রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান আইওএম’র বৈশ্বিক শুভেচ্ছা দূতের

কক্সবাজারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সহায়তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইওএম-এর বৈশ্বিক শুভেচ্ছা দূত দিমাশ কুদাইবার্গেন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে দুই দিনের সফর শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।  সোমবার (১৮ মে) থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যন্ত সফরকালে দিমাশ রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবার, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মানবিক সহায়তাদাবকারী কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও মানবিক অংশীদারদের পাশাপাশি জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএমের চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন। দিমাশ কুদাইবার্গেন বলেন, বিশ্ব যেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক চাহিদার কথা ভুলে না যায়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে সহনশীলতা, আশা ও টিকে থাকার একটি গল্প। আমি যাদের সঙ্গে দেখা করেছি, তাদের শক্তি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। মানব মর্যাদা রক্ষায় প্রতিদিন কাজ করে যাওয়া কমিউনিটি ও মানবিক কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারের

রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান আইওএম’র বৈশ্বিক শুভেচ্ছা দূতের
কক্সবাজারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সহায়তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইওএম-এর বৈশ্বিক শুভেচ্ছা দূত দিমাশ কুদাইবার্গেন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে দুই দিনের সফর শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।  সোমবার (১৮ মে) থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যন্ত সফরকালে দিমাশ রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবার, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মানবিক সহায়তাদাবকারী কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও মানবিক অংশীদারদের পাশাপাশি জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএমের চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন। দিমাশ কুদাইবার্গেন বলেন, বিশ্ব যেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক চাহিদার কথা ভুলে না যায়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে সহনশীলতা, আশা ও টিকে থাকার একটি গল্প। আমি যাদের সঙ্গে দেখা করেছি, তাদের শক্তি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। মানব মর্যাদা রক্ষায় প্রতিদিন কাজ করে যাওয়া কমিউনিটি ও মানবিক কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছেন। তাদের অনেকেই পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য ত্রাণ-তহবিল ঘাটতির কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সেবাগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। টেকসই আন্তর্জাতিক সংহতির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে দিমাশ আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন সেবা, সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ অব্যাহত মানবিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করে চলা বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদারতা ও সহনশীলতারও প্রশংসা করেন। সফরের সময় দিমাশ আইওএমের বহুমুখী কার্যক্রম সম্পর্কে জানার জন্য বিভিন্ন শিবির পরিদর্শন করেন। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির মধ্যে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা ঝুঁকি কমানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী শরণার্থী, কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক এবং মানবিক কর্মীদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন। রোহিঙ্গা কালচারাল মেমোরি সেন্টারে দিমাশ শিল্প ও গল্প বলার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা জোরদার এবং সামষ্টিক পরিচয় সংরক্ষণে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলোর সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি আরও দেখেন কীভাবে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদান ব্যবস্থা পরিবারগুলোকে নিরাপদে সহায়তা পেতে সাহায্য করছে, যার মধ্যে অগ্নিকাণ্ড, বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের জন্য জরুরি প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থাও রয়েছে। আইওএম-এর পরিচ্ছন্ন জ্বালানি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করছে, আর আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা চরম আবহাওয়ার সময় নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দিমাশ জানতে পারেন কীভাবে বহির্বিভাগীয় সেবা, টিকাদান এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাসহ জরুরি সেবাগুলো সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। মানবিক চাহিদা এখনো অত্যন্ত বেশি এবং তহবিল ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সাড়াদান কার্যক্রমে সহায়তা বজায় রাখা ও সম্প্রসারণের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী পিছিয়ে না পড়ে। বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দিমাশ তার বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানবিক বার্তা তুলে ধরেন এবং সহমর্মিতা ও কার্যকর পদক্ষেপে উৎসাহিত করেন। তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সংকট ও বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow