রাজবাড়ীর পথে আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া
ঋতুর পালাবদলে বসন্ত বিদায় নিয়েছে, তবু প্রকৃতি যেন এখনো রঙ ছড়াতে ভোলেনি। দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুটেছে আগুনরাঙা ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল রঙের এই মিতালি তৈরি করেছে এক মায়াবী দৃশ্য— যেন প্রকৃতি নিজেই বিছিয়ে দিয়েছে লাল গালিচা। বাংলাদেশ হ্যাচারি এলাকা থেকে ফেরিঘাট বাইপাস সড়ক পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে এই দৃশ্য এখন পথচারী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। মাথার উপর ফুলে ভরা ডালপালা, আর নিচে ঝরে পড়া পাপড়ির স্তর— সব মিলিয়ে পুরো সড়ক যেন এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজন ভিড় করছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে— সবাই ব্যস্ত ছবি তোলা আর মুহূর্ত বন্দি করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এই লাল-সবুজের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষ্ণচূড়ার এই সৌন্দর্য শুধু চোখের প্রশান্তিই দেয় না, বরং মনে তৈরি করে এক ধরনের আবেগও। শেখ নজরুল ইসলাম বাবু নামে এক বাসিন্দা বলে
ঋতুর পালাবদলে বসন্ত বিদায় নিয়েছে, তবু প্রকৃতি যেন এখনো রঙ ছড়াতে ভোলেনি। দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুটেছে আগুনরাঙা ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল রঙের এই মিতালি তৈরি করেছে এক মায়াবী দৃশ্য— যেন প্রকৃতি নিজেই বিছিয়ে দিয়েছে লাল গালিচা।
বাংলাদেশ হ্যাচারি এলাকা থেকে ফেরিঘাট বাইপাস সড়ক পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে এই দৃশ্য এখন পথচারী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। মাথার উপর ফুলে ভরা ডালপালা, আর নিচে ঝরে পড়া পাপড়ির স্তর— সব মিলিয়ে পুরো সড়ক যেন এক জীবন্ত চিত্রকর্ম।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজন ভিড় করছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে— সবাই ব্যস্ত ছবি তোলা আর মুহূর্ত বন্দি করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এই লাল-সবুজের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষ্ণচূড়ার এই সৌন্দর্য শুধু চোখের প্রশান্তিই দেয় না, বরং মনে তৈরি করে এক ধরনের আবেগও।
শেখ নজরুল ইসলাম বাবু নামে এক বাসিন্দা বলেন, ফাল্গুন-চৈত্র এলেই শিমুল, পলাশের কথা মনে পড়ে। আর বৈশাখ মানেই কৃষ্ণচূড়া। এই গাছ প্রকৃতিকে এমনভাবে সাজায়, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমাদের উচিত প্রতিটি খালি জায়গায় অন্তত একটি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো।
তিনি বাউল গানের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রকৃতির রঙ মানুষের মনকে যেমন রাঙায়, তেমনি এই গাছগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
রজব নামের এক যুবক বলেন, এই গরমের মধ্যে লাল-সবুজের এই দৃশ্যটা মানুষকে আলাদা একটা শান্তি দেয়। আমি মনে করি দেশের প্রতিটি মহাসড়কের পাশে যদি এভাবে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হয় তাহলে যাত্রাপথটাই হয়ে উঠবে উপভোগ্য।
বশির সর্দার নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি কৃষ্ণচূড়া গাছের নামকরণ সম্পর্কে বলেন, কৃষ্ণচূড়া নামের ভেতরেই একটা গভীরতা আছে। যেমন কৃষ্ণ নিজের সৌন্দর্য লুকিয়ে রাখতেন, তেমনি এই গাছও সারা বছর নিজের রূপ লুকিয়ে রাখে। কিন্তু ফুল ফুটলেই তার প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়। তার মতে, এই গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দেয়।
তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেও রয়েছে কিছু বাস্তব সমস্যা। মহাসড়কের পাশে হওয়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বসার জায়গা, পার্কিং সুবিধা কিংবা নির্দিষ্ট দর্শন স্পট না থাকায় অনেকেই ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, এই জায়গাটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে এটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথি দাস বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমিও নিজে এই সৌন্দর্য লক্ষ্য করেছি। তবে এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এলাকা হওয়ায় কোনো উন্নয়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজবাড়ী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুমারেশ বিশ্বাস জানান, এই সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ ইতোমধ্যেই সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। আমরা আরও পরিকল্পনা নিয়েছি—ডিভাইডারে সোনালু, জারুলসহ বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পুরো সড়ককে নান্দনিক করে তোলা হবে।
What's Your Reaction?