শিক্ষক প্রতিনিধি ছাড়াই চবির সিনেট অধিবেশন, ৭২৭ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব
প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ফলে জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া আট শিক্ষকসহ আওয়ামীপন্থি ২৪ শিক্ষক প্রতিনিধি অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ২৩ সদস্য অধিবেশন প্রত্যাখ্যান করে এতে অংশ নেননি। অধিবেশনে ৭২৭ কোটি টাকার দুটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে শুরু হওয়া অধিবেশনটি বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়। জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া আট শিক্ষকসহ আওয়ামীপন্থি ২৪ শিক্ষক প্রতিনিধি অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেনি। জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড. মো. দানেশ মিয়া বলেন, আমরা সবাই এসেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তাই সিনেটে ঢুকতে পারিনি। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শনিবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ভয়েস অব স্টুডেন্টস ও ছাত্রদলের নে
প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ফলে জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া আট শিক্ষকসহ আওয়ামীপন্থি ২৪ শিক্ষক প্রতিনিধি অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ২৩ সদস্য অধিবেশন প্রত্যাখ্যান করে এতে অংশ নেননি। অধিবেশনে ৭২৭ কোটি টাকার দুটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে শুরু হওয়া অধিবেশনটি বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়। জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া আট শিক্ষকসহ আওয়ামীপন্থি ২৪ শিক্ষক প্রতিনিধি অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড. মো. দানেশ মিয়া বলেন, আমরা সবাই এসেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তাই সিনেটে ঢুকতে পারিনি।
অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শনিবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ভয়েস অব স্টুডেন্টস ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে সংবাদ সম্মেলন করে চাকসুর ২৩ সদস্য সিনেট অধিবেশন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন এবং বিভিন্ন হল সংসদ ভিপি, জিএস প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে উপাচার্যের কাছে ১৯ দফা দাবি সংবলিত একটি খোলা চিঠি দেন তারা।
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত আট শিক্ষক সিনেটে থাকবেন এমন খবরে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। পরে উপাচার্য আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তারা অধিবেশনে থাকবেন না।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আমরা শুধু আটজন শিক্ষককে নিয়ে কথা বলছি না। শিক্ষার্থী নির্যাতন, হত্যার মদদ এবং শেখ হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতায় জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে আমরা ১৯টি দাবি জানিয়েছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, শিক্ষকদের না আসার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সম্ভবত তারা পরিস্থিতি দেখে অনেকে এসেও চলে গিয়েছিলেন। সিনেটের সদস্যরা আসবেন কি না, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কেন তারা আসেননি, সেটিও তাঁদের বিষয়। তবে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল না। পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দল ৩৩টি পদেই জয়ী হয়। বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এরপর আর শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে নির্বাচিত ৩৩ প্রতিনিধির মধ্যে ২৪ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।
৭২৭ কোটি টাকার দুটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে দুটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে টিচার-স্টুডেন্টস কমপ্লেক্স (TSC) প্রতিষ্ঠার একটি প্রকল্প এবং ৬৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির আরেকটি প্রকল্প রয়েছে। দুটি প্রকল্পের ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বড় প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা ছাত্রী হল, তিনটি একাডেমিক ভবন, ৩টি গবেষণা কমপ্লেক্স, সিনেট ভবন, দ্বিতীয় প্রশাসনিক অ্যানেক্স, পানি শোধনাগার, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া পুরোনো ভবন সংস্কারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য আরও প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ১০টি আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, ব্লু-ইকোনমি রিসার্চ সেন্টার, কেন্দ্রীয় জাদুঘর, দ্বিতীয় গ্রন্থাগার ভবন, স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, গবেষণাগার, ৫০ শয্যার হাসপাতাল, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিক্ষকদের ডরমেটরি, ওয়াকওয়ে ও ফুড কোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও, ২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বমোট বাজেট ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোট বেতন বাবদ ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গবেষণা খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি, সেটা ইউজিসির বরাদ্দের অধীনে রেখে দেওয়া হয়েছে। গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় চাহিদা ছিল ২৬৮ কোটি টাকা।
What's Your Reaction?