মেসির শেষ বিকেলে ইয়ামালের নতুন সূর্যোদয়
শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দৃশ্যটি যেন দুই বিপরীত অনুভূতির ক্যানভাস। গ্যালারিতে ৮০ হাজার দর্শকের মাঝে কিছু গাঢ় লাল-মেরুন জার্সিতে স্প্যানিশ সমর্থকদের উন্মাতাল নাচ, পতাকার ঢেউ ও আনন্দাশ্রু। অন্য পাশে আকাশি-সাদা জার্সিতে নিশ্চুপ আর্জেন্টাইনরা—কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে, কেউ আবার তাকিয়ে লিওনেল মেসির দিকে। অথচ গ্যালারির অন্তত ৭০ শতাংশই ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থনে; ম্যাচের শুরুতে মেসিদের জন্য ওঠা গর্জন শেষ পর্যন্ত স্পেনের বিজয়োৎসবে চাপা পড়ে যায়।
ম্যাচটি শুধু স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই ছিল না; এটি ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসি ও ১৯ বছরের লামিনে ইয়ামালের দুই প্রজন্মের প্রতীকী দ্বৈরথ। সেই লড়াইয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন ইয়ামাল। পঞ্চম মিনিটেই তাঁর শট ঠেকান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিছুক্ষণ পর আরেকটি সুযোগ তৈরি করেন স্প্যানিশ তরুণ। প্রথমার্ধ তো ছিল “লামিনে ইয়ামাল শো”।
ইয়ামাল গোল বা অ্যাসিস্ট না পেলেও তাঁর উপস্থিতি আর্জেন্টিনার রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রেখেছে। ডান প্রান্তে বল পেলেই গতি পরিবর্তন, ভেতরের দিকে ঢুকে পড়া এবং দ্রুত পাসের মাধ্যমে তিনি স্পেনের আক্রমণে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছ
শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দৃশ্যটি যেন দুই বিপরীত অনুভূতির ক্যানভাস। গ্যালারিতে ৮০ হাজার দর্শকের মাঝে কিছু গাঢ় লাল-মেরুন জার্সিতে স্প্যানিশ সমর্থকদের উন্মাতাল নাচ, পতাকার ঢেউ ও আনন্দাশ্রু। অন্য পাশে আকাশি-সাদা জার্সিতে নিশ্চুপ আর্জেন্টাইনরা—কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে, কেউ আবার তাকিয়ে লিওনেল মেসির দিকে। অথচ গ্যালারির অন্তত ৭০ শতাংশই ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থনে; ম্যাচের শুরুতে মেসিদের জন্য ওঠা গর্জন শেষ পর্যন্ত স্পেনের বিজয়োৎসবে চাপা পড়ে যায়।
ম্যাচটি শুধু স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই ছিল না; এটি ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসি ও ১৯ বছরের লামিনে ইয়ামালের দুই প্রজন্মের প্রতীকী দ্বৈরথ। সেই লড়াইয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন ইয়ামাল। পঞ্চম মিনিটেই তাঁর শট ঠেকান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিছুক্ষণ পর আরেকটি সুযোগ তৈরি করেন স্প্যানিশ তরুণ। প্রথমার্ধ তো ছিল “লামিনে ইয়ামাল শো”।
ইয়ামাল গোল বা অ্যাসিস্ট না পেলেও তাঁর উপস্থিতি আর্জেন্টিনার রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রেখেছে। ডান প্রান্তে বল পেলেই গতি পরিবর্তন, ভেতরের দিকে ঢুকে পড়া এবং দ্রুত পাসের মাধ্যমে তিনি স্পেনের আক্রমণে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন। ম্যাচের আগেই ইয়ামালকে স্পেনের আক্রমণের “লাইটনিং রড” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল—যিনি নিজে গোল না করেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে টেনে নিয়ে সতীর্থদের জন্য জায়গা সৃষ্টি করেন। ফাইনালেও সেই প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
বিপরীতে মেসি ছিলেন অস্বাভাবিকভাবে নীরব। স্পেন মাঝমাঠ ও কেন্দ্রীয় পাসের পথ সংকুচিত করায় তিনি বিপজ্জনক জায়গায় বলই পাননি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি; মেসির প্রথম প্রচেষ্টাটি আসে অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে, সেটিও ব্লক হয়ে যায়। গোটা ম্যাচে স্পেনের ২০ শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র দুটি।
অবশ্য এই নিষ্প্রভতা শুধু মেসির ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়। আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা তাঁকে আক্রমণভাগে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে চাপ আরও বাড়ে। অবশেষে ১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড পাসে ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এনে দেন।
শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি উঠেছে যোগ্য দলের হাতেই। মেসি যেখানে ম্যাচের স্রোতে হারিয়ে গেছেন, ইয়ামাল৪ সেখানে প্রতিটি স্পর্শে ভবিষ্যতের বার্তা দিয়েছেন। মেটলাইফের আকাশি-সাদা বিষাদের মাঝখানে তাই স্পেনের লাল উৎসবটি হয়ে রইল শুধু একটি বিশ্বজয় নয়—ফুটবলের মশাল এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে এগিয়ে যাওয়ার রাত।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন বিশ্লেষণ ও খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হলে জানাতে একটি পর্যবেক্ষণ সেট করা যেতে পারে।