মুক্ত করো লোহার পা: চলনাক্ষমতার বিরুদ্ধে অবস্থান
আনিফ রুবেদ কোনো একটা সময়ে নারীকে বেঁধে রাখার জন্য নাকি লোহার শেকল ব্যবহার করা হতো; তারই ধারাবাহিকতায় নূপুর-বলয় আর হাত-বলয়ের চল। কবি মাশরুরা লাকীর বইটির নাম দেখার সময়ই ওপরের কথাগুলো আমার ভাবনার ভেতর উঁকি দিচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিলো, ওসব লোহা ব্যবহার করতে করতে নারীর মনে-দেহে-প্রাণে একটা চলনাক্ষমতা গড়ে উঠেছে। যা তাদের সাবলীলভাবে চলতে দেয় না। আমার মনে হয়েছে এই ব্যাপারটিকেই কবি ‘লোহার পা’ শব্দযুগল দ্বারা প্রকাশ করেছেন এবং সেই অচলিষ্ণু অবস্থা থেকে মুক্ত হবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। আমার প্রাথমিক ধারণার সাথে কিছু মিল রয়েছে যেমন; তেমন আবার এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কবির ভাব আরও বেশিদূরেও এগিয়ে গেছে। কবি মাশরুরা লাকী যে কোনো চলনাক্ষমতার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন; শুধু নারীর গণ্ডির ভেতর ঘুরপাক খাননি। মাশরুরা লাকীর ‘মুক্ত করো লোহার পা’ বইয়ের কবিতার ভেতর কথা বলার রীতি অনেকটাই জটিল কিন্তু পাঠককে একেবারে ছিটকে পড়তে দেন না বরং কবিতার ভেতর এমন কিছু শব্দ বা শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, যা আমাদের মনে নতুন ভাব ও ভাষা সঞ্চার করে। যেমন- ‘নিঃসঙ্গ মস্তিষ্ক’, ‘ভেজা আগুন’, ‘দৃষ্টিকোপ’, ‘স্মৃতিঝিমঝিম’, ‘জন্তু-হৃদয়’, ‘রহস্যবাস্ত
আনিফ রুবেদ
কোনো একটা সময়ে নারীকে বেঁধে রাখার জন্য নাকি লোহার শেকল ব্যবহার করা হতো; তারই ধারাবাহিকতায় নূপুর-বলয় আর হাত-বলয়ের চল। কবি মাশরুরা লাকীর বইটির নাম দেখার সময়ই ওপরের কথাগুলো আমার ভাবনার ভেতর উঁকি দিচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিলো, ওসব লোহা ব্যবহার করতে করতে নারীর মনে-দেহে-প্রাণে একটা চলনাক্ষমতা গড়ে উঠেছে। যা তাদের সাবলীলভাবে চলতে দেয় না।
আমার মনে হয়েছে এই ব্যাপারটিকেই কবি ‘লোহার পা’ শব্দযুগল দ্বারা প্রকাশ করেছেন এবং সেই অচলিষ্ণু অবস্থা থেকে মুক্ত হবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। আমার প্রাথমিক ধারণার সাথে কিছু মিল রয়েছে যেমন; তেমন আবার এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কবির ভাব আরও বেশিদূরেও এগিয়ে গেছে। কবি মাশরুরা লাকী যে কোনো চলনাক্ষমতার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন; শুধু নারীর গণ্ডির ভেতর ঘুরপাক খাননি।
মাশরুরা লাকীর ‘মুক্ত করো লোহার পা’ বইয়ের কবিতার ভেতর কথা বলার রীতি অনেকটাই জটিল কিন্তু পাঠককে একেবারে ছিটকে পড়তে দেন না বরং কবিতার ভেতর এমন কিছু শব্দ বা শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, যা আমাদের মনে নতুন ভাব ও ভাষা সঞ্চার করে। যেমন- ‘নিঃসঙ্গ মস্তিষ্ক’, ‘ভেজা আগুন’, ‘দৃষ্টিকোপ’, ‘স্মৃতিঝিমঝিম’, ‘জন্তু-হৃদয়’, ‘রহস্যবাস্তব’, ‘ভাত-কারাগার’, ‘হস্তমৈথুনশিল্প’, ‘মাংসের পিঞ্জর’ প্রভৃতি শব্দ এবং শব্দযুগল তিনি ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন কবিতায়।
একটি কবিতায় তিনি বলছেন,
‘ভাষাবিপ্লবী না হলে নির্মাণে
স্বতন্ত্র স্বর তোমাকে ডাকবে না’
(আত্মপ্রেম)
এই কবিতার এ দুটি বাক্য দিয়েই কবির নির্মাণ-মেজাজের সাথে আমরা পরিচিত হতে পারি। আবার,
‘এ-প্রাণে মহাবিস্ফোরণ ঘটুক
খুব সন্নিকটে অসীমের গোলকধাঁধায়
হবো মিলিত।’
(দুটি ধর্মে একটি উচ্চারণ)
কবির স্বরে স্বাতন্ত্র্য আনা এবং বিপুল বিশ্বের সমান নিজেকে করে ফেলার এই আকাঙ্ক্ষা আমাদের বিস্মিত করে; এ বিস্মিতি আনন্দের।
প্রতীকীকে বাস্তব করার সোপান হিসেবে ব্যবহার করাটা বা করার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে ব্যক্ত করার ইচ্ছেটাও ভালো লাগে,
‘এসো হে-মুমূর্ষুজনগণ
ডালিম ফলের প্রতীকী-আমরা
লুটেরাদের রক্ত পান করি!’
(দ্রব্যমূল্য)
কবি মাশরুরা লাকীর কবিতা পাঠক থেকে পাঠকে সঞ্চারিত হোক আরও। ভালোবাসা কবির জন্য।
বইয়ের নাম: মুক্ত করো লোহার পা
কবির নাম: মাশরুরা লাকী
প্রকাশক: জাগতিক প্রকাশন
প্রকাশকাল: ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
মূল্য: ৩০০ টাকা।
এসইউ
What's Your Reaction?