যমুনার পাড়ে উপচেপড়া ভিড়

বগুড়ার ধুনটের ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর পাড়কে বেছে নিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। এলাকায় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নদীর বানিয়াজান স্পার (বাঁধ) এলাকা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদের চতুর্থ দিনেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে এ এলাকায়। এ উপজেলার বাসিন্দারা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রকৃতিপ্রেমীরা বানিয়াজান স্পার এলাকায় ভিড় করছেন। ঈদের দিন হতে প্রতিদিন দুপুর থেকে এ এলাকা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ঈদের আগের দিন থেকে যমুনা নদীর বানিয়াজান স্পার এলাকায় বসেছে অস্থায়ী মেলা; যা শিশুদের জন্য বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে। নাগরদোলা, নৌকার দোলনা, ময়ূরের রেল—শিশুদের দৌড়ঝাঁপে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে চারপাশ। ফুচকা, চানাচুর, আইসক্রিমের দোকানের পাশাপাশি চুড়ি-ফিতা ও বেলুনসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসেছে এই স্পটে। সব দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে যমুনার শীতল হাওয়ায় বেড়াতে এসেছেন। পরিচিতদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাও বিনিময় করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে কেউ অটোরিকশা, কেউ প্রাইভেট কার, কেউবা মোটরবাইক নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। শুষ্ক মৌসুমে যমুনার বুকে জেগে

যমুনার পাড়ে উপচেপড়া ভিড়

বগুড়ার ধুনটের ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর পাড়কে বেছে নিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। এলাকায় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নদীর বানিয়াজান স্পার (বাঁধ) এলাকা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদের চতুর্থ দিনেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে এ এলাকায়। এ উপজেলার বাসিন্দারা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রকৃতিপ্রেমীরা বানিয়াজান স্পার এলাকায় ভিড় করছেন। ঈদের দিন হতে প্রতিদিন দুপুর থেকে এ এলাকা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ঈদের আগের দিন থেকে যমুনা নদীর বানিয়াজান স্পার এলাকায় বসেছে অস্থায়ী মেলা; যা শিশুদের জন্য বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে। নাগরদোলা, নৌকার দোলনা, ময়ূরের রেল—শিশুদের দৌড়ঝাঁপে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে চারপাশ। ফুচকা, চানাচুর, আইসক্রিমের দোকানের পাশাপাশি চুড়ি-ফিতা ও বেলুনসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসেছে এই স্পটে। সব দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে যমুনার শীতল হাওয়ায় বেড়াতে এসেছেন। পরিচিতদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাও বিনিময় করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে কেউ অটোরিকশা, কেউ প্রাইভেট কার, কেউবা মোটরবাইক নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। শুষ্ক মৌসুমে যমুনার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীরা পরিবারসহ হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ নদীতে নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

এখানে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী তামান্না খাতুন বলেন, এলাকায় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। তবে যমুনা নদীর এ বাঁধে বসে গল্প ও আড্ডায় মেতে উঠি আমরা। বিশেষ করে সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের দৃশ্য মুগ্ধ করে। এ যেন প্রকৃতির এক সৌন্দর্য অনুভবের জায়গা। তবে ঈদকে ঘিরে দর্শনার্থী বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া এলাকার মেহেদী হাসান বলেন, এখানে এলে ভালো লাগে। এক মহাস্থানগড় আর কতবার দেখব! তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছি। নৌকায় ঘুরলাম, নাগরদোলায় উঠলাম—ভালো একটা বিকাল কাটালাম।

শেরপুর উপজেলার নব দম্পতি নয়ন-মৌ বলেন, প্রশাসন সুদৃষ্টি দিলে এখানে একটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। যেন শুধু ঈদ নয়, সারা বছর মানুষ অবসর সময় কাটাতে আসতে পারে।

বাবুল ইসলাম বলেন, ঈদের প্রথম দিন থেকে এখানে হাজারো মানুষের ঢল নামে। এতে আমাদের বেচাকেনাও ভালো হয়।

উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, এবার প্রথম বিনোদনের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমার ধারণা, ২০ হাজারের বেশি লোক সমাগম হয়েছে। এত লোক এর আগে ঈদে কখনও আসেনি।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন আলী বলেন, স্পার পূর্ণ নির্মাণ এবং বিনোদনকেন্দ্র করার জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আছে। পাশ হলে কাজ শুরু হবে।

এলবি/আরএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow