রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ছেলে, মায়ের আহাজারিতে ভারী পুরো এলাকা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারানো ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার যুবক আ. রহিমের মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে তার বাড়িতে। বড় ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা রমিছা খাতুন। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের পরিবেশ। নিহত রহিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার পুটিজানা ইউনিয়নের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি ২০১১ সালে এইচএসসি পাস করার পর জীবিকার সন্ধানে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। সেখানে টানা সাত বছর কর্মজীবন কাটানোর পর প্রায় দুই বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দালালের মাধ্যমে পাঁচলাখ টাকার বিনিময়ে রাশিয়া যান রহিম। সেখানে ভালো চাকরী পাওয়ার আশায় বাড়ী থেকে আরও তিন লাখ টাকা নেন। পরিবারের সদস্যরা ধারণা, তিনি রাশিয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। কিন্তু পরে জানা যায়, দেড় লাখ টাকা বেতনে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিয়ে সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন।  গত ৭ এপ্রিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন আ. রহিম। একমাস হতে না হতেই ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হন ত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ছেলে, মায়ের আহাজারিতে ভারী পুরো এলাকা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারানো ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার যুবক আ. রহিমের মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে তার বাড়িতে।

বড় ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা রমিছা খাতুন। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের পরিবেশ।

নিহত রহিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার পুটিজানা ইউনিয়নের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি ২০১১ সালে এইচএসসি পাস করার পর জীবিকার সন্ধানে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। সেখানে টানা সাত বছর কর্মজীবন কাটানোর পর প্রায় দুই বছর আগে দেশে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দালালের মাধ্যমে পাঁচলাখ টাকার বিনিময়ে রাশিয়া যান রহিম। সেখানে ভালো চাকরী পাওয়ার আশায় বাড়ী থেকে আরও তিন লাখ টাকা নেন। পরিবারের সদস্যরা ধারণা, তিনি রাশিয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। কিন্তু পরে জানা যায়, দেড় লাখ টাকা বেতনে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিয়ে সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। 

গত ৭ এপ্রিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন আ. রহিম। একমাস হতে না হতেই ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হন তিনি। ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। 

রোববার (১০ মে) রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানান। লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে শুরু হয় কান্নার রোল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ফুলবাড়িয়ার যুবক আ. রহিমের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন তার মা রমিছা খাতুন। ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বারবার আহাজারি করছেন তিনি। তার কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। 

ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বিলাপ করতে করতে মা বলেন, ‘আমার ছেলেটা সংসারের সুখের জন্য বিদেশে গেছিল। বলছিল ভালো চাকরি করছে। এখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচব? আমার বুকটাই খালি হয়ে গেল।’

রহিমের মেজো ভাই রাজ্জাক বলেন, রহিম গত বছরের অক্টোবরে একটি কোম্পানির কাজের উদ্দেশে রাশিয়ায় যান। তবে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে রহিমের শেষ কথা হয়। ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে মেসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গিয়েছিল।

নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন,‘সে যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুধু ছেলের লাশটাই দেখতে চাই।’

রহিমের বাড়িতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের ভিড় দেখা গেছে। সবাই পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, অভাবের তাড়নায় বিদেশে গিয়ে যুদ্ধের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ছে তরুণরা, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আফরোজা আক্তার রেখা বলেন,‘খবরটি খুবই মর্মান্তিক। পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। আমরা তাদের পাশে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

এদিকে বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের বলি হওয়া এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন- জীবিকার সন্ধানে যাওয়া একটি তরতাজা প্রাণ কেন যুদ্ধের নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো?

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘নিহত রহিমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ঘটনার বিস্তারিত জেনেছি। দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া শোকাহত পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান মিলন বলেন, আজই মৃত্যুর খবর পেলাম। আমি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়েছি লাশ আনার বিষয়ে। এ জন্য পরিবারকে লিখিত আবেদন করতে বলেছি। যেহেতু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করতে বলব। আর আমাদের পক্ষ থেকেও যতদূর করা যায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ইনশাল্লাহ। এবং লাশ যত দ্রুত সম্ভব আমরা নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করব।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow