যুদ্ধবিরতির আগেই ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের বাজি, তবুও চড়লো তেলের দাম

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর প্রভাবে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে তেলের দাম কমবে— এমন পূর্বাভাসে ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের বড় অঙ্কের বাজি ধরেন ট্রেডাররা। চলতি মাসে এটি তৃতীয় এবং মোট চতুর্থবারের মতো এমন বড় ও সময়োপযোগী বিনিয়োগ দেখা গেল, যা ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার ঠিক আগে করা হয়েছে। মার্চে এমন একক বাজির পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার, আর এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত এ ধরনের বাজির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার। গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ১৯:৫৪ থেকে ১৯:৫৬ জিএমটি সময়ের মধ্যে তেলবাজারে ৪,২৬০ লট বিক্রির অর্ডার আসে, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন ডলার। এই হিসাব করা হয়েছে তৎকালীন ব্রেন্ট ফিউচার দামের ভিত্তিতে, যা এলএসিজি-এর তথ্য

যুদ্ধবিরতির আগেই ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের বাজি, তবুও চড়লো তেলের দাম

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর প্রভাবে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে তেলের দাম কমবে— এমন পূর্বাভাসে ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের বড় অঙ্কের বাজি ধরেন ট্রেডাররা।

চলতি মাসে এটি তৃতীয় এবং মোট চতুর্থবারের মতো এমন বড় ও সময়োপযোগী বিনিয়োগ দেখা গেল, যা ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার ঠিক আগে করা হয়েছে। মার্চে এমন একক বাজির পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার, আর এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত এ ধরনের বাজির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ১৯:৫৪ থেকে ১৯:৫৬ জিএমটি সময়ের মধ্যে তেলবাজারে ৪,২৬০ লট বিক্রির অর্ডার আসে, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন ডলার। এই হিসাব করা হয়েছে তৎকালীন ব্রেন্ট ফিউচার দামের ভিত্তিতে, যা এলএসিজি-এর তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত। আর ২০:১০ জিএমটি সময় ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

ব্রেন্ট বাজার সাধারণত ১৮:৩০ জিএমটি সময় নিষ্পত্তি হয়। ফলে এই লেনদেনগুলো “পোস্ট-সেটেলমেন্ট” সময়ে হয়েছে, যখন সাধারণত লেনদেনের পরিমাণ খুবই কম থাকে।

এই বড় লেনদেনের তাৎক্ষণিক প্রভাব দামে খুব বেশি পড়েনি। তেলের দাম সামান্য কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০.৯১ ডলার থেকে ১০০.৬৬ ডলারে নেমে আসে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার দ্রুত নেমে মিনিটের মধ্যে ৯৬.৮৩ ডলারে পৌঁছে যায়। বুধবার জিএমটি সময় ১২টা পর্যন্ত দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৯.২ ডলার।

এর আগে গেল ২৩ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা বিলম্বের ঘোষণা দেওয়ার ১৫ মিনিট আগে অজ্ঞাতপরিচয় ট্রেডাররা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাজি ধরেন তেলের দাম কমার ওপর। একইভাবে ৭ এপ্রিল, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়।

আর ১৭ এপ্রিল, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা থাকবে বলে জানানোর প্রায় ২০ মিনিট আগে ৭৬০ মিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হয় তেলের দাম কমার পক্ষে।

১৫ এপ্রিল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত ট্রাম্পের বড় নীতিগত পরিবর্তনের ঠিক আগে করা এসব তেল ফিউচার লেনদেনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে।

সূত্র: রয়টার্স

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow