রাজনগরে বন্যা: এক বাড়ির ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন

বন্যায় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওর পারের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের কামাল মুন্সির বাড়ির ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। এদিকে বন্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার কারণে কেউ সহায়তা নিয়ে যেতে পারছেন না। আবার সাহায্যের জন্য তারাও কোথাও কাছে যেতে পারছেন না, এমন খবর শুনে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক ও রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে একটি টিম গিয়ে তাদের কাছে নগদ অর্থসহ ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন। কামাল মুন্সির বাড়ির ওই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা হলেন- ফখরুল মিয়া, কামাল মুন্সি, সোহান মিয়া, সুপি বেগম, শারমিন বেগম, জগলু মিয়া, ফাইজা বেগম, সাজক মিয়া, আনিকা, লাউল মিয়া ও আকবর আলী।  অন্যদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা লাগাটা নদীর ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বাড়িটির চারপাশ পানিতে তলিয়ে যায়। ঘরের ভেতর আশ্রয় নিয়ে থাকা এসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় তারা চরম বিপদের মধ্যে দিন পার করছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সুফি বেগম বলেন, চারদিকে পানির কারণে কো

রাজনগরে বন্যা: এক বাড়ির ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন

বন্যায় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওর পারের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের কামাল মুন্সির বাড়ির ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

এদিকে বন্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার কারণে কেউ সহায়তা নিয়ে যেতে পারছেন না। আবার সাহায্যের জন্য তারাও কোথাও কাছে যেতে পারছেন না, এমন খবর শুনে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক ও রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে একটি টিম গিয়ে তাদের কাছে নগদ অর্থসহ ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন।

কামাল মুন্সির বাড়ির ওই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা হলেন- ফখরুল মিয়া, কামাল মুন্সি, সোহান মিয়া, সুপি বেগম, শারমিন বেগম, জগলু মিয়া, ফাইজা বেগম, সাজক মিয়া, আনিকা, লাউল মিয়া ও আকবর আলী। 

অন্যদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা লাগাটা নদীর ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বাড়িটির চারপাশ পানিতে তলিয়ে যায়। ঘরের ভেতর আশ্রয় নিয়ে থাকা এসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় তারা চরম বিপদের মধ্যে দিন পার করছেন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সুফি বেগম বলেন, চারদিকে পানির কারণে কোনো কাজ করতে পারি না। আগে মানুষের বাড়িতে অন্ধত্ব নিয়েও কাজে যেতাম, কিছু সাহায্য নিয়ে চলতে পারতাম। বন্যা আসার পর থেকে বড় কষ্টে আছি। কেউ সাহায্য নিয়ে আসতে পারে না। আমিও কারো বাড়ি যেতে পারিনা। এক বেলা খেলে আরেক বেলা আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কামাল মুন্সি বলেন, আমরা জন্মের পর থেকে অন্ধ। ডাক্তার জানান আমাদের দৃষ্টি ফিরে আসবে না। এরপর থেকে আমাদের আর চিকিৎসা হচ্ছে না।

স্থানীয় সমাজসেবক সুমন আহমদ বলেন, বন্যার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তাদের কাছে সহজে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ওই ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মধ্যে ৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পান। বাড়ির চারদিকে পানি থাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। যোগাযোগের কারণে কোনো সামাজিক সংগঠন এগিয়ে আসতে পারছে না। 

রাজনগর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ওই ১১ জনের মধ্যে ৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। বাকি ৩ জনের আবেদন না থাকায় দেওয়া যাচ্ছে না। আবেদন করা হলে আমরা দ্রুত নেব। আমরা সাধ্যমতো তাদের সাহায্যের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারি কোনো সুযোগ এলে তাদের জন্য আলাদা করে প্রদানের চেষ্টা করা হবে। 

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, আমরা খবর শোনার পর বন্যা সহায়তা পৌঁছিয়ে দিয়েছি। তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসব।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেলের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের বাড়িতে গিয়েছি। সেখানে তিনটি পরিবারকে ৫৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা কাজ করব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow