মৌলভীবাজারের অর্ধশতাধিক সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের পিচ, ইট ও বালু উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল সব খানাখন্দ। কোনো কোনো সড়ক গত ১৫-২০ বছরেও মেরামতের মুখ দেখেনি। ফলে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সবচেয়ে বেশি ভাঙাচোরা সড়কের মধ্যে রয়েছে, কুলাউড়া উপজেলা সদর-ফুলেরতল বাজার, ভায়া নবাবগঞ্জ বাজার সড়ক, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের লস্করপুর-লক্ষীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, জনতাবাজার-চৌধুরীবাজার সড়ক, রাউৎগাঁও ইউনিয়নে চৌধুরীবাজার-কালিটি সড়ক, চৌধুরী বাজার-কৌলা সড়ক, চৌধুরীবাজার-পশ্চিম মুকুন্দপুর সড়ক, চৌধুরীবাজার-ভবানীপুর-ঢুলিপাড়া সড়ক। অন্যদিকে, পৃথিমপাশা ও কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব রবিরবাজার-কর্মধা ইউনিয়ন সড়ক, সদপাশা-ইটাহরি সড়ক, সদপাশা-মুরইছড়া সড়ক, রাজনগর বাজার-ছৈদল বাজার সড়ক, টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও-বাগৃহাল সড়ক, নওয়াবাজার-গুদামঘাট সড়ক, নওয়াবাজার-রবিরবাজার সড়ক, টিলাগাঁও-গন্ডারগড়-তাজপুর সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ভাটের
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের পিচ, ইট ও বালু উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল সব খানাখন্দ। কোনো কোনো সড়ক গত ১৫-২০ বছরেও মেরামতের মুখ দেখেনি। ফলে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সবচেয়ে বেশি ভাঙাচোরা সড়কের মধ্যে রয়েছে, কুলাউড়া উপজেলা সদর-ফুলেরতল বাজার, ভায়া নবাবগঞ্জ বাজার সড়ক, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের লস্করপুর-লক্ষীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, জনতাবাজার-চৌধুরীবাজার সড়ক, রাউৎগাঁও ইউনিয়নে চৌধুরীবাজার-কালিটি সড়ক, চৌধুরী বাজার-কৌলা সড়ক, চৌধুরীবাজার-পশ্চিম মুকুন্দপুর সড়ক, চৌধুরীবাজার-ভবানীপুর-ঢুলিপাড়া সড়ক।
অন্যদিকে, পৃথিমপাশা ও কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব রবিরবাজার-কর্মধা ইউনিয়ন সড়ক, সদপাশা-ইটাহরি সড়ক, সদপাশা-মুরইছড়া সড়ক, রাজনগর বাজার-ছৈদল বাজার সড়ক, টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও-বাগৃহাল সড়ক, নওয়াবাজার-গুদামঘাট সড়ক, নওয়াবাজার-রবিরবাজার সড়ক, টিলাগাঁও-গন্ডারগড়-তাজপুর সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।
উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ভাটেরা-সিংহনাথ সড়ক, ভাটেরা মাইজগাঁও-নওয়াগাঁও সড়ক, কাদিপুর ইউনিয়নে মনসুর-আমতৈল সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শ্রীপুর-শেরপুর লিংক সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ রোড টু মিশন সড়ক, কুলাউড়া-মৌলভীবাজার রোড টু সিরাজনগর বাগান রোড, জয়চন্ডী ইউনিয়নের আছুরিঘাট-দিলদারপুর, জয়পাশা-কামারকান্দি সড়ক খানাখন্দে ভরা।
উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী হাজীপুর ইউনিয়নের মনু-তিলকপুর রোড টু ভুইগাঁও পোস্ট অফিস সড়ক, কটারকোনা বাজার-হাসিমপুর সড়ক, কটারকোনা বাজার-মনু স্টেশন ভায়া হাজীপুর ইউপি অফিস সড়ক, শরীফপুর ইউনিয়নে মনু-তিলকপুর, ভায়া নাছিরগঞ্জ বাজার সড়ক, নছিরগঞ্জ বাজার সিসি ঢালাই সড়ক, চাতলা চা বাগান ফ্যাক্টটি-নছিরগঞ্জ সড়কসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক সড়ক চলাচলের প্রায় অনুপযোগী।
চালকদের অভিযোগ, ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিদিন বিকল হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশার যন্ত্রাংশ।
সিএনজি চালক সিতার মিয়া ও হারুন মিয়াসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিচ্ছি, কিন্তু সড়ক মেরামত হয় না। আয়ের সিংহভাগ টাকা যদি গাড়ি মেরামতেই চলে যায়, তবে পরিবার চালাব কীভাবে?’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো এবং মানববন্ধন করার পরও কার্যত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এমন গাফিলতিকে ‘অব্যবস্থাপনা’ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে কুলাউড়া সদর-নবাবগঞ্জ সড়ক, লস্করপুর-লক্ষীপুর ও শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, চৌধুরীবাজার-কালিটি ও ভবানীপুর-ঢুলিপাড়া সড়ক, রবিরবাজার-কর্মধা ও সদপাশা-মুরইছড়া সড়ক, নওয়াবাজার-রবিরবাজার ও টিলাগাঁও-গন্ডারগড় সড়ক ও ভাটেরা-সিংহনাথ ও মনসুর-আমতৈল সড়কের অবস্থা প্রায় যানচলাচলের অনুপযোগী।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, ‘কুলাউড়ার অনেকগুলো সড়ক মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৬টি সড়কের কাজ চলমান আছে। আগামী জুন মাস নাগাদ বাকি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
What's Your Reaction?