যুক্তরাষ্ট্রকে এবার ৬ শর্ত দিলো ইরান, ভেংচি কাটলেন ভ্যান্স?

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কয়েক দফায় সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধ অচলাবস্থায় থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা করছে ইরান ও ওমান। হরমুজ ইস্যুতে দেশ দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে, হরমুজে জাহাজ পারাপার পুনরায় শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৬টি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) সচিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এবং ইরানের নির্ধারিত কয়েকটি দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শনিবার (৮ আগস্ট) বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও সংঘাত এখনও বন্ধ হয়নি বরং মাঝপথে আছে। ফক্স নিউজের সাংবাদিক কাইলি ম্যাকএনানিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, গত কয়েক দিনে আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি বলে আমি মনে করি। এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। তবে আলোচনাকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত হি

যুক্তরাষ্ট্রকে এবার ৬ শর্ত দিলো ইরান, ভেংচি কাটলেন ভ্যান্স?

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কয়েক দফায় সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধ অচলাবস্থায় থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা করছে ইরান ও ওমান। হরমুজ ইস্যুতে দেশ দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তবে, হরমুজে জাহাজ পারাপার পুনরায় শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৬টি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) সচিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এবং ইরানের নির্ধারিত কয়েকটি দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শনিবার (৮ আগস্ট) বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও সংঘাত এখনও বন্ধ হয়নি বরং মাঝপথে আছে। ফক্স নিউজের সাংবাদিক কাইলি ম্যাকএনানিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, গত কয়েক দিনে আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি বলে আমি মনে করি।

এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। তবে আলোচনাকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেন ভ্যান্স।

ভ্যান্স সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হওয়ার কাছাকাছি নয়; বরং ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড় আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই সংঘাত নিয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের SNSC-এর সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেন, কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তার আচরণ সংশোধন করতে হবে। এসব দাবি ইরানি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। যুদ্ধ হোক বা আলোচনা-সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এসব দাবি থেকে পিছু হটবে না।

রোববার (৯ আগস্ট) জোলঘাদরের এমন শর্ত সম্বলিত তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।

তিনি ইরানের ছয়টি শর্ত তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে-

১) ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা;

২) ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা;

৩) ইরানকে অবরোধে যুক্ত মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার করা;

৪) সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া;

৫) যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা;

৬) ইরানের জব্দ করা সম্পদ ও অর্থ মুক্ত করে দেওয়া

যুদ্ধ নিয়ে ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স বলেন, ‘এটি এখনও শেষ হয়নি। স্পষ্টতই এটি শুরুর পর্যায়েও নেই। আমরা এখন মাঝপথে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকান জনগণের জন্য সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করতে আমরা কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক-বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’

ভ্যান্সের এই মন্তব্যের আগে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি ‘বিকল্প পথ’ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ থেকে বের হতে বিকল্প পথ অনুসন্ধানের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় কেইন সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথ খোঁজার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এসব আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

একটি সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘কেইন একটি বিকল্প পথ খুঁজছেন।’

দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাটি আরও সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে যে, শুধু ইরানে অব্যাহত মার্কিন বিমান হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে।

কেইন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে, ইরানে বোমাবর্ষণ চালিয়ে তেহরানকে ট্রাম্পের শর্তে কোনো চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করা সম্ভবত কঠিন হবে। এর ফলে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা সামরিক বিকল্পগুলো নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আরও সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে এমন কিছু সামরিক বিকল্পও রয়েছে, যেগুলোর জন্য ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow