যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব ইরানের, বাড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে তারা কখনো মাথা নত করবে না। এতে করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
রোববার (১০ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব আমি পড়েছি। এটি আমার পছন্দ হয়নি, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মূলত আত্মসমর্পণের দাবি। এর জবাবে তেহরান যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
রোববার আলোচনার মধ্যেই কড়া অবস্থানের কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আমরা কখনো শত্রুর সামনে মাথা নত করব না। আলোচনা বা সংলাপের অর্থ আত্মসমর্পণ নয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে তারা কখনো মাথা নত করবে না। এতে করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
রোববার (১০ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব আমি পড়েছি। এটি আমার পছন্দ হয়নি, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মূলত আত্মসমর্পণের দাবি। এর জবাবে তেহরান যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
রোববার আলোচনার মধ্যেই কড়া অবস্থানের কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আমরা কখনো শত্রুর সামনে মাথা নত করব না। আলোচনা বা সংলাপের অর্থ আত্মসমর্পণ নয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তার ভাষায়, এখনও অনেক কাজ বাকি।
তিনি দাবি করেন, ইরান এখনো তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জমা দেয়নি, পারমাণবিক স্থাপনাও ভেঙে ফেলেনি। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবর্তে তেহরান আলাদা আলোচনা প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে কিছু ইউরেনিয়াম পাতলা করে এবং বাকিটা তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন চুক্তি থেকে সরে গেলে সেই ইউরেনিয়াম ফেরত দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, যেকোনো শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের নিশ্চয়তা দিক। তবে ইরান সীমিত সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে রাজি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ বছরের স্থগিতাদেশ মানতে রাজি নয়। এছাড়া পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্ত হিসেবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো রোববার কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান নাকি কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির লক্ষ্যে এ যাত্রার অনুমোদন দেয়। তবে এতে বাজারের উদ্বেগ খুব একটা কমেনি।
সোমবার (১১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাস তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে হয়েছে ১০৪ ডলার ৪৯ সেন্ট।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতার জানিয়েছে, তাদের জলসীমায় একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে। কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় শত্রু ড্রোন শনাক্তের কথা জানিয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিপক্ষ আবারও ভুল করলে অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার দাবি, ভবিষ্যতের যেকোনো আগ্রাসন এমন পর্যায়ে যাবে যা শত্রুর কল্পনারও বাইরে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রকাশ্যে না আসা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সামরিক অভিযানে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান যুদ্ধই হবে বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
ওয়াশিংটন চীনের ওপর চাপ দিচ্ছে, যাতে বেইজিং তেহরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রভাব খাটায়। তবে চীন এ বিষয়ে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা পর্যায়েই থাকতে পারে। অর্থাৎ, উভয় পক্ষ কেবল উত্তেজনা কমানো ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
গত সপ্তাহে চীন সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সে সময় চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র : সিএনবিসি নিউজ