতে পারি? একজন মা তার সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেন নিঃশব্দে। সন্তানের হাসির জন্য নিজের কষ্ট লুকিয়ে রাখেন। পৃথিবীতে অনেক সম্পর্ক স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু মায়ের ভালোবাসা একমাত্র সম্পর্ক, যেখানে পাওয়ার চেয়ে দেওয়াই বেশি।

মা শুধু একজন মানুষ নন; তিনি একটি অনুভূতি, একটি ছায়া, একটি আশ্রয়। পৃথিবীর সব ভাষা মিলিয়েও ‘মা’ শব্দটির গভীরতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এই মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বিশেষ করে সেইসব মায়েদের প্রতি, যারা নীরবে সন্তানদের জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছেন প্রতিদিন। মায়েরা ভালো থাকুক। কারণ মা ভালো থাকলে পরিবার ভালো থাকে, সমাজ ভালো থাকে, পৃথিবীও সুন্দর হয়ে ওঠে।

লেখক
ডা. মো. সাঈদ হোসেন
কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান
মেডিসিন বিভাগ
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, মুন্সীগঞ্জ

 

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow