রামিসা হত্যাকাণ্ডে পল্লবী থানা ঘেরাও নিয়ে কী জানা গেল

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে পল্লবী থানা ঘেরাও করেছেন এলাকাবাসী ও তার সহপাঠীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশু রামিসার সহপাঠি ছাড়াও এলাকাবাসীরা পল্লবী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে করতে থানার ভেতরে ঢুকে পড়েন তারা। ওই সময় রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগারে না রেখে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে তার ফাঁসির দাবি জানান তারা। এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে বক্তব্যকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান বক্তারা। ‎অন্যদিকে নৃশংস এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর বাইরেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের মানুষ। এর মধ্যে নোয়াখালীতে বর্বরোচিত এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ

রামিসা হত্যাকাণ্ডে পল্লবী থানা ঘেরাও নিয়ে কী জানা গেল
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে পল্লবী থানা ঘেরাও করেছেন এলাকাবাসী ও তার সহপাঠীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশু রামিসার সহপাঠি ছাড়াও এলাকাবাসীরা পল্লবী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে করতে থানার ভেতরে ঢুকে পড়েন তারা। ওই সময় রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগারে না রেখে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে তার ফাঁসির দাবি জানান তারা। এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে বক্তব্যকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান বক্তারা। ‎অন্যদিকে নৃশংস এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর বাইরেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের মানুষ। এর মধ্যে নোয়াখালীতে বর্বরোচিত এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও শিশু রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠনের ব্যানারেও ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যেই তার মা রামিসার খোঁজে তাদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। ওই সময় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে শরীর থেকে আলাদা করেন। সেই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। একই সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী একই রুমে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল আদালতকে জানায়, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। এছাড়া ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তার কোনো পূর্ব-শত্রুতা ছিল না বলেও আদালতকে জানায় সোহেল। এর আগে বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দু’টি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। পরবর্তীতে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েকজন তাকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সোহেল রানাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এছাড়া অপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow