রূপপুরে ব্যয় বাড়ছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা, বিদ্যুৎ সরবরাহ মার্চে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে নতুন করে প্রায় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে। তবে এতে সরকারের অংশ থেকে সাশ্রয় হতে যাচ্ছে ১৬৬ কোটি টাকা। এখান থেকে চলতি বছরের মার্চে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পের এ প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার এসব তথ্য জানান। একনেকের সভায় রোববার মোট ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে সভাটি হয়। এতে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সচিব শাকিল আখতার বলেন, ‘একনেক সভা থেকে আজ যতটুকু তথ্য জানতে পেরেছি তাতে দেখেছি ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মার্চ মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।’ ২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। মূল

রূপপুরে ব্যয় বাড়ছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা, বিদ্যুৎ সরবরাহ মার্চে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে নতুন করে প্রায় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে। তবে এতে সরকারের অংশ থেকে সাশ্রয় হতে যাচ্ছে ১৬৬ কোটি টাকা। এখান থেকে চলতি বছরের মার্চে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পের এ প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার এসব তথ্য জানান।

একনেকের সভায় রোববার মোট ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে সভাটি হয়। এতে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব শাকিল আখতার বলেন, ‘একনেক সভা থেকে আজ যতটুকু তথ্য জানতে পেরেছি তাতে দেখেছি ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মার্চ মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।’

২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নেওয়া হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। এর মধ্যে ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় কাজ আরও বিলম্বিত হয়। সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের ফলে এখন শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। 

মূল ডিপিপিতে ব্যয় ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই মিলবে প্রকল্প ঋণ থেকে। তবে মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও মূল প্রকল্পের তুলনায় প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধনীতে সরকারের খাতের ব্যয় ১৬৬ কোটি টাকা বা ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত হবে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে মানসম্মত, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘রূপপুর প্রকল্পের জমি কেনা হয়েছিল ১৯৬১ সালে। এরপর ২০১০ সালে কাজ শুরু হলো প্রকল্পের। প্রকল্পের জমি খালি করতে আমাদের লাগছে ২৭ কোটি টাকা। প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে আমাদের সরকারি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান জেএসসি এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ জনবলের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ায় যন্ত্রপাতি পেতে বিঘ্ন ঘটেছে। এর আগে করোনার কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ জনবল যথাসময়ে নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে মার্কিন ডলার ও টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনের ফলে গৃহীত ঋণের (চুক্তি মূল্যের ৯০ শতাংশ) বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাস্তবতার নিরিখে অনুমোদিত ডিপিপির কিছু অংশে বরাদ্দ হ্রাস-বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘কোভিডের কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ থেমে ছিল। রাশিয়ায় ঋণ পরিশোধেও সময় লাগবে। টাকার হিসেবে কিছু ব্যয় বেড়েছে, তবে ডলারে বাড়েনি। একটা বালিশকাণ্ড হয়েছিল প্রকল্পের আওতায়। সে জন্য সবকিছু যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডলারের হিসেবে খুব বেশি ব্যয় বাড়েনি। কিন্তু টাকার অঙ্কে দেখলে অনেক বেশি বৃদ্ধি মনে হয়।’

এমওএস/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow