মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটির প্রশাসক

বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। দুজনই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা। সামনে মেয়র নির্বাচনে দল থেকে নতুন কোনো প্রার্থী না দিয়ে তাদেরই মনোনয়ন দিতে পারে। দলীয় সূত্র বলছে এমনটি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক পদে আছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।  বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, বিএনপি মূলত ওই দুই নেতাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। এখন প্রশাসক হিসেবে সরকার তাদের নিয়োগ দিলেও, তারাই পরবর্তীসময়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাবেন। দল থেকে অঘোষিতভাবে তাদের ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই তারা বিএনপির প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই দুই প্রশাসক বা নেতাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরের দেওয়াল। তারা নিজেরাও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে গিয়ে আগামীতে মেয়র নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে দলের অন্য যেসব

মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটির প্রশাসক

বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। দুজনই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা। সামনে মেয়র নির্বাচনে দল থেকে নতুন কোনো প্রার্থী না দিয়ে তাদেরই মনোনয়ন দিতে পারে। দলীয় সূত্র বলছে এমনটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক পদে আছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
 
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, বিএনপি মূলত ওই দুই নেতাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। এখন প্রশাসক হিসেবে সরকার তাদের নিয়োগ দিলেও, তারাই পরবর্তীসময়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাবেন। দল থেকে অঘোষিতভাবে তাদের ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই তারা বিএনপির প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ওই দুই প্রশাসক বা নেতাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরের দেওয়াল। তারা নিজেরাও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে গিয়ে আগামীতে মেয়র নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

তবে দলের অন্য যেসব নেতা মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তারা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না তা নিয়ে অনেক হিসাব কষছেন। যদিও সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে, তার কোনো আলামত এখন পর্যন্ত নেই।

jagonews24ডিএসসিসির প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সালাম/ছবি: সংগৃহীত

তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও তার এ কথার কয়েকদিন পরই ওই দুই বিএনপি নেতাকে প্রশাসক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা)

ভবিষ্যতেও জনগণের সেবা করতে চান আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা। তিনি একসময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিবও ছিলেন। পরে ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়। এখন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে আছেন তিনি। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা পরিষদেও আছেন।

আরও পড়ুন

ঢাকা শহরকে নিজের আঙিনার মতো সাজাতে চাই: ডিএসসিসি প্রশাসক
কাজের মানে ছাড় নয়, সময় মতো উন্নয়নকাজ শেষ করতে হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক
যেখানে ভালো কাজ সেখানেই তারেক রহমান: ডিএনসিসি প্রশাসক
খতিয়ে দেখবো, এজাজের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হতে পারেন জামায়াতের ‘চমক’

২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন আবদুস সালাম। তিনি এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তখনই দলের অনেকেই বলছিলেন, নির্বাচনের পর আবদুস সালাম বড় কিছু পেতে যাচ্ছেন।

ডিএসসিসির সচিব দপ্তর সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএসসিসির মেয়র ছিলেন শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দুদিন আগে গোপনে দেশ ছাড়েন। এরপর করপোরেশনে বেশ কয়েকজন প্রশাসক (অতিরিক্ত পদমর্যাদার) নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান আবদুস সালাম।

জানা যায়, আবদুস সালাম করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত অফিস করছেন। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণের পাড়া-মহল্লায় ছুটে যাচ্ছেন। আবার আবদুস সালামও সিটি করপোরেশন আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গিয়ে ‘ভবিষ্যতে আপনাদের খেদমত করতে চাই’ বলে জনগণের দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন। 

jagonews24সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডিএনসিসির নতুন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান/ছবি: সংগৃহীত

‘আবদুস সালামকে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দেখতে চাই’ স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনে প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এখন এমন পোস্টার-ফেস্টুনে  ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন সড়ক, দেওয়াল ছেয়ে গেছে। এর মধ্যে গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, ফুলবাড়িয়া, মতিঝিল, নয়াপল্টনে এমন পোস্টার বেশি দেখা গেছে।

‘দল মনোনয়ন দিয়েই আমাকে এখানে (ডিএসসিসির প্রশাসক) দিছে। আগামীতে সিটি করোরেশন নির্বাচন করবো ইনশাল্লাহ।’—আবদুস সালাম, প্রশাসক, ডিএসসিসি

যদিও প্রশাসক হিসেবে আবদুস সালাম নিয়োগ পাওয়ার পরদিন (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তখন তার এ পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়; শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

আরও পড়ুন

জনগণের আস্থা অর্জন করে মেয়র নির্বাচন করবো: দক্ষিণ সিটির প্রশাসক
প্রধানমন্ত্রী মহানগর নিয়ে খুবই সিরিয়াস: ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকার দুই সিটিসহ ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক
প্রশাসক আব্দুস সালামকে স্বাগত জানালো ডিএসসিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন
জনগণের সহযোগিতায় ঢাকার সমস্যা সমাধান করতে চাই: প্রশাসক আবদুস সালাম

এমন পরিস্থিতিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির নগর ভবনে গিয়ে প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইশরাক হোসেন। ওই বৈঠকের পর ফেসবুকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তখন ব্যক্তিগত অভিপ্রায় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, দল মনোনয়ন দিলে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত হলে তবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক নেতা বলেন, ইশরাক হোসেনের ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর দলের হাইকমান্ড ব্যাপক বিরক্ত হয়। কারণ, কয়েকদিন আগেই তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য এবং পরে একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারপরও তার মেয়র হওয়ার খায়েশ যায়নি। ওই স্ট্যাটাসের পর তাকে আবদুস সালামের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই ইশরাক হোসেন নগর ভবনে গিয়ে আবদুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঢাকা-৬ আসনের নাগরিক বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
 jagonews24ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হিসেবে আব্দুস সালামের সমর্থনে রাজধানীতে লাগানো পোস্টার/ছবি: জাগো নিউজ

জানতে চাইলে আবদুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দল মনোনয়ন দিয়েই আমাকে এখানে (ডিএসসিসির প্রশাসক) দিয়েছে। আগামীতে সিটি করোরেশন নির্বাচন করবো ইনশাল্লাহ।’

দলীয় মনোনয়ন পেলেই প্রার্থী হবেন শফিকুল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে হারেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে হারেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএনসিসির মেয়র ছিলেন আতিকুল ইসলাম। ২০১৯ সালে তিনি এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে তিনি।
 
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মেয়াদপূর্তির পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে সুরাইয়া আখতার জাহানকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব। নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

‘নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই আমি কাজ করবো। যেহেতু রাজনীতি করি, নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে। দল যদি আমাকে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করে অবশ্যই নির্বাচন করবো।’—শফিকুল ইসলাম খান, প্রশাসক, ডিএনসিসি 

jagonews24ছবি: জাগো নিউজ

পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রশাসক পদে স্থলাভিষিক্ত হন শফিকুল ইসলাম খান। তিনিও ডিএনসিসির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গিয়ে ভবিষ্যতে নাগরিক সেবা করার সুযোগ চেয়ে দোয়া চাচ্ছেন। তবে কোথাও সরাসরি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হবেন এমন ঘোষণা দেননি।
 
জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই আমি কাজ করবো। যেহেতু রাজনীতি করি, নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে। দল যদি আমাকে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করে অবশ্যই নির্বাচন করবো।’
 
এমএমএ/এমএমকে/এএসএ/এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow