লোডশেডিংয়ে নাকাল মুক্তাগাছা, অন্ধকারে এসএসসি প্রস্তুতি
বৈশাখের তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বেড়েছে লোডশেডিং। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দিনের গরমের পর রাতের পড়াশোনার সময় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে তাদের প্রস্তুতি, বাড়ছে দুশ্চিন্তা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৭৫ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহের ঘাটতির কারণে ৩৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালপুরের ইউনাইটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল সংকটে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্যাসচালিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দিতে পারছে না। উপজেলার শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই একই চিত্র। কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। দুল্লা, বড়গ্রাম ও খেরুয়াজানী ইউনিয়নে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত, যখন পড়াশোনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, তখন একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাও
বৈশাখের তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বেড়েছে লোডশেডিং। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দিনের গরমের পর রাতের পড়াশোনার সময় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে তাদের প্রস্তুতি, বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৭৫ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহের ঘাটতির কারণে ৩৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালপুরের ইউনাইটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল সংকটে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্যাসচালিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দিতে পারছে না।
উপজেলার শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই একই চিত্র। কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। দুল্লা, বড়গ্রাম ও খেরুয়াজানী ইউনিয়নে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত, যখন পড়াশোনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, তখন একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানায়, ‘সারাদিন গরমের মধ্যে থাকতে হয়, তার ওপর রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হয়, কিন্তু ঠিকমতো মনোযোগ দেওয়া যায় না।’
আরেক পরীক্ষার্থী রাকিব হাসান বলে, ‘পরীক্ষার আগে এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছি না।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘এভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। অন্তত পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা জরুরি।’
মুক্তাগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোহাম্মদ জোনাব আলী বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণচন্দ্র বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যাটি জাতীয় পর্যায়ের হলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা চলছে।’
প্রসঙ্গত, মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় কষ্ট করে পড়াশোনা করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছে মুক্তাগাছার হাজারো শিক্ষার্থী। তাদের একটাই প্রত্যাশা- এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অন্তত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে অন্ধকার নয়, আলোর পথেই এগিয়ে যেতে পারে তাদের স্বপ্ন।
What's Your Reaction?