মিলেনিয়ালদের তুলনায় ভিন্নভাবে মদ্যপান করছে জেন-জি প্রজন্ম

ভারতের মুম্বাই, দিল্লি বা বেঙ্গালুরুর কোনো বারে শুক্রবার রাতে গেলে দেখা যায়, তরুণ-তরুণীরা শুধু মদ্যপানই করছেন না, বরং পানীয়ের উৎস, উপাদান ও প্রস্তুতপ্রণালি নিয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা আগের প্রজন্মের মতো শুধু মাতাল হওয়ার জন্য পান করছেন না; বরং পরিমিত ও সচেতনভাবে মদ্যপানকে বেছে নিচ্ছেন। ভারতের আতিথেয়তা খাতের উদ্যোক্তা রিয়াজ আমলানি বলেন, তরুণরা এখনো মদ্যপান করছে, তবে আগের তুলনায় আরও ভালো মানের পানীয় বেছে নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য আর মাতাল হওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে উপভোগ করা। বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডব্লিউএসআরের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে জেন-জিদের মধ্যে মদ্যপানের হার ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। মুম্বাইয়ের জনসংযোগ পেশাজীবী পূজা ভাটিয়া বলেন, আগে তিনি টেকিলা শট বা জ্যাগারমিস্টার বোম্ব পান করতেন। এখন তিনি পালোমা, পিকান্তে কিংবা টেকিলা অন দ্য রকস পছন্দ করেন। সপ্তাহে দুই-তিনবার পান করলেও তিনি তা কমানোর চেষ্টা করছেন। তার ভাষায়, হ্যাংওভার আমার একদম ভালো লাগে না। এতে কাজের ক্ষতি হয় এবং স্বাস্থ্যগত লক্ষ্যও ব্যাহত হয়। আর যদি একটি পানীয়ের জন্য ১ হাজ

মিলেনিয়ালদের তুলনায় ভিন্নভাবে মদ্যপান করছে জেন-জি প্রজন্ম

ভারতের মুম্বাই, দিল্লি বা বেঙ্গালুরুর কোনো বারে শুক্রবার রাতে গেলে দেখা যায়, তরুণ-তরুণীরা শুধু মদ্যপানই করছেন না, বরং পানীয়ের উৎস, উপাদান ও প্রস্তুতপ্রণালি নিয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা আগের প্রজন্মের মতো শুধু মাতাল হওয়ার জন্য পান করছেন না; বরং পরিমিত ও সচেতনভাবে মদ্যপানকে বেছে নিচ্ছেন।

ভারতের আতিথেয়তা খাতের উদ্যোক্তা রিয়াজ আমলানি বলেন, তরুণরা এখনো মদ্যপান করছে, তবে আগের তুলনায় আরও ভালো মানের পানীয় বেছে নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য আর মাতাল হওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে উপভোগ করা।

বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডব্লিউএসআরের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে জেন-জিদের মধ্যে মদ্যপানের হার ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।

মুম্বাইয়ের জনসংযোগ পেশাজীবী পূজা ভাটিয়া বলেন, আগে তিনি টেকিলা শট বা জ্যাগারমিস্টার বোম্ব পান করতেন। এখন তিনি পালোমা, পিকান্তে কিংবা টেকিলা অন দ্য রকস পছন্দ করেন। সপ্তাহে দুই-তিনবার পান করলেও তিনি তা কমানোর চেষ্টা করছেন।

তার ভাষায়, হ্যাংওভার আমার একদম ভালো লাগে না। এতে কাজের ক্ষতি হয় এবং স্বাস্থ্যগত লক্ষ্যও ব্যাহত হয়। আর যদি একটি পানীয়ের জন্য ১ হাজার ৫০০ রুপি খরচ করি, তাহলে সেটির পেছনে ভালো গল্প, উন্নত উপাদান ও মানসম্পন্ন মদ থাকা উচিত।

ভারতের অন্যতম মদ ও ওয়াইন বিশেষজ্ঞ নিখিল আগারওয়াল বলেন, জেন-জিদের মধ্যে ওয়াইন, টেকিলা ও জিনের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার রুপি দিয়ে টেকিলার বোতল কিনতে বা এক হাজার রুপির বেশি দামের ককটেল পান করতে আগ্রহী।

তার মতে, ভারতের প্রিমিয়াম অ্যালকোহল বাজারের সম্ভাবনা বিশাল। দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ মানুষও যদি প্রিমিয়াম মদ্যপান করেন, তাহলেও সেই সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ, যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

বিশ্বের শীর্ষ মদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ভারতের বাজারকে ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে। ডিয়াজিও ইন্ডিয়ার প্রধান বিপণন কর্মকর্তা রুচিরা জৈতলি বলেন, ভারতের বাজারে এখন শুধু বিক্রির পরিমাণ নয়, বরং অভিজ্ঞতা ও মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বেঙ্গালুরুর তরুণ বিপণনকর্মী সত্যভারাপু নিকিথা বলেন, তিনি মাসে একবারের বেশি মদ্যপান করেন না। বাইরে গেলে নতুন ধরনের ককটেল চেখে দেখতেই বেশি পছন্দ করেন।

তার মতে, আমার বন্ধুরা আনন্দ পেতে চায়, কিন্তু অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো মাতাল হতে চায় না। সেটাই আমাদের লক্ষ্য নয়।

মুম্বাইয়ের উদ্যোক্তা চিরাগ কাজালের কাছেও মদ্যপান মূলত সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম। তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যই তারা পানীয় গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, মায়া পিস্তোলা আগাভেপুরা ও পিসিও বারের প্রতিষ্ঠাতা রক্ষয় ধারিওয়াল মনে করেন, জেন-জি প্রজন্ম মিলেনিয়ালদের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় সামাজিক জীবন যাপন করে। তারা শুধু মদ্যপানের জন্য একত্রিত হয় না; কফিশপে আড্ডা, খেলাধুলা কিংবা অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নেয়।

আর্ডেন্ট অ্যালকোবেভের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দেবাশীষ শ্যাম বলেন, তারা অ্যালকোহলের বিরোধী নয়, বরং অতিরিক্ত মদ্যপানের বিরোধী।

মুম্বাইয়ের জনসংযোগকর্মী সাক্ষী ভাটিয়া জানান, তিনি বাইরে না গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বাসায় বসেই পান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কম থাকে।

কেরালার ২৫ বছর বয়সী ডেটা বিশ্লেষক শ্রীহরি টি.কে.ও স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে মদ্যপান কমিয়ে এনেছেন। তিনি এখন মাসে এক বা দুইবার পান করেন। তবে বিশেষ উপলক্ষে তুলনামূলক উন্নতমানের পানীয় বেছে নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জেন-জি প্রজন্মের মদ্যপানের সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা দ্রুত মাতাল হওয়ার বদলে ধীরে ধীরে পানীয় উপভোগ করতে চায়। ফলে কম অ্যালকোহলযুক্ত ককটেল ও প্রিমিয়াম পানীয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

পূজা ভাটিয়ার মতো অনেক তরুণ এখন ক্লাবের পরিবর্তে মানসম্পন্ন রেস্তোরাঁ বা ককটেল বারে যেতে পছন্দ করেন। তাদের কাছে মদ্যপান মানে শুধু নেশা নয়, বরং অভিজ্ঞতা, স্বাদ ও সামাজিক সংযোগের অংশ।

ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জেন-জি প্রজন্ম মদ্যপান কমাচ্ছে না; বরং নিজেদের শর্তে এবং আরও সচেতনভাবে মদ্যপানের নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow