শহীদ মিনার নেই মাগুরার অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে
রাহ পোহালেই ২১শে ফেব্রুয়ারি। একুশের প্রথম প্রহরে বর্ণমালায় সাজানো হবে বেদী, গাওয়া হবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। কিন্তু মাগুরার অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য এই দৃশ্যটি কেবলই কল্পনার। জেলায় পাঁচশো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি স্কুলে নেই কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোমলমতি শিশুদের শেষ ভরসা এখন কলাগাছ। মাগুরা সদরের ১৮খাদা ইউনিয়নের আড়াইশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট প্রাঙ্গণ যেন বিকেলের কোমল আলোয় এক টুকরো একুশে ফেব্রুয়ারি। অথচ সেখানে নেই কোনো স্থায়ী পাকা শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোমল হাতে কলাগাছ, পাটকাঠি, রঙিন কাগজ, সুতা আর দেবদারু পাতা জুড়ে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলছে এক প্রতীকী শহীদ মিনার। বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রাতুল ও পৃথাসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী গভীর মনোযোগে তৈরি করছে মিনারের কাঠামো ও একটি ছোট গেট। কারও হাতে কাঁচি, কারও হাতে কাগজ; কেউ বাঁধছে সুতা, কেউ সাজাচ্ছে সবুজ পাতা। তাদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস। সাজ সাজ রবের মধ্যেই ফুটে উঠছে ভাষার প্রতি ভালোবাসা। শিশুমনে হয়তো শহীদ
রাহ পোহালেই ২১শে ফেব্রুয়ারি। একুশের প্রথম প্রহরে বর্ণমালায় সাজানো হবে বেদী, গাওয়া হবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। কিন্তু মাগুরার অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য এই দৃশ্যটি কেবলই কল্পনার। জেলায় পাঁচশো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি স্কুলে নেই কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোমলমতি শিশুদের শেষ ভরসা এখন কলাগাছ।
মাগুরা সদরের ১৮খাদা ইউনিয়নের আড়াইশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট প্রাঙ্গণ যেন বিকেলের কোমল আলোয় এক টুকরো একুশে ফেব্রুয়ারি। অথচ সেখানে নেই কোনো স্থায়ী পাকা শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোমল হাতে কলাগাছ, পাটকাঠি, রঙিন কাগজ, সুতা আর দেবদারু পাতা জুড়ে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলছে এক প্রতীকী শহীদ মিনার।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রাতুল ও পৃথাসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী গভীর মনোযোগে তৈরি করছে মিনারের কাঠামো ও একটি ছোট গেট। কারও হাতে কাঁচি, কারও হাতে কাগজ; কেউ বাঁধছে সুতা, কেউ সাজাচ্ছে সবুজ পাতা। তাদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস। সাজ সাজ রবের মধ্যেই ফুটে উঠছে ভাষার প্রতি ভালোবাসা। শিশুমনে হয়তো শহীদ মিনারের স্থাপত্যের গভীরতা নেই, কিন্তু আছে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর দেশপ্রেমের নির্মল আবেগ।
শিশুদের আনন্দের আড়ালে রয়েছে বেদনার সুর। বিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী পাকা শহীদ মিনার না থাকায় প্রতিবছরই এভাবেই অস্থায়ী উপায়ে আয়োজন করতে হয়। শিশুদের সরল দাবি, “আমাদের স্কুলেও একটি পাকা শহীদ মিনার চাই।” তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত এই আবেদন যেন সমগ্র এলাকার প্রত্যাশা।
জানা যায়, মাগুরার পাঁচ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেকেই নেই নিজস্ব শহীদ মিনার। ফলে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক ও মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বহু শিক্ষার্থী। বাঙালির আত্মপরিচয়ের সূতিকাগার সেই ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে শিকড়ে পৌঁছে দিতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই প্রয়োজন উপযুক্ত অবকাঠামো।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করুক। কারণ আজকের এই শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের হৃদয়ে ভাষা ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতীকগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়াই সময়ের দাবি।
মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান বলেন, আমি এই প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে আগামীতে প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
What's Your Reaction?