লেভিস স্টেডিয়াম: প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব বিশ্বকাপের নতুন ঠিকানা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অবস্থিত লেভিস স্টেডিয়াম বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও বহুমুখী খেলাধুলার ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার সান হোসের পশ্চিমে অবস্থিত এই স্টেডিয়াম ২০১৪ সাল থেকে এনএফএলের জনপ্রিয় দল সান ফ্রান্সিসকো ৪৯এয়ার্সের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেভি স্ট্রস অ্যান্ড কোম্পানির নামে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি নামকরণের স্বত্ব কিনে নেয়। নির্মাণের ইতিহাস নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৬ সালে। প্রথমে ৪৯এয়ার্স কর্তৃপক্ষ সান ফ্রান্সিসকোর ক্যান্ডেলস্টিক পয়েন্টে নতুন স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করে। সেখানে শপিং কমপ্লেক্স ও আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পও ছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর সান ফ্রান্সিসকো সিটির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় দলটি সান্তা ক্লারায় নিজেদের প্রশাসনিক কার্যালয় ও ট্রেনিং সুবিধার পাশের জায়গাকে বেছে নেয়। ২০১০ সালের জুনে সান্তা ক্লারার ভোটাররা করমুক্ত ‘সান্তা ক্লারা স্টেডিয়াম অথরিটি’ গঠনের পক্ষে ভোট দেন, যার মাধ্যমে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অবস্থিত লেভিস স্টেডিয়াম বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও বহুমুখী খেলাধুলার ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার সান হোসের পশ্চিমে অবস্থিত এই স্টেডিয়াম ২০১৪ সাল থেকে এনএফএলের জনপ্রিয় দল সান ফ্রান্সিসকো ৪৯এয়ার্সের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেভি স্ট্রস অ্যান্ড কোম্পানির নামে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি নামকরণের স্বত্ব কিনে নেয়।
নির্মাণের ইতিহাস
নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৬ সালে। প্রথমে ৪৯এয়ার্স কর্তৃপক্ষ সান ফ্রান্সিসকোর ক্যান্ডেলস্টিক পয়েন্টে নতুন স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করে। সেখানে শপিং কমপ্লেক্স ও আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পও ছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর সান ফ্রান্সিসকো সিটির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় দলটি সান্তা ক্লারায় নিজেদের প্রশাসনিক কার্যালয় ও ট্রেনিং সুবিধার পাশের জায়গাকে বেছে নেয়।
২০১০ সালের জুনে সান্তা ক্লারার ভোটাররা করমুক্ত ‘সান্তা ক্লারা স্টেডিয়াম অথরিটি’ গঠনের পক্ষে ভোট দেন, যার মাধ্যমে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও মালিকানা নিশ্চিত হয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নির্মাণ ঋণ নিশ্চিত হওয়ার পর ২০১২ সালের এপ্রিলে কাজ শুরু হয়। অবশেষে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় লেভিস স্টেডিয়াম।
আধুনিক নকশা ও ধারণক্ষমতা
বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এইচএনটিবি স্টেডিয়ামটির নকশা তৈরি করে। এতে বহুমুখী ব্যবহার, দর্শক অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্টেডিয়ামটির মূল ধারণক্ষমতা ৬৮ হাজার ৫০০। তবে সুপার বোল, রেসলম্যানিয়া কিংবা ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনের জন্য এটি প্রায় ৭৫ হাজার দর্শক ধারণ করতে পারে। বিশেষ কনসার্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ২০১৫ সালে গ্রেটফুল ডেড ফেয়ার থি ওয়েল ট্যুর-এ আসন সংখ্যা ৮৩ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। আর একদিনে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়েন সংগীতশিল্পী এড শিরান; ২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তার কনসার্টে প্রায় ৮০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
স্টেডিয়ামের নকশায় দর্শকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে নিচের বাউলে বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা এনএফএলের সবচেয়ে বড় লোয়ার বাউলগুলোর একটি। প্রতিবন্ধী দর্শকদের জন্যও উন্নত সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। বিলাসবহুল স্যুট ও প্রিমিয়াম আসনের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে দর্শকরা খেলার আরও কাছাকাছি থাকতে পারেন।
বহুমুখী ব্যবহার
লেভিস স্টেডিয়াম শুধু এনএফএল নয়, বিভিন্ন বড় ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক আয়োজনের জন্যও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে আয়োজিত হয়েছে—
* রেসলম্যানিয়া ৩১ (২০১৫)
* সুপার বোল ৫০ (২০১৬)
* সুপার বোল এলএক্স (২০২৬)
* ২০১৯ কলেজ ফুটবল প্লে-অফ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ
* প্যাক-১২ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ গেম (২০১৪-২০১৯)
এছাড়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফার কর্পোরেট নীতিমালা অনুযায়ী স্টেডিয়ামটির অস্থায়ী নাম হবে ‘সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম’।
বিশ্বকাপে এখানে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং একটি রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অনন্য উদাহরণ
লেভিস স্টেডিয়ামকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব স্টেডিয়ামগুলোর একটি ধরা হয়। এটি লিড গোল সার্টিফিকেট অর্জন করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পেশাদার ফুটবল স্টেডিয়াম।
স্টেডিয়ামে রয়েছে—
* সবুজ ছাদ (গ্রিস রুফ)
* সোলার প্যানেল
* পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহার
* শক্তি সাশ্রয়ী আলো
* উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা
* নির্মাণ বর্জ্যের ৭৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহার
স্টেডিয়ামের ছাদে তৈরি করা হয়েছে “ফেইথফুল ফার্ম” নামে একটি জৈব কৃষিখামার। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে টমেটো, মরিচ, শাকসবজি, ভোজ্য ফুলসহ প্রায় ৪০ ধরনের ফসল উৎপাদন করা হয়। এগুলো স্টেডিয়ামের খাবারে ব্যবহার করা হয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা
স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর জন্য উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। দর্শকরা ভিটিএ লাইট রেইল, অ্যামট্র্যাক, এসিই ট্রেন ও বিশেষ শাটল বাস ব্যবহার করতে পারেন। গ্রেট আমেরিকা স্টেশন স্টেডিয়ামের সবচেয়ে কাছের স্টেশন। এছাড়া হাঁটা ও সাইকেল ব্যবহারের জন্য সান থমাস অ্যাকুইনো ট্রেইল সংযুক্ত রয়েছে, যা প্রায় ১০০ মাইল দীর্ঘ অফ-স্ট্রিট পথের অংশ।
সমালোচনা ও বিতর্ক
সব প্রশংসার মাঝেও লেভিস স্টেডিয়াম সমালোচনার মুখে পড়েছে নানা কারণে।
গরম আবহাওয়া: স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশের আসনগুলো সরাসরি রোদের নিচে থাকায় গরমের দিনে দর্শকদের ভোগান্তি হয়। বেশ কয়েকজন দর্শক হিট এক্সহস্টশনে আক্রান্তও হয়েছেন।
মাঠের টার্ফ সমস্যা: ২০১৫ সালে মাঠের ঘাস ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা ঘটে। সুপার বোলের পরও কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠের মান নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন।
অতিরিক্ত কর্পোরেট পরিবেশ: অনেক পুরোনো সমর্থকের মতে, ক্যান্ডেলস্টিক পার্কের মতো ফুটবল সংস্কৃতি এখানে নেই। বিলাসবহুল লাউঞ্জ ও বারের কারণে অনেক দর্শক খেলার চেয়ে বিনোদনেই বেশি সময় কাটান।
বিমান চলাচলে সমস্যা: সান হোসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইটপথে হওয়ায় স্টেডিয়ামের আলো নিয়ে পাইলটদের অভিযোগও রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে ১৬টি স্টেডিয়ামে খেলা হবে। এর মধ্যে লেভিস স্টেডিয়াম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু। ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নির্বাচিত দুটি স্টেডিয়ামের একটি এটি; অন্যটি লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম।
বিশ্বকাপ ছাড়াও ভবিষ্যতে ২০৩১ ও ২০৩৩ রাগবি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও বিবেচনায় রয়েছে লেভিস স্টেডিয়াম।
করোনাকালে মানবিক ভূমিকা
২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় লেভিস স্টেডিয়ামকে গণটিকাদান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম নিজে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রযুক্তি, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের মেলবন্ধন
প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, আধুনিক দর্শকসুবিধা এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে লেভিস স্টেডিয়াম এখন শুধু একটি ফুটবল ভেন্যু নয়; এটি আধুনিক ক্রীড়া স্থাপত্যের প্রতীক। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই স্টেডিয়াম আবারও বৈশ্বিক ফুটবল মঞ্চের কেন্দ্রে উঠে আসতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপে লেভিস স্টেডিয়ামের সূচি
(বি.দ্র: বাংলাদেশ সময়সূচি অনুযায়ী)
গ্রুপ পর্ব
১৬ জুন, অস্ট্রিয়া-জর্ডান, সকাল ১০ টা (১৭ জুন)
১৩ জুন, কাতার-সুইজারল্যান্ড, রাত ১টা (১৪ জুন)
১৯ জুন, তুরস্ক-প্যারাগুয়ে, সকাল ১০টা (২০ জুন
২২ জুন, জর্ডান-আলজেরিয়া, সকাল ৯টা (২৩ জুন)
২৫ জুন, প্যারাগুয়ে-অস্ট্রেলিয়া, সকাল ৮টা (২৬ জুন)
নকআউট পর্ব (শেষ ৩২)
১ জুলাই, ম্যাচ-১০, সকাল ৬টা (২ জুলাই)
আইএইচএস/
What's Your Reaction?