শিল্পকলার সম্মাননায় আবেগাপ্লুত সৈয়দ আব্দুল হাদী
শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুক্রবার (১২ জুন) বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়েছে একুশে পদক পাওয়া সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে। 'কালজয়ী কণ্ঠ : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী' শিরোনামের এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সৈয়দ আব্দুল হাদীর জীবন, কর্ম ও অবদানের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে সম্মাননা জানানো হয় হাদীকে। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক। সম্মাননা গ্রহণ করে নিজের মনের কথা তুলে ধরেন হাদী। সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে হাদী বলেন, 'আমি কিছুটা বিব্রতও হয়েছি। এই জন্য যে আমি এতটা যোগ্য নই। আমার প্রতি আপনারা যে প্রশংসা বাক্য উচ্চারণ করলেন, আমি তার প্রতিদানে কী দিই? আমার তো দেওয়ার তেমন কিছু নেই।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা যেন আমাদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। সবাই যেন দেশটাকে ভালোবাসি।' আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং জাহেদ উর রহমান। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আহ্বায়ক হেলাল খা
শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুক্রবার (১২ জুন) বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়েছে একুশে পদক পাওয়া সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে। 'কালজয়ী কণ্ঠ : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী' শিরোনামের এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সৈয়দ আব্দুল হাদীর জীবন, কর্ম ও অবদানের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে সম্মাননা জানানো হয় হাদীকে। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক। সম্মাননা গ্রহণ করে নিজের মনের কথা তুলে ধরেন হাদী।
সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে হাদী বলেন, 'আমি কিছুটা বিব্রতও হয়েছি। এই জন্য যে আমি এতটা যোগ্য নই। আমার প্রতি আপনারা যে প্রশংসা বাক্য উচ্চারণ করলেন, আমি তার প্রতিদানে কী দিই? আমার তো দেওয়ার তেমন কিছু নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা যেন আমাদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। সবাই যেন দেশটাকে ভালোবাসি।'
আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং জাহেদ উর রহমান। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আহ্বায়ক হেলাল খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব কানিজ মওলা।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন 'আমাদের সংগীতের জগতকে তিনি এমনভাবে সমৃদ্ধ করেছেন যে বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। যে গান গাইলো তার গানটা কতটা ভালো হলো, সে গানটা সৈয়দ আব্দুল হাদীর মত হলো কিনা বা তার কাছাকাছি গেল কিনা সেভাবেই কিন্তু একজন তরুণ শিল্পীকে মুল্যায়ন করা হয়। এমন কোনো সংগীত পিপাসু মানুষ নেই যে একবার হলেও অন্তত তার কণ্ঠে গেয়ে উঠেনি সৈদয় আব্দুল হাদীর গাওয়া কোনো গান। এটাই হচ্ছে তার কৃতিত্ব।'
আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, 'বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও যেন যত্ন নেই, আধুনিক পরিকল্পনা নেই। সেখান থেকে সংস্কৃতিকে তুলে আনতে আমরা সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল থেকে শুরু করে সমস্ত অঙ্গনকে একসাথে এগিয়ে নিতে চাই।'
প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম হাদীকে গান গাওয়ার অনুরোধ করলে এই সংগীতশিল্পী বলেন, 'যদি এখনো গাইতাম, তাহলে একটি গান গেয়েই হয়ত এর প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আমি তো গান ছেড়ে দিয়েছি, অনেক দিন গাই না। আমি সবাইকে অকৃত্রিম ভালোবাসা উপহার দিলাম।'
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব 'গীতসন্ধ্যায়' ছিল সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গানের পরিবেশনা। এ সময় পরিবেশিত হয় তার দর্শকপ্রিয় গানগুলো। গান গেয়ে শোনান আব্দুল্লাহ হেল রাফি তালুকদার, স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসান, নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, অপু আমান, অপু আমান ও নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, সোহানুর রহমান, স্বরলিপি, রাশেদ, রাকা পপি, আজিজুল বারি (সিপু), মুহাম্মদ আনিসুর রহমান, আতিক।
তারা গেয়েছেন 'বাংলাদেশের ছবি এঁকে দিও', 'তোমাদের সুখের এই নীড়', 'চোখ বুঝিলেই দুনিয়া আঁধার, হায়রে', 'আমার অর্থই একবার যদি কেউ ভালোবাসত', 'এই পৃথিবীর পান্থশালায় গাইতে গেলে গান', 'আমি তোমারই প্রেম ভিখারি', 'এমনও তো প্রেম হয়', 'তুমি ছাড়া আমি একা', 'কি করে বলিবো আমি', 'কেন তারে এত ভালোবাসলাম', 'যেও না সাথি', 'যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে' সহ হাদীর দর্শকপ্রিয় বেশ কিছু গান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর বহুল দর্শকপ্রিয় দুইটি গান 'আছেন আমার মোক্তার' এবং 'সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি'।
ছয় দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে পাঁচবার 'শ্রেষ্ঠ গায়ক' শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। এ ছাড়া ২০০০ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে পান তিনি।
What's Your Reaction?