রাজধানীর আশপাশে বিদ্রোহীদের চেকপোস্ট, উত্তরের শহর দখল

মালির রাজধানী বামাকোর আশপাশে চেকপোস্ট স্থাপন করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এছাড়া তারা উত্তরের একটি শহর দখল করে নিয়েছে। আল-কায়েদাঘনিষ্ঠ বিদ্রোহী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। শুক্রবার (০১ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদাঘনিষ্ঠ জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) যোদ্ধারা মালির রাজধানী বামাকোর চারপাশে চেকপোস্ট বসিয়েছে এবং উত্তরের তেসালিত শহরটি দখল করেছে। শুক্রবার রয়টার্স জানিয়েছে, জেএনআইএম মালির জনগণকে ‘জান্তা সরকারকে উৎখাত’ করার জন্য উঠেপড়ে লাগার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসলামি শরিয়াহ আইন গ্রহণের কথা বলেছে। জেএনআইএম এবং আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএ) তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এ তথ্য সামনে এসেছে। শুক্রবার স্থানীয় কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, তেসালিতের আমাচাচ ঘাঁটির ভেতরে সশস্ত্র যোদ্ধারা অবস্থান করছে এবং বেশ কয়েকটি সামরিক যান চলাচল করছে। রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, যোদ্ধারা শহরের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এফএলএর পতাকা উত্

রাজধানীর আশপাশে বিদ্রোহীদের চেকপোস্ট, উত্তরের শহর দখল

মালির রাজধানী বামাকোর আশপাশে চেকপোস্ট স্থাপন করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এছাড়া তারা উত্তরের একটি শহর দখল করে নিয়েছে। আল-কায়েদাঘনিষ্ঠ বিদ্রোহী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

শুক্রবার (০১ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদাঘনিষ্ঠ জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) যোদ্ধারা মালির রাজধানী বামাকোর চারপাশে চেকপোস্ট বসিয়েছে এবং উত্তরের তেসালিত শহরটি দখল করেছে। শুক্রবার রয়টার্স জানিয়েছে, জেএনআইএম মালির জনগণকে ‘জান্তা সরকারকে উৎখাত’ করার জন্য উঠেপড়ে লাগার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসলামি শরিয়াহ আইন গ্রহণের কথা বলেছে।

জেএনআইএম এবং আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএ) তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এ তথ্য সামনে এসেছে। শুক্রবার স্থানীয় কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, তেসালিতের আমাচাচ ঘাঁটির ভেতরে সশস্ত্র যোদ্ধারা অবস্থান করছে এবং বেশ কয়েকটি সামরিক যান চলাচল করছে।

রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, যোদ্ধারা শহরের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এফএলএর পতাকা উত্তোলন করছে।

উত্তর মালির স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত আজাওয়াদ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ কিছু গণমাধ্যম জানায়, সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পসের সদস্যরা ঘাঁটি থেকে সরে যাওয়ার পর যোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। মালির সামরিক শাসিত সরকারের প্রধান বিদেশি সমর্থক দেশ রাশিয়া।

বৃহস্পতিবার জেএনআইএম দাবি করেছে, তারা মধ্য মালির হোম্বোরি ঘাঁটি দখল করেছে এবং বামাকোর কাছে দুটি চেকপোস্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর আগে তারা শহরটিকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার হুমকিও দিয়েছিল।

রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোম্বোরি ঘাঁটি পরিত্যাগের বিষয়ে জেএনআইএমের দাবি ‘সত্য নয়’। তারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাদের হেলিকপ্টার হোম্বোরির একটি ঘাঁটিতে মালির সেনাদের কাছে গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াইয়ে আহত মালিয়ান সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেএনআইএম এবং এফএলএ পুনর্গঠিত হচ্ছে, রুশ সশস্ত্র বাহিনীর আফ্রিকান কর্পস ও মালির সেনাবাহিনীর ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং মালির সেনাবাহিনীর মনোবল দুর্বল করতে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।

সেনেগালের ডাকার থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নিকোলাস হাক জানান, বিদ্রোহীদের অগ্রগতির বিষয়ে মালির সেনাবাহিনীর কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকাটা বিস্ময়কর। দেশটির উত্তরে চারটি বড় সামরিক ঘাঁটি এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। মনে হচ্ছে, উত্তরে মালির বাহিনী কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলছে না।

মালির সামরিক নেতারা ২০২০ ও ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। দেশটিতে এর মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য বেসামরিক শাসন ছিল। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow