মেসি: সময়কে হার মানানো এক চলমান গল্প
বিষ্ময়কর? আশা করেননি এতটাও ভালো! নাকি অন্য কিছু! নাকি আপনি জানতেন ঠিক এমনটাই হবে। প্রথমত অবাক হওয়ার কি কোনো কারণ আছে? মনে তো হয় না। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি মাঠে নামবেন ফুটবল পায়ে সুন্দর দৃশ্যের চিত্রায়ন করবেন, গোল করবেন। এই তো, এতে অবাক হওয়ার আছেটা কি! তিনি তো এই কাজ গত দুই যুগ ধরেই করে চলেছেন। বয়স? সেটা তো কেবল সংখ্যা। ফলে অবাক নয়, মেসিকে উপভোগ করুন। জীবন আরও সুন্দর হবে। আগামী সপ্তাহের ঠিক আজকের দিনে মেসির বয়স হবে ৩৯! এটা পড়ার পর আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে আজ মেসির পারফরম্যান্সটা দেখুন। সরাসরি না দেখলে হাইলাইটস দেখুন। এবার একটু মিলিয়ে দেখুন তো মেলে কিন! কি বিষ্ময়কর লাগছে? লাগতেই পারে। তবে পাড় মেসি বা ফুটবল ভক্ত হলে লাগার কথা নয়। প্রায় ৩৯ বছর বয়সে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক। বাংলায় একটি বাঘধারা প্রচলিত আছে, ‘ফাইন ওয়াইন।’ অর্থাৎ সময় বা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আরও উন্নত বা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা। ২০০৬ সাল থেকে যিনি ফুটবলের সৌন্দর্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন, সময় যত এগিয়েছে, তার ধারও যেন আরও শাণিত হয়েছে। ক্যারিয়ারের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ তো ২০২২ সালেই জিতে গেছ
বিষ্ময়কর? আশা করেননি এতটাও ভালো! নাকি অন্য কিছু! নাকি আপনি জানতেন ঠিক এমনটাই হবে। প্রথমত অবাক হওয়ার কি কোনো কারণ আছে? মনে তো হয় না। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি মাঠে নামবেন ফুটবল পায়ে সুন্দর দৃশ্যের চিত্রায়ন করবেন, গোল করবেন। এই তো, এতে অবাক হওয়ার আছেটা কি! তিনি তো এই কাজ গত দুই যুগ ধরেই করে চলেছেন। বয়স? সেটা তো কেবল সংখ্যা। ফলে অবাক নয়, মেসিকে উপভোগ করুন। জীবন আরও সুন্দর হবে।
আগামী সপ্তাহের ঠিক আজকের দিনে মেসির বয়স হবে ৩৯! এটা পড়ার পর আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে আজ মেসির পারফরম্যান্সটা দেখুন। সরাসরি না দেখলে হাইলাইটস দেখুন। এবার একটু মিলিয়ে দেখুন তো মেলে কিন! কি বিষ্ময়কর লাগছে? লাগতেই পারে। তবে পাড় মেসি বা ফুটবল ভক্ত হলে লাগার কথা নয়। প্রায় ৩৯ বছর বয়সে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক। বাংলায় একটি বাঘধারা প্রচলিত আছে, ‘ফাইন ওয়াইন।’ অর্থাৎ সময় বা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আরও উন্নত বা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা। ২০০৬ সাল থেকে যিনি ফুটবলের সৌন্দর্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন, সময় যত এগিয়েছে, তার ধারও যেন আরও শাণিত হয়েছে।
ক্যারিয়ারের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ তো ২০২২ সালেই জিতে গেছেন। পুরো ক্যারিয়ারে আর অপূর্ণতা বলতে কিছু নেই। এরপরও কেন মেসি এবারের বিশ্বকাপ খেলছেন সেটা আবার প্রায় ৩৯ বছর বয়সে। সেটার উত্তর মিলে গেলো প্রথম ম্যাচেই। ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে প্রথম হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড জার্মান কিংবদন্তী মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাস বসানো- ৭৯ মিনিটে দুটোই করেছেন মেসি। পরের ম্যাচেই হয়তো এককভাবে রেকর্ড নিজের নামেও করে নেবেন। ফলে মেসির মতো ফুটবলারদের রেকর্ড সবসময়ই তাড়া করে বেড়ায়, সেটা ক্যারিয়ারের এই সায়ানলগ্নে এসেও।
এদিনই মেসি ২০ বছরের এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। যেদিন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছিলেন ২০ বছরের ব্যবধানে সেই একই দিনে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতাও হলেন। ১৬ জুন ২০০৬, বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। মাত্র ১৮ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে সেই গোল করে তিনি হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা। শুরু হয়েছিল এক কিংবদন্তির পথচলা। ঠিক ২০ বছর পর, একই ১৬ জুনে আবারও ইতিহাস লিখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এবার হয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্বকাপ গোলদাতা, য়স ৩৮ বছর ৩৫৮ দিন।
একই দিন, দুই ভিন্ন যুগে, দুই ভিন্ন পরিচয়ে মেসি। একদিকে বিস্ময় বালক, অন্যদিকে অভিজ্ঞ রাজা। ফুটবল ইতিহাসে এমন মিল খুবই বিরল। এই অনন্য কীর্তির মধ্য দিয়ে মেসি যেন নিজের ক্যারিয়ারেরই প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন। যা শুরু হয়েছিল ১৬ জুন, আর দুই দশক পর একই দিনেই তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, সময় শুধু বদলায়, মেসি বদলায় না।
এটাই হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ, কথাটা যত সহজে বলা যায় ততটা সহজ নয় হজম করার বেলায়। গত কয়েকদিন ধরে সেই ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায়। ফিফা ও মেসি নিজেই সেটা পোস্টও করেছেন। শেষ বেলায় যেন মেসি হয়ে উঠেছেন সেই লম্বা চুলের যৌবনের মেসি। যেন বিশ্বকাপ শেষে আবার আক্ষেপে না পোড়েন তাই শেষ বেলাতেই দেখাচ্ছেন কেমন ছিলেন পুরো ক্যারিয়ারে।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই যেন এক ভিন্ন গল্প লিখছিলেন লিওনেল মেসি। রদ্রিগো ডি পলের দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে মাঝমাঠে বল পেয়ে শুরু হয় সেই পরিচিত দৌড়। যেন পুরো মাঠজুড়ে একক অভিনয়ে এগিয়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ক্যামেরার ফ্রেমে তখন তিনি একদম কেন্দ্রবিন্দু, আর সতীর্থরা যেন সেই চলমান ছন্দের অংশ।
ম্যাচের ১৭তম মিনিট সেই ডি পলের পাস পেয়ে একটু এগিয়েই চীরচেনা সেই বাঁ পায়ের শট। যেটা চোখের পলকে পৌঁছে গেলো আলজেরিয়ার জালে। এর আগে অবশ্য একটু বাঁক নিলো। গোলরক্ষক লুকা জিদানকে দ্বিধায় ফেললো তবে জালে পৌঁছাতে ভুল করেনি। তার দ্বিতীয় গোলটা আসে দ্বিতীয়ার্ধে। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের নেওয়া একটি শট লুকা জিদান ফিরিয়ে দিলে সামনে থাকা মেসি আলতো টোকায় করে ফেলেন দ্বিতীয় গোল। সঙ্গে সঙ্গে ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে ভেসে ‘মেসি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায়।’
মেসির তৃতীয় গোলটি ছিল আবারও তার স্বাক্ষরবাহী মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে নিকো গঞ্জালেসের সঙ্গে ছোট পাসের সমন্বয়ে বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করেন তিনি। ফিরতি বল পেয়ে এক স্পর্শেই সেই পরিচিত বাঁকানো শটে বল পাঠান জালে, গোলকিপারের নাগালের বাইরে। এই গোলেই পূর্ণ হয় হ্যাটট্রিক।
লোকে বলে, একটা মানুষ কোথায় জন্মাবে, কীভাবে বড় হবে, কীভাবে তার জীবন কাটবে জীবনে কি কি করবে সবই নাকি সৃষ্টিকর্তার ঠিক করে দেওয়া। তবে এর মধ্যে কিছু মানুষের জীবনের চিত্রনাট্য মেসির মতোও হয়। যাদের জীবনের গল্প সৃষ্টিকর্তা যেভাবে লিখেছেন সেটা মেলা তো দূরের কথা কারো পক্ষে নকল করাও সম্ভব নয়।
আপনার প্রিয় ফুটবলার মেসি নাই বা হতে পারেন। আপনি আর্জেন্টিনার সমর্থক নাই বা হতে পারেন। ক্ষতি কোনোটতেই নেই। তবে আপনি যদি আসলেই ফুটবল ভক্ত হয়ে থাকেন আপনাকে মেসি ভক্ত হতেই হবে। এটা না হলে হয় আপনি স্বীকার করছেন না, আর না হয় ফুটবল হয়তো দেখেন কিন্তু ভক্ত হয়ে উঠতে পারেননি।
গত বিশ্বকাপ শেষ করেছিলেন দুই গোল দিয়ে, এবার শুরু করেন ৩ গোল দিয়ে। গতবার থেমেছিলেন বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। এবার দেখা যায় কোথায় থামেন!
এসকেডি/আইএন
What's Your Reaction?