যাদের বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি তারাই এখন পাশে থাকছে না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্ষেপ করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছু দেশ তেমন একটা উৎসাহ দেখাচ্ছে না। আর এই তালিকায় এমন কিছু দেশ রয়েছে, যাদেরকে বহু বছর ধরে সাহায্য-সহায়তা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামুদ্রিক মাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিকে কার্যত বন্ধ। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ও চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই রুটে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা উদ্যোগে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশকে সহায়তার আহ্বান জানান। কিন্তু যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও স্পেনের মতো মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের আহ্বানে আশানুরূপ সাড়া দেয়নি। সোমবার (১৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এখনই তারা কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। জার্মানি, স্পেন ও ইতালি জানিয়েছে, অন্তত আপাতত উপসাগরীয় অঞ্চলে কোনো মিশনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। অন্যদিকে, কিছু দেশ আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক বলেছে, তারা কীভাবে সহায়তা করা যায় তা বিবেচনা করবে। তবে একই সঙ্গে

যাদের বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি তারাই এখন পাশে থাকছে না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্ষেপ করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছু দেশ তেমন একটা উৎসাহ দেখাচ্ছে না। আর এই তালিকায় এমন কিছু দেশ রয়েছে, যাদেরকে বহু বছর ধরে সাহায্য-সহায়তা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামুদ্রিক মাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিকে কার্যত বন্ধ। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ও চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই রুটে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা উদ্যোগে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশকে সহায়তার আহ্বান জানান। কিন্তু যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও স্পেনের মতো মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের আহ্বানে আশানুরূপ সাড়া দেয়নি।

সোমবার (১৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এখনই তারা কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। জার্মানি, স্পেন ও ইতালি জানিয়েছে, অন্তত আপাতত উপসাগরীয় অঞ্চলে কোনো মিশনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে, কিছু দেশ আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক বলেছে, তারা কীভাবে সহায়তা করা যায় তা বিবেচনা করবে। তবে একই সঙ্গে তারা সংঘাত কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলেছে, যাতে যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে না হয়।

এরপর হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, কিছু দেশ এতে খুবই উৎসাহী, আবার কিছু দেশ নয়। এমন কিছু দেশও আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি, ভয়াবহ বাইরের হুমকি থেকে তাদের আমরা রক্ষা করেছি, কিন্তু তারা তেমন উৎসাহ দেখাচ্ছে না। আর সেই উৎসাহের মাত্রা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, কিছু দেশ সহায়তা করতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে তিনি কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেননি। কোন দেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তা উল্লেখ না করে ট্রাম্প এমন একটি কথোপকথনের বর্ণনা দেন, যেখানে মনে হয়েছে তিনি সহায়তা চেয়েছিলেন কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা সম্ভবত এই উদ্যোগে সহায়তা করবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য, আমাদের এমন কিছু দেশ আছে যেখানে আমরা ৪৫ হাজার সেনা মোতায়েন করে রেখেছি। আমরা তাদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করছি ও খুব ভালো কাজ করেছি। তারপর আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের কি কোনো মাইন অপসারণকারী জাহাজ আছে? তারা বলল, স্যার, আমরা এতে জড়াতে চাই না।

এর আগে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপে আরও হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে সেখানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার পর তেহরান আরও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে তেহরান যুদ্ধ শেষ করতে কোনো গুরুতর আলোচনার জন্য প্রস্তুত কিনা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে তেলের দাম বেড়েছে ও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের মূল্যও বাড়তে শুরু করেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে ও নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাবনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow