যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন, স্পষ্ট নয় চূড়ান্ত উদ্দেশ্য

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের তিন সপ্তাহ পার হলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন হামলার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একাধিক উদ্দেশ্য সামনে রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে, তবে কোনো একক “এন্ডগেম” পরিষ্কার নয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন একদিকে ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস, নেতৃত্বকে দুর্বল করা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার মতো বিভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছে। তিন ধাপে যুদ্ধের কৌশলবিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধটি এখন পর্যন্ত তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়েছে—প্রথম ধাপ:শুরুর “শক অ্যান্ড অ’” কৌশলে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর নিহত হওয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পঙ্গু করা। দ্বিতীয় ধাপ:ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করতে আইআরজিসি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ঘাঁটি, পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর লক্ষ্য ছিল অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টি করা। তৃতীয় ধাপ:সাম্প্রতিক সময়ে জ্বাল

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন, স্পষ্ট নয় চূড়ান্ত উদ্দেশ্য

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের তিন সপ্তাহ পার হলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন হামলার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একাধিক উদ্দেশ্য সামনে রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে, তবে কোনো একক “এন্ডগেম” পরিষ্কার নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন একদিকে ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস, নেতৃত্বকে দুর্বল করা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার মতো বিভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছে।

তিন ধাপে যুদ্ধের কৌশল
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধটি এখন পর্যন্ত তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়েছে—
প্রথম ধাপ:
শুরুর “শক অ্যান্ড অ’” কৌশলে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর নিহত হওয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পঙ্গু করা।

দ্বিতীয় ধাপ:
ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করতে আইআরজিসি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ঘাঁটি, পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর লক্ষ্য ছিল অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টি করা।

তৃতীয় ধাপ:
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

সামরিক সক্ষমতায় বড় আঘাত
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনী ও ড্রোন সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আকাশসীমায় তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখনও প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি “ক্ষয়যুদ্ধ” চালাতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের বর্তমান ধারা উভয় পক্ষকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস কঠিন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এর জন্য স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ভিন্ন হতে পারে
বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য পুরোপুরি এক নয়।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে চায়
ইসরায়েল ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে আগ্রহী

এ কারণে ভবিষ্যতে এই দুই মিত্রের মধ্যে কৌশলগত পার্থক্য আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র- আলজাজিরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow