মোজতবা খামেনি কি চিকিৎসার জন্য রাশিয়া গেছেন?

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে চিকিৎসার জন্য রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে- এমন এক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেনি রুশ প্রেসিডেন্সি। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্যও করেনি তারা। একই সময়ে তেহরান থেকেও তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। শুধু একটি খবর সম্প্রচার করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়- তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের অন্যতম জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ জেনারেল মোহসেন রেজাইকে তার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। মস্কোয় সোমবার (১৬ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্সির (ক্রেমলিন) মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। বিবিসির এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদনের ওপর আমরা মন্তব্য করি না। কুয়েতভিত্তিক পত্রিকা আল-জারিদা খামেনির ছেলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তাকে একটি রুশ বিমানে করে মস্কোয় নেওয়া হয়। তেহরানে তার বাবাকে লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দফার হামলায় আহত হওয়ার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানে তার চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছিল না। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ আরও ত

মোজতবা খামেনি কি চিকিৎসার জন্য রাশিয়া গেছেন?

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে চিকিৎসার জন্য রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে- এমন এক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেনি রুশ প্রেসিডেন্সি। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্যও করেনি তারা।

একই সময়ে তেহরান থেকেও তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। শুধু একটি খবর সম্প্রচার করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়- তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের অন্যতম জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ জেনারেল মোহসেন রেজাইকে তার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

মস্কোয় সোমবার (১৬ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্সির (ক্রেমলিন) মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। বিবিসির এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদনের ওপর আমরা মন্তব্য করি না।

কুয়েতভিত্তিক পত্রিকা আল-জারিদা খামেনির ছেলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তাকে একটি রুশ বিমানে করে মস্কোয় নেওয়া হয়। তেহরানে তার বাবাকে লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দফার হামলায় আহত হওয়ার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানে তার চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছিল না।

এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। গতকালও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর ও দুবাই বিমানবন্দর, পাশাপাশি কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হরমুজ প্রণালির সংকট আরও গভীর হওয়ার মধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড যুদ্ধকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড-এর উপস্থিতি সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এ জাহাজকে সহায়তা প্রদানকারী লজিস্টিক কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার বক্তব্যে আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায়ও আগ্রহী নয় এবং ‘যুদ্ধকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ নিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, হামলা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না ট্রাম্প বুঝতে পারেন যে মার্কিনি ও ইরানিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া তার অবৈধ যুদ্ধ একটি ভুল পদক্ষেপ ছিল ও এটি কখনোই পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। এক জরুরি বৈঠক শেষে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ বা হুমকি থেকে নিঃশর্ত বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে, যার মধ্যে আঞ্চলিক প্রক্সি ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

বিবৃতিতে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা, ভূখণ্ড এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির প্রতি তাদের ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ পুনরায় তুলে ধরা হয়।

সূত্র: আল-জারিদা

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow