যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কালো দিন: ১ দিনেই ৫ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার একদিনেই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ঘটনাটিকে তারা “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য একটি কালো দিন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ডিফেন্স ফোর্স দেশের বিভিন্ন প্রদেশে সফলভাবে একাধিক লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, খোমেইন ও জানজান আকাশসীমায় দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসফাহানের আকাশে দুটি MQ-9 আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং বুশেহর অঞ্চলে একটি হারমিস ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। আইআরজিসি দাবি করে, এসব অভিযান তাদের নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে কাজ করছে। একই দিনে পৃথক একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে দেশের কেন্দ্রীয় আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক শত্রু যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। ওই বিমানের পাইলট নিরাপদে বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাকে খোঁজার অভিযান চলছে। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কালো দিন: ১ দিনেই ৫ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার একদিনেই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ঘটনাটিকে তারা “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য একটি কালো দিন” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ডিফেন্স ফোর্স দেশের বিভিন্ন প্রদেশে সফলভাবে একাধিক লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, খোমেইন ও জানজান আকাশসীমায় দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসফাহানের আকাশে দুটি MQ-9 আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং বুশেহর অঞ্চলে একটি হারমিস ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।

আইআরজিসি দাবি করে, এসব অভিযান তাদের নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে কাজ করছে।

একই দিনে পৃথক একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে দেশের কেন্দ্রীয় আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক শত্রু যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। ওই বিমানের পাইলট নিরাপদে বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাকে খোঁজার অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে Strait of Hormuz সংলগ্ন আকাশে একটি মার্কিন A-10 Warthog যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। বিমানটি লক্ষ্যবস্তু করার পর পারস্য উপসাগরের পানিতে বিধ্বস্ত হয় বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসি আরও সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও উন্নয়নের ফলে আগ্রাসী শক্তির যুদ্ধবিমানের জন্য ইরানের আকাশ ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠবে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের কথিত হামলার জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার আইআরজিসি ও ইরানের সেনাবাহিনী একাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তারা ৯৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা এবং পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদ।

এছাড়া, গত ১৯ মার্চ ইরান প্রথমবারের মতো F-35 Lightning II স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রতিহত করার দাবি করে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

গত এক মাসে আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—যেমন F-15, F-16 ও F-18—প্রতিরোধ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে আইআরজিসির বিবৃতিতে। একই সঙ্গে তারা জানায়, ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একাধিক MQ-9 Reaper ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইরানের যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এখন পর্যন্ত ১৫০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

সূত্র: presstv.

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow