যেভাবে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হলো সিঙ্গাপুর, আমরা যা শিখতে পারি

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সবুজ নগর পরিকল্পনা, স্মার্ট প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন- এই চারটি বিষয় একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে সিঙ্গাপুর। একসময় প্রাকৃতিক সম্পদস্বল্প, দূষণ ও আবাসন সংকটে ভোগা ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র আজ টেকসই নগর উন্নয়নের বৈশ্বিক মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, সিঙ্গাপুর কীভাবে এই অবস্থানে পৌঁছালো ও বিশ্বের অন্য শহরগুলো এর কাছ থেকে কী শিখতে পারে? সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর বলা হয় শুধু ঝকঝকে রাস্তা বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে নয়। এর পেছনে রয়েছে কঠোর আইন প্রয়োগ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ অবকাঠামো, জনসচেতনতা, পানি পুনর্ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার সমন্বিত প্রয়াস। সংকট থেকেই শুরু টেকসই সিঙ্গাপুরের যাত্রা সিঙ্গাপুরের টেকসই উন্নয়নের গল্প শুরু হয়েছিল প্রাচুর্য থেকে নয়, বরং সীমাবদ্ধতা থেকে। বিষুবরেখার মাত্র এক ডিগ্রি উত্তরে অবস্থিত প্রায় ৭৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপদেশে রয়েছে তীব্র গরম, উচ্চ আর্দ্রতা ও ভারী বৃষ্টিপাত। দেশটিতে তেল, গ্যাস কিংবা প্রাকৃতিক মিঠাপানির হ্রদের মতো উল্লেখযোগ্য কোনো প্র

যেভাবে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হলো সিঙ্গাপুর, আমরা যা শিখতে পারি

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সবুজ নগর পরিকল্পনা, স্মার্ট প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন- এই চারটি বিষয় একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে সিঙ্গাপুর। একসময় প্রাকৃতিক সম্পদস্বল্প, দূষণ ও আবাসন সংকটে ভোগা ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র আজ টেকসই নগর উন্নয়নের বৈশ্বিক মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, সিঙ্গাপুর কীভাবে এই অবস্থানে পৌঁছালো ও বিশ্বের অন্য শহরগুলো এর কাছ থেকে কী শিখতে পারে?

সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর বলা হয় শুধু ঝকঝকে রাস্তা বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে নয়। এর পেছনে রয়েছে কঠোর আইন প্রয়োগ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ অবকাঠামো, জনসচেতনতা, পানি পুনর্ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার সমন্বিত প্রয়াস।

সংকট থেকেই শুরু টেকসই সিঙ্গাপুরের যাত্রা

সিঙ্গাপুরের টেকসই উন্নয়নের গল্প শুরু হয়েছিল প্রাচুর্য থেকে নয়, বরং সীমাবদ্ধতা থেকে। বিষুবরেখার মাত্র এক ডিগ্রি উত্তরে অবস্থিত প্রায় ৭৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপদেশে রয়েছে তীব্র গরম, উচ্চ আর্দ্রতা ও ভারী বৃষ্টিপাত। দেশটিতে তেল, গ্যাস কিংবা প্রাকৃতিক মিঠাপানির হ্রদের মতো উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। খাদ্য ও কাঁচামালের বড় অংশই আমদানি করতে হয়।

১৯৬৫ সালে স্বাধীনতার সময় সিঙ্গাপুরকে দূষণ, অপ্রতুল আবাসন, দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছিল। সীমিত ভূমি ও সম্পদের মধ্যে টিকে থাকতে হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প ছিল না। দেশটির নেতৃত্ব তখনই উপলব্ধি করেছিল, টেকসই উন্নয়ন বিলাসিতা নয়; বরং বেঁচে থাকার একমাত্র পথ।

সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ/ ছবি: এএফপি

এই প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউয়ের হাত ধরে জন্ম নেয় ‘গার্ডেন সিটি’ বা ‘বাগান নগরী’ ধারণা। শুরুতে এটি ছিল শহরজুড়ে গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকেন্দ্রিক উদ্যোগ। সময়ের সঙ্গে তা একটি গভীর টেকসই সংস্কৃতিতে রূপ নেয় ও বর্তমানে ‘সিঙ্গাপুর গ্রিন প্ল্যান ২০৩০’-এর মাধ্যমে একটি স্বল্প-কার্বন, সহনশীল ও বাসযোগ্য স্মার্ট নগর গঠনের জাতীয় রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।

কঠোর আইন ও সামাজিক সংস্কৃতি

সিঙ্গাপুরের পরিচ্ছন্নতা হঠাৎ করেই চলে আসেনি। কঠোর আইন ও কার্যকর প্রয়োগের ফলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। ময়লা ফেলা, থুতু ফেলা, এমনকি চুইংগাম ব্যবহারের মতো বিষয়ও সেখানে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। আইন ভঙ্গকারীদের বড় অঙ্কের জরিমানা, জনসমক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করার নির্দেশ ও সামাজিকভাবে লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়।

তবে শুধু আইন দিয়েই এই সাফল্য আসেনি। পরিচ্ছন্নতাকে সেখানে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে পরিণত করা হয়েছে। স্কুল, কর্মক্ষেত্র এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি, পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে প্রচারণা চালায়। ছোটবেলা থেকেই নাগরিকরা শিখে যে পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সবার যৌথ দায়িত্ব।

সবুজ স্থাপত্যে গড়া একটি নগর

সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ভবনের গায়ে ঝুলে থাকা উল্লম্ব বাগান, ছাদবাগান, আকাশসেতুর সঙ্গে যুক্ত সবুজ পার্ক এবং ছায়াঘেরা হাঁটার পথ। দেশটির ‘গ্রিন মার্ক’ সার্টিফিকেশন কর্মসূচির মাধ্যমে নির্মাতাদের এমন ভবন তৈরিতে উৎসাহিত করা হয়, যেখানে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং জ্বালানি খরচ কমে।

টেকসই স্থাপত্যের অন্যতম উদাহরণ ন্যাশনাল গ্যালারি সিঙ্গাপুর। এর ছাদে তৈরি সবুজ বাগান তাপমাত্রা কমায়, ভবনের তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং নগরের কেন্দ্রে একটি শীতল ক্ষুদ্র আবহাওয়া সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

সিঙ্গাপুরের আর্টসায়েন্স মিউজিয়ামের পুকুর পরিষ্কার করছেন এক কর্মী/ ২০২২ সালের ২ আগস্টে তোলা ছবি/ এএফপি 

বিশ্বখ্যাত মেরিনা বে স্যান্ডসও সিঙ্গাপুরের সবুজ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক। তিনটি টাওয়ারের ওপর নৌকার মতো আকৃতির ছাদবিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সের আশপাশের বহু অফিস ও আবাসিক ভবনে রয়েছে ছাদবাগান, জ্বালানি-সাশ্রয়ী নকশা এবং প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা। ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়া সত্ত্বেও এখানে প্রকৃতি ও স্থাপত্য এমনভাবে মিশে গেছে যে অনেক সময় নগর জীবনের ঘনত্ব অনুভবই করা যায় না।

পানিসংকটকে শক্তিতে রূপান্তর

প্রাকৃতিক মিঠাপানির উৎস না থাকলেও পানি ব্যবস্থাপনায় সিঙ্গাপুর বিশ্বে অন্যতম সফল উদাহরণ। দেশটি ‘ফোর ন্যাশনাল ট্যাপস’ বা চার উৎসভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, আমদানিকৃত পানি, লবণমুক্তকরণ এবং উচ্চমাত্রায় পরিশোধিত পুনর্ব্যবহৃত পানি ‘নিউওয়াটার’। এসব ব্যবস্থার ফলে খরার সময়েও দেশটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে পারে।

নিউওয়াটার প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যপানি পরিশোধন করে উচ্চমানের পানীয় জলে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে পানি ব্যবহার টেকসই হয়েছে এবং দূষণ কমেছে।

একইভাবে মেরিনা ব্যারেজ একসঙ্গে মিঠাপানির জলাধার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সমুদ্রের পানি ঠেকিয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হয়, যা একদিকে পানির সংকট মোকাবিলা করে, অন্যদিকে নিচু এলাকার বন্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। আবার এটি সাধারণ মানুষের জন্য জনপ্রিয় পার্ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বর্জ্য থেকে শক্তি, শক্তি থেকে নতুন সম্পদ

সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। গৃহস্থালির অধিকাংশ বর্জ্য পোড়ানো হয় এবং সেখান থেকে উৎপন্ন ছাই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব কৃত্রিম দ্বীপ ‘সেমাকাউ ল্যান্ডফিল’।

দেশটি ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা শূন্য বর্জ্য লক্ষ্যে এগোচ্ছে। সীমিত জমির কারণে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করাই তাদের কৌশল। ‘তুয়াস নেক্সাস’ বিশ্বের প্রথম দিকের এমন একটি কেন্দ্র, যেখানে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন এবং পানি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম একত্রে পরিচালিত হয়। খাদ্যবর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় সেখানে।

এ ছাড়া পোড়ানো বর্জ্যের ছাই থেকে ‘নিউস্যান্ড’ নামে নির্মাণসামগ্রী তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে নগর পরিবেশ প্রায় একটি চক্রাকার অর্থনীতির মতো কাজ করে, যেখানে এক খাতের বর্জ্য অন্য খাতের সম্পদে পরিণত হয়।

স্মার্ট প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি

জমির স্বল্পতার কারণে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সম্ভব না হলেও সিঙ্গাপুর ভাসমান সৌর প্যানেল এবং সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। পুংগল ডিজিটাল ডিস্ট্রিক্টের মতো নতুন এলাকাগুলোকে স্মার্ট ও টেকসই নগর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে জেলা-ভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ভবন এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ কমাতে।

এমনকি রাস্তার বাতিগুলোও স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর। পথচারীর উপস্থিতি অনুযায়ী আলোর উজ্জ্বলতা পরিবর্তিত হয়, ফলে নিরাপত্তা বজায় রেখেই শক্তি সাশ্রয় সম্ভব হয়।

ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে গণপরিবহনকেন্দ্রিক নগরব্যবস্থা

সিঙ্গাপুরে চলাচল সহজ, সুবিধাজনক এবং পরিবেশবান্ধব। ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’-এর মতো নীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অত্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে।

দেশটির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট যাত্রার ৭৫ শতাংশই গণপরিবহন বা সক্রিয় পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্য পূরণে এমআরটি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নতুন সাইকেলপথ নির্মাণ চলছে। মেরিনা বে ও গার্ডেনস বাই দ্য বে-এর মতো এলাকাগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে মানুষ গাড়ি ছাড়াই সহজে চলাচল করতে পারে।

মানুষের জন্য টেকসই জনপরিসর

সিঙ্গাপুরের বিশেষত্ব শুধু অবকাঠামোতে নয়; বরং জনজীবনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়নকে যুক্ত করার মধ্যেও। পার্ক, জলতীরবর্তী হাঁটার পথ এবং শিল্পকেন্দ্রগুলো শুধু সৌন্দর্য বা বিনোদনের জন্য নয়, বরং বাতাস ঠান্ডা রাখা, বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের মতো পরিবেশগত কাজও করে।

এর অন্যতম উদাহরণ গার্ডেনস বাই দ্য বে। এখানে বিশালাকার ‘সুপারট্রি’ কাঠামোগুলো উল্লম্ব বাগান হিসেবে কাজ করে, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে এবং সৌরশক্তি উৎপাদন করে। রাতে সেই সংরক্ষিত শক্তির অংশ ব্যবহার করে ‘গার্ডেন র‌্যাপসোডি’ আলোক প্রদর্শনী পরিচালিত হয়। প্রকৃতি, প্রযুক্তি এবং নকশার এই সমন্বয়ই সিঙ্গাপুরের নগর উন্নয়ন দর্শনের প্রতীক।

সিঙ্গাপুর থেকে আমরা যা শিখতে পারি

সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু আইন করলেই পরিচ্ছন্ন শহর তৈরি হয় না; পরিবেশের প্রতি সম্মানবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হয়। শিশুদের ছোটবেলা থেকে টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হয়। নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। একই সঙ্গে পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি পরিশোধনের মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

একটি পরিচ্ছন্ন শহরের সুফলও বহুমাত্রিক। এতে জনস্বাস্থ্য উন্নত হয়, পর্যটন আকর্ষণ বাড়ে, মানুষের মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি পায় এবং নাগরিকদের মধ্যে গর্ব ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

সিঙ্গাপুরের গল্প মূলত দূরদৃষ্টি, শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার গল্প। পানিসংকট থেকে শুরু করে সবুজ স্থাপত্য, স্মার্ট প্রযুক্তি থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তারা ভবিষ্যতের নগর উন্নয়নের নকশায় রূপ দিয়েছে।

সিঙ্গাপুর দেখিয়ে দেয়, টেকসই উন্নয়ন মানে ত্যাগ নয়; বরং বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার সমন্বয়। আর সঠিক শাসন, উদ্ভাবন ও নাগরিক সহযোগিতা থাকলে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলা কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবও হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি, মিডিয়াম, ইকো বিএনবি, সেন্টার ফর লাইভঅ্যাবল সিটিজ নলেজ হাব

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow